২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

চাঁনখারপুলে ৬ হত্যা: দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান আসিফ মাহমুদ

গত ১৪ জুলাই সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 16 Oct 2025, 05:28 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:29 PM

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ঢাকার চাঁনখারপুলে শিক্ষার্থী আনাসসহ ৬ জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সেই আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়কারী আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সাক্ষ্য শেষ হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ এ সাক্ষ্য দেন বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের এই উপদেষ্টা।

পরে আদালত প্রাঙ্গণে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তার সঙ্গে ট্রাইব্যুনালের কৌঁসুলি গাজী এম এইচ তামিমও ছিলেন। 

এদিনই জুলাই অভ্যুত্থান দমানোর চেষ্টায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা ও তার সরকারের স্বররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ড চায় প্রসিকিউশন। 

প্রধান কৌঁসুলি তাজুল ইসলাম বলেন, এত ব্যাপক হামলা–মৃত্যু, আহত। ১৪০০ জন নিহত এবং ২৫০০০ আহত হয়েছেন। একজনের জন্য একবার মৃত্যুদণ্ড হলে তার ১৪০০ বার ফাঁসি হওয়া দরকার।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, “১৪০০ জনকে তো এই গণঅভ্যুত্থানে হত্যা করেছে। এ ছাড়া বিগত ১৭ বছরে আরও কত হাজার হত্যা করেছে তার কোনো ইয়ত্তা নেই। 

“এখন আমরা বিভিন্নভাবে তালিকা পাচ্ছি। এর আগে আমরা আরও দুটি হত্যাকাণ্ড প্রত্যক্ষ করেছি, যেটা বিডিআর বিডিআর হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তীতে শাপলাচত্বর হত্যাকাণ্ড। শতশত মানুষকে গুম করে হত্যা করা হয়েছে। অনেককে আর ফিরে পাওয়া যায় নাই। আমরা আয়নাঘর প্রত্যক্ষ করেছি। 

“সুতরাং প্রত্যেকটা ঘটনায় প্রত্যেকটা ভিক্টিমের জন্য যদি আপনি একবার করে বিচার করতে যান; তাহলে এই বিচার হয়তো কেয়ামত পর্যযন্ত শেষ হবে না। 

“আমরা এ সকল ভিক্টিমদের পক্ষ থেকে এই ‘মিসডিডগুলো’ যে শেখ হাসিনা এবং এর সাথে আর যারা জড়িত ছিলেন, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছি এবং আশা করি, এই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হবে।”

এর আগে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য শেষে জেরায় তাকে প্রশ্ন করা হয় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে তাদের কোনো নেতা ছিল কিনা। 

উত্তরে তিনি বলেন, তাদের কোনো নেতা ছিল না; তারা ৫৮ জন—  সমন্বয়ক এবং সহকারী সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করেছেন।

২০২৪ সালের ৫ জুন হাই কোর্ট কোটা বহাল করলে সরকার আপিল করেছিল। ওই সময় নিজেরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের ইন্ধন ছিল না বলে তিনি জানান। 

এক দফা আন্দোলনের পেছনে কোনো বিদেশি ইন্ধন ছিল না বলেও এই উপদেষ্টার ভাষ্য। 

চানখাঁরপুলে তার সামনে যেখানে গুলি হয়েছিল তা থেকে তিনি আনুমানিক ২০০ মিটার দূরে ছিলেন। ওই দূরত্ব থেকে গুলি করতে দেখা সম্ভব নয়– আসামির আইনজীবীর এই প্রস্তাব (সাজেশন) তিনি তা অস্বীকার করেন। 

ওইদিন চানখাঁরপুলে পুলিশ ছাড়া অন্য কোনো বাহিনীর সদস্যদের দেখেননি বলেও জানান আসিফ মাহমুদ।

আন্দোলনের সময় কোনো পুলিশ সদস্য নিহত বা আহত হননি বলে তিনি জেরায় বলেন।

এ  বিষয়ে আসিফ মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, “আমাকে বলা হয়েছিল চানখাঁরপুলে কোনো পুলিশ আহত বা নিহত হয়েছে কি না। সেখানে আমার জানামতে কোনো পুলিশ আহত বা নিহত হন নাই। 

“আর সারা দেশের যেটা বলা হচ্ছে, সেটা খুবই অস্পষ্ট। এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো কিছু আমার জানা নেই।”  

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের দিন ৫ অগাস্ট চাঁনখারপুল এলাকায় শিক্ষার্থী শহীদ আনাসসহ ৬ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা গত ১১ এপ্রিল এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনে জমা দেয়। নথিপত্র পর্যালোচনা করে ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ২৫ মে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন।

অভিযোগ আমলে নিয়ে সেদিন ট্রাইব্যুনাল হাবিবুর রহমানসহ পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, চানখাঁরপুল এলাকায় আসামিরা নিরস্ত্র ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর ‘প্রাণঘাতী’ অস্ত্র ব্যবহার করে শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ মেহেদী হাসান জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক এবং মানিক মিয়াকে গুলি করে হত্যা করে।

তদন্ত সংস্থা এই মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ট্রাইব্যুনালে তদন্ত সংস্থার দেওয়া এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদনটি ৯০ পৃষ্ঠার। তদন্ত করতে সময় লেগেছে ৬ মাস ১৩ দিন।

তদন্ত প্রতিবেদনে ৭৯ সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। এছাড়া ১৯টি ভিডিও, পত্রিকার ১১টি রিপোর্ট, ২টি অডিও, বই ও রিপোর্ট ১১টি এবং ৬টি ডেথ সার্টিফিকেট সংযুক্ত করা হয়েছে।

গত ১৪ জুলাই সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

এ মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যর জন্য আগামী ২৬ অক্টোবর দিন ঠিক করা হয়েছে।