প্রশাসনের ‘আশ্বাসে’ পৌনে ৩ ঘণ্টা পর সড়ক ছাড়লেন বাস শ্রমিকরা
"দাবি না মানলে রোববার থেকে আবার রাস্তায় নামব," বলেন মহাখালী শ্রমিক ইউনিয়নের সহসভাপতি ইউসুফ আলী মৃধা।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি পূরণের ‘আশ্বাস পেয়ে’ প্রায় পৌনে ৩ ঘণ্টা পর মহাখালীর সড়ক ছেড়েছেন বাস শ্রমিকরা।
তবে আশ্বাস পূরণ না হলে ফের সড়ক অবরোধ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মহাখালী শ্রমিক ইউনিয়নের সহসভাপতি ইউসুফ আলী মৃধা বলেন, প্রশাসন দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
"তবে দাবি না মানলে রোববার থেকে আবার রাস্তায় নামব।"
এর আগে বিকালে শ্রমিকনেতা মো. জামাল আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বলেন, “আন্দোলন চলাকালে প্রশাসনের কেউ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। তারা এসে কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি। এ অবস্থায় আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ১০ মিনিটের মধ্যে কেউ যদি যোগাযোগ না করে তাহলে, ২৭টি জেলার গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে।”
সপ্তাহের শেষ দিন বিকাল ৩টার পর একদল মালিক-শ্রমিক মহাখালী বাস টার্মিনালের সামনে কয়েকটি বাস আড়াআড়ি রেখে সড়ক আটকে দেয়।
সেখানে তাদেরকে পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনারের পদত্যাগ, গাড়ি ডাম্পিং, জরিমানা, পুলিশের হয়রানিসহ বিভিন্ন বিষয়ে স্লোগান দিতে শোনা যায়।
তাদের এই বিক্ষোভে দুই পাশের শতশত যানবাহন আটকে পড়ে। অবরোধের ফলে সৃষ্ট যানজট মহাখালীর পাশাপাশি বনানী, গুলশান, তেজগাঁও ও সাতরাস্তা পর্যন্ত গিয়ে ঠেকেছে। ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো মানুষ।
মহাখালীতে রাস্তা আটকে রাখা গাড়ি পুলিশের তরফে সরিয়ে নেওয়ার প্রতিবাদে এ বিক্ষোভ শুরু করেন মালিক-শ্রমিকরা।
অবরোধ চলাকালে মহাখালী এলাকায় কর্তব্যরত পুলিশের সার্জেন্ট বেলাল হোসেন বলেন, “মহাখালী টার্মিনালের সামনে দুই পাশ বন্ধ করে রেখেছেন শ্রমিকরা। এ কারণে পুরো এলাকায় ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়েছে।”
মহাখালীতে অলস পড়ে থাকা বাস সম্প্রতি পূর্বাচলে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেছে পুলিশ। এ নিয়ে মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। সেই অসন্তোষের মধ্যেই সড়ক অবরোধ করলেন মালিক-শ্রমিকরা।
পুলিশের গুলশান বিভাগের ফেইসবুক পেইজে বলা হয়, “মহাখালী বাস টার্মিনাল এলাকায় সড়কে যান চলাচল সুষ্ঠু, স্বাভাবিক ও নির্বিঘ্ন রাখতে পুলিশ বাস ডাম্পিং করলে এর প্রতিবাদে পরিবহন শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেন।
“ফলে মহাখালী বাস টার্মিনাল সংলগ্ন সড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে এবং এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়েছে।”
মহাখালীতে অবস্থানরত বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদক লিটন হায়দার বলেন, ঘটনাস্থলে শ্রমিক ও মালিকরা ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। তারা তাকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি তোলেন।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত কমিশনার আনিছুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার সাড়া মেলেনি।
নিজেকে বাস মালিক পরিচয় দেওয়া কামরুজ্জামান বলছেন, “ডাম্পিংয়ে পাঠানোর পর এবং জরিমানা দেওয়ার পরেও গাড়ি ছাড়ছে না। জরিমানা দেওয়ার পর ১০-১২ দিন হলেও গাড়ি ছাড়ে না। তাছাড়া নানাভাবে পুলিশ হয়রানি করছে। শ্রমিকদেরও নানা হয়রানি করছে পুলিশ।”
নিজেকে বাসচালক পরিচয় দিয়ে কামরুল হাসান নামে এক বাসচালক বলেন, “টার্মিনালের বাইরে গাড়ি পাইলেই পুলিশ ডাম্পিং করতেছে, রেকার বিল ধরিয়ে দিচ্ছে।”
তার ভাষ্য, পূর্বাচলে যেখানে তাদের বাস রাখতে বলা হচ্ছে, সেখানে যথাযথ নিরাপত্তা নেই।“
