০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ফুলবাড়িয়া টার্মিনাল স্থানান্তর ‘তিন মাসের মধ্যে’: ডিএমপি কমিশনার

“সেখানে অলরেডি সরকার আমাদেরকে অনুমতি দিয়েছে, আমরা সেখানে ডিপোর কাজ শুরু করেছি।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 03 Oct 2026, 03:06 PM

Updated : 03 Oct 2026, 03:06 PM

যানজট নিরসনের অংশ হিসেবে গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল আগামী তিন মাসের মধ্যে কেরাণীগঞ্জের চুনকুটিয়ায় স্থানান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেছেন, চুনকুটিয়ার ঝিলমিল প্রজেক্টে ১০ একর জায়গায় ডিপো তৈরির কাজ শুরু হয়েছে, কাজ শেষ হলেই ফুলবাড়িয়া এবং গুলিস্তানের বাসগুলো সেখানে স্থানান্তর করা হবে।

শনিবার ঢাকার মহাখালী টার্মিনালের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ‘উন্নয়ন কার্যক্রম’ পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেছেন।

মহাখালী টার্মিনালের বাস যে প্রক্রিয়ায় পূর্বাচলে স্থানান্তর হচ্ছে, একই প্রক্রিয়ায় ফুলবাড়িয়া ও গুলিস্তানের বাস সরবে বলে পরিকল্পনার কথা জানান পুলিশ কর্মকর্তা মোসলেহ্ উদ্দিন।

চুনকুটিয়াতে ঝিলমিল প্রজেক্টে ডিপো হিসেবে ১০ একর জায়গা পাওয়ার কথা জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, “সেখানে অলরেডি সরকার আমাদেরকে অনুমতি দিয়েছে, আমরা সেখানে ডিপোর কাজ শুরু করেছি।”

রাজউকের মাধ্যমে সেখানে আরো প্রায় ৭৫ একর জায়গা পাওয়া যাবে, যেখানে স্থায়ীভাবে টার্মিনাল এবং ডিপো করা হবে। সেখানে দক্ষিণবঙ্গগামী ১৯ টি জেলার সব পরিবহন, ট্রাক এবং বাদামতলী আড়তের ট্রাকসহ সেখানে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান ডিএমপি কমিশনার।

তিনি বলেন, “সেখানে মাল্টিমডেল একটি ট্রান্সপোর্ট হাব হবে। দক্ষিণবঙ্গের ১৯টি জেলার বাস থেকে থেকে শুরু করে সমস্ত পরিবহন পর্যায়ক্রমে সেখানে নিয়ে যাওয়া হবে।

“আপাতত স্থায়ী টার্মিনাল এবং ডিপো হওয়ার আগ পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে ১০ একর জায়গায় গুলিস্তান এবং ফুলবাড়িয়ার টার্মিনালটি আমরা সেখানে শিফট করব।”

কত দিনের মধ্যে এটি সম্ভব, জানতে চাইলে মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, “এটা আমরা সর্বোচ্চ ৩ মাস সময় নিয়েছি। কাজটি আমরা আশা করছি সর্বোচ্চ ৩ মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে। সম্পন্ন হওয়ার সাথে সাথে ফুলবাড়িয়া এবং গুলিস্তানের বাস সেখানে শিফট করব।”

মহাখালী টার্মিনালের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে ডিএমপি কমিশনার বলেন, “একটা শৃঙ্খলাবদ্ধ নিয়মের মধ্য দিয়ে চলবে। এই নিয়মের বাইরে কেউ যাতে সামান্যতম চেষ্টা না করেন অনিয়ম করার জন্য।

“এরকম যদি কেউ করেন বা করার চেষ্টা করেন, অবশ্যই আমরা কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

এ সময় উপস্থিত সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, “ঢাকা মহনগরে অসহনীয় যানজট এবং সড়ক পরিবহন সেক্টরের বিশৃঙ্খলায় আমরা সবাই অতিষ্ঠ, এর পরিবর্তন চাই। ঢাকাতে যানজটের এই বিশৃঙখলা অসহনীয় পরিস্থিতি আমরা পরিবর্তন করতে চাই, জনসাধারণ চায়।

“আর জনসমর্থনের সাথে কিছু বল প্রয়োগ লাগে। জনসমর্থন তৈরি করা এবং বল প্রয়োগ করলে ভালো কাজ হবে। আজকে মহাখালীর একটা যে পরিবর্তন আসছে, এটা আসবে ফুলবাড়িয়া গুলিস্তান, সায়েদাবাদ এবং গাবতলীতে।”

ঢাকার সড়কে যত্রতত্র যাত্রী উঠা-নামা এবং সড়ক আটকে দাড় করানোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, “এই ব্যবস্থা কেউ চায় না, আমরাও চলতে দেব না।”