রামচন্দ্রপুর খাল দূষণের দায়ে গরুর খামারকে জরিমানা
মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, খালের ধারের অবৈধ স্থাপনা আগামী পনেরো দিনের মধ্যে সরিয়ে নিতে হবে। নইলে এসব স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হবে।
গরুর খামারের বর্জ্য ফেলে খাল দূষণের অভিযোগে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা হাউজিং এলাকার মেঘডুবি অ্যাগ্রো নামে একটি খামারের মালিককে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন।
এ সিটির মেয়র আতিকুল ইসলাম বুধবার মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা হাউজিং, বসিলা গার্ডেন সিটি, দয়াল হাউজিং এলাকায় কয়েকটি খামার পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি দেখেন বিভিন্ন খামারের বর্জ্য লাউতলা-রামচন্দ্রপুর খালে ফেলা হচ্ছে।
এ সময় বর্জ্য ফেলে খালের পানি দূষণ ও পরিবেশের ক্ষতি করায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে মেঘডুবি অ্যাগ্রো ফার্ম নামে একটি খামারের মালিককে তিন লাখ টাকা জরিমানা করেন উত্তর সিটির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতাকাব্বীর আহমেদ। বাকি খামার মালিকদের ময়লা খালে না ফেলতে সতর্ক করে দেওয়া হয়।
পরে মেয়র আতিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে অনেক খামার রয়েছে। কিন্তু খামারগুলোর গো-বর্জ্যসহ অন্যান্য সকল বর্জ্য খালে ফেলা হচ্ছে।
“খালটি উদ্ধারের পর আমি গত বছর এই রামচন্দ্রপুর খাল পরিষ্কার করে দিয়েছিলাম। এটি আবার গো-বর্জ্য এবং অন্যান্য বর্জ্য দিয়ে ভর্তি হয়ে গেছে। উনারা মনে করেছেন এরকমভাবেই চলবে। আমার মনে হয় যারা ব্যবসা করবেন, তারা অবশ্যই পরিবেশকে মাথায় রেখে ব্যবসা করতে হবে।”
মেয়র বলেন, খালের ধারের অবৈধ স্থাপনা আগামী পনেরো দিনের মধ্যে সরিয়ে নিতে হবে। নইলে এসব স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হবে।
“খালের সীমানা নির্ধারণ করে পিলার বসানো হয়েছে। এই সীমানার বাইরেও তারা অবৈধভাবে স্থাপনা করছে। আমি বলেছি ১৫ দিনের মধ্যে নিজ দায়িত্বে আপনারা সরিয়ে নেবেন, আমরা বুলডোজার দিয়ে সেই স্থাপনা ভেঙে দেব।
“আজকেই এসব স্থাপনা ভাঙতাম, কিন্তু উনারা বলেছে ভিতরে প্রচুর পশু রয়েছে এ পশুদের সরানো চ্যালেঞ্জিং হবে। পশুগুলোও আমাদের সম্পদ, তাই এর ক্ষতি করা ঠিক হবে না। আমি তাদেরকে পনেরো দিন সময় দিয়েছি। এর পরে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব।”
পরে বসিলা কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন মেয়র আতিকুল ইসলাম। সেখানে ৩৩ এবং ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের সুযোগ-সুবিধার কথা ও সমস্যার কথা শোনেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় সংসদ সদস্য মো. সাদেক খান, উত্তর সিটির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর এস এম শরিফ-উল ইসলাম, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহে আলম, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আসিফ আহমেদ, ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শেখ মোহাম্মদ হোসেন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর রোকসানা আলম উপস্থিত ছিলেন।
