০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

জিয়াউর রহমানকে গুলি করা ব্যক্তি হিসেবে মতিউরের নাম এসেছে: রাষ্ট্রপক্ষ

“হত্যাকাণ্ডের দুদিন আগে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ হেলিকপ্টারে চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন,” বলেন প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 14 Sep 2026, 12:34 AM

Updated : 17 Sep 2026, 02:59 AM

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে গুলি চালানো ব্যক্তি হিসেবে সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মতিউর রহমানের নাম আসার কথা বলেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা।

জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদে এ নাম আসার কথা বলেন তিনি। 

রোববার ধানমন্ডি ১১ নম্বরে তদন্ত সংস্থার কার্যালয়ে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় মোজাফফরকে।

রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জোহা বলেন, তার সঙ্গে তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তা আহমেদ নাসির উদ্দিন মোহাম্মদসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, “জিজ্ঞাসাবাদে জিয়াউর রহমানকে গুলি করার ব্যক্তি হিসেবে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মতিউর রহমানের নাম বলেন মোজাফফর হোসেন।”

 ‘দুদিন আগে হেলিকপ্টারে চট্টগ্রামে এরশাদ’

জোহা বলেন, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের দুই দিন আগে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রামে এসেছিলেন।

“পরের দিন কেউ মারা গেলে তো ওটা সাদা নকশা থাকে না আরকি। … নীল নকশাই হয়।”

চার প্রশ্ন, কমিশনের তদন্ত ও মঞ্জুরের পরিণতি 

জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে নিহত হন। এর পর ৬ জুন তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়।

কমিশন প্রসঙ্গে জোহা বলেন, জিয়া হত্যাকাণ্ডের পর গঠিত তদন্ত কমিশনের অনুসন্ধানে চারটি প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি। 

“এগুলো হলো—জিয়াকে কে গুলি করেছিলেন, চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের দরজা কেন খোলা ছিল, সাদা গাড়িতে কে প্রবেশ করেছিলেন এবং জিয়ার গানম্যানের হাতে কেন অস্ত্র ছিল না।”

জোহার বলেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনে ষড়যন্ত্র ছিল কিনা, কারা এতে জড়িত ছিল, তাদের উদ্দেশ্য কী এবং কীভাবে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে সহযোগিতা করা হয়েছিল— এসব বিষয় কমিশনের অনুসন্ধানে থাকার কথা ছিল।

পরে ১৩ জুনের সরকারি গেজেটে ষড়যন্ত্র-সংক্রান্ত বিষয়গুলো বাদ দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন। 

কমিশনে ৬৭ জনের সাক্ষ্য দেওয়ার তথ্য তুলে ধরে জোহা বলেন, প্রতিবেদনে মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আবুল মনজুরের নেতৃত্বে সামরিক কর্মকর্তাদের একটি অংশের ক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার কথা এবং সার্কিট হাউসের অভিযানে ১৪ থেকে ১৬ জন সামরিক কর্মকর্তার অংশগ্রহণের কথা বলা হয়।

জিয়া হত্যার সেই রাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে জোহা বলেন, রাত ১০টার দিকে রাষ্ট্রপতির কক্ষের সামনে থাকা দুই পুলিশ সদস্যকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। কক্ষ বরাদ্দের একটি টাইপ করা তালিকা ছিল এবং ওয়্যারলেস ব্যবস্থাও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হয়নি।

রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত স্টাফদের কারও মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে থাকতে পারে বলেও কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে জিয়াউর রহমানের শরীরে প্রায় ২০টি গুলির আঘাতের চিহ্ন থাকার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী বলেন, "কোন অস্ত্র থেকে গুলি করা হয়েছিল, গুলির ক্যালিবার কী ছিল, কোন দিক থেকে এবং কত দূরত্ব থেকে গুলি করা হয়েছিল— এসব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ হয়নি। এগুলো সুরাহা হওয়া জরুরি।"

মেজর জেনারেল মনজুরের আটক ও পরিণতি প্রসঙ্গে  জোহা বলেন, তাকে পুলিশ আটক করার পর ঢাকার নির্দেশে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং এ বিষয়ে লিখিত রসিদও নেওয়া হয়েছিল। এরপর তাকে হাত ও চোখ বাঁধা অবস্থায় একটি গাড়িতে নেওয়া হয়। গাড়িটির চলার পথ পরিবর্তন করা হয় এবং পরে মনজুরকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।