উত্তরখানের সংঘর্ষ ‘ময়লা পরিবহন নিয়ে বিরোধের জেরে’
পোশাক শ্রমিক ও সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মধ্যে এই সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়েছেন।
রাজধানীর উত্তরখানে পোশাক শ্রমিক ও সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের পেছনে রয়েছে বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র (এসটিএস) থেকে ময়লা পরিবহন নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ।
রোববার সকালে উত্তরখানের রাজাবাড়ি এলাকায় এ সংঘর্ষে কয়েকজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী আহত হন।
দুপুরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান এবং ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর ঘটনাস্থলে গেলে তাদের উপস্থিতিতেই পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর দ্বিতীয় দফা হামলা হয় বলে সিটি করপোরেশনের অভিযোগ।
আহত পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
হামলায় উত্তরখান থানার ওসি নিজেও আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ ও ডিএনসিসির পক্ষ থেকে আলাদা মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।
ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন সন্ধ্যায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, উত্তরখানের রাজাবাড়ি এলাকায় ডিএনসিসির একটি এসটিএসের সামনে নেপচুন অ্যাকসেসরিজ লিমিটেডের একটি কারখানা রয়েছে।
“এসটিএস থেকে ময়লা পরিবহন নিয়ে আপত্তির জেরে দীর্ঘদিন ধরেই কারখানা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরে আজ সকালে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর হামলা হয় এবং কয়েকজন আহত হন।”
জাকির বলেন, ঘটনার পর পরিস্থিতি দেখতে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলতে সেখানে যান ডিএনসিসির প্রশাসক ও স্থানীয় এমপি।
“সেখানে আবারও উত্তেজনা সৃষ্টি হলে দ্বিতীয় দফায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।”
প্রশাসক ও এমপির ওপর হামলা হয়েছে কি না জানতে চাইলে জনসংযোগ কর্মকর্তা বলেন, “তাদের ওপর হামলা হয়নি। দুই দফায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল আমীন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে পোশাক কারখানার শ্রমিকদের কয়েক দিন ধরেই বিরোধ চলছিল। সকালে সংঘর্ষের পর দুপুরে প্রশাসক, সংসদ সদস্য ও ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার ঘটনাস্থলে গেলে আলোচনার একপর্যায়ে আবার উত্তেজনা দেখা দেয়।”
তার ভাষ্য, “পুলিশ গার্মেন্টসের এক কর্মকর্তাকে আটক করতে চাইলে শ্রমিকদের একটি অংশ পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করে।”
ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে নেপচুন অ্যাকসেসরিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম আজাদকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠালেও জবাব দেননি।
ডিএনসিসি এ ঘটনায় দুটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। প্রথম বিজ্ঞপ্তিতে প্রশাসক ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের ওপর হামলার অভিযোগ করা হলেও পরে দেওয়া দ্বিতীয় বিজ্ঞপ্তিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা, আহতদের হাসপাতালে ভর্তি এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়।
উত্তরখান থানার ওসি আহত হওয়ার তথ্য দিয়ে ডিএমপির উত্তরা বিভাগের দক্ষিণখান জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. আবুল হোসাইন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করছে।”
হামলার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ময়লা ফেলা নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত। কোনো সমস্যা থাকলে নিয়মতান্ত্রিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা যেত। কিন্তু সেটি না করে হামলার পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।”
ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার মির্জা তারেক আহমেদ বেগ বলেন, “সকালে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা রাজাবাড়ি এসটিএসে কাজ করতে গেলে তাদের ওপর হামলা হয়। পরে ডিএনসিসির প্রশাসক ও সংসদ সদস্য ঘটনাস্থলে গেলে নেপচুন অ্যাকসেসরিজের ভেতর থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। আমি নিজেও সেখানে উপস্থিত ছিলাম।”
তিনি বলেন, “পুলিশ ইতোমধ্যে কয়েকজনকে আটক করেছে। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। যাচাই-বাছাই শেষে জড়িতদের গ্রেপ্তার দেখানো হবে।”
