২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

গুম: ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠন নিয়ে আসামিপক্ষের শুনানি মঙ্গলবার

বিশেষ কারাগারে থাকা তিন সেনা কর্মকর্তাকে আদালতে হাজির করা হয়।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 07 Dec 2025, 04:00 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:16 PM

আওয়ামী লীগ শাসনে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) গুম-নির্যাতনে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তাসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদন করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। 

রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীসহ আসামিপক্ষের শুনানির জন্য আগামী মঙ্গলবার দিন ঠিক করা হয়েছে।

রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ তারিখ ঠিক করে দেয়। 

বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিন সেনা কর্মকর্তার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আজিজুর রহমান দুলু। সেনানিবাসের বিশেষ কারাগারে থাকা তিন সেনা কর্মকর্তাকে এদিন আদালতে হাজির করা হয়।

শুনানিতে প্রধান কৌঁসুলি জেআইসিতে লোকজনকে তুলে নিয়ে গুম ও নির্যাতনের বিভিন্ন ঘটনার বিবরণ দেন। আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনে ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট পর্যন্ত গুম হওয়া ২৬ জনের তথ্য তিনি উপস্থাপন করেন; এসব ঘটনায় পাঁচটি অভিযোগ তুলে এ মামলায় ১৩ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আবেদন করেন। 

প্রধান কৌঁসুলির শুনানি শেষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী এবং গ্রেপ্তার তিন সেনা কর্মকর্তার আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু সময় প্রার্থনা করলে ৯ ডিসেম্বর দিন রাখা হয়। 

এ মামলায় ১৩ আসামির মধ্যে ১২ জন সেনা কর্মকর্তা। আসামি সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে তিনজন গ্রেপ্তার রয়েছেন। রোববার সকালে ঢাকার সেনানিবাসের বিশেষ কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তায় তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পুলিশ।

 তারা হলেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক (সিটিআইবি) মেজর জেনারেল শেখ মো. সারওয়ার হোসেন, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক (সিটিআইবি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক (সিটিআইবি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভীর মাজাহার সিদ্দিকী।

শেখ হাসিনা ও মামলার বাকি ৯ সেনা কর্মকর্তা পলাতক আছেন। 

পলাতক ৯ সেনা কর্মকর্তা হলেন - প্রধানমন্ত্রীর সাবেক প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. আকবর হোসেন, ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মো. সাইফুল আবেদিন, ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. সাইফুল আলম, ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী, ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল হামিদুল হক, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক (সিটিআইবি) অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক (সিটিআইবি) মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল মখছুরুল হক।

গত ২৩ নভেম্বর পলাতকদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ দেয় ট্রাইব্যুনাল। ওইদিন স্বেচ্ছায় লড়তে চাইলে শেখ হাসিনার আইনজীবী হন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেডআই খান পান্না। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতা দেখিয়ে গত ৩ ডিসেম্বর তিনি সরে দাঁড়ান। এরপর মো. আমির হোসেনকে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী করা হয়। 

গত ২২ অক্টোবর সেনা হেফাজতে থাকা এ মামলার তিন সেনা কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। পরে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে পলাতক আসামিদের হাজিরের জন্য দুটি জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। 

গত ৮ অক্টোবর এ মামলায় ১৩ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরে অভিযোগ আমলে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল।