বাণিজ্য মেলার মাঠে ঈদ জামাত সকাল ৮টায়, হবে না শোভাযাত্রা
পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে একসঙ্গে প্রায় ১০ হাজার মানুষ নামাজ পড়তে পারবেন।
ঢাকার আগারগাঁওয়ে পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে এবার ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৮টায়; তবে গেলবারের মত ঈদ আনন্দ মিছিল বা শোভাযাত্রার কোনো আয়োজন এবার থাকছে না।
ওই মাঠে একসঙ্গে প্রায় ১০ হাজার মানুষ নামাজ পড়তে পারবেন।
বুধবার দুপুরে বাণিজ্য মেলা মাঠে ঈদ জামাতের প্রস্তুতি দেখতে এসে এ তথ্য দেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।
গত বছর রোজার ঈদে এই মাঠে ঈদের জামাতের পাশাপাশি ঈদ আনন্দ মিছিল, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ঈদ মেলার আয়োজন করে ডিএনসিসি। ঢাকার ৪০০ বছরের ঈদ ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনার কথা বলেছিল তখনকার প্রশাসন।
ব্যান্ড পার্টির বাজনা, ঘোড়ার গাড়ি এবং মুঘল আমলের ইতিহাস তুলে ধরা নানা ধরনের ছবি নিয়ে ওই ঈদের দিন ঢাকার আগারগাঁওয়ে ঈদ আনন্দ মিছিল হয়।
এবার ঈদের আনন্দ শোভাযাত্রা হবে কী না জানতে চাইলে নতুন সরকারের নতুন প্রশাসক মিল্টন বলেন, “না, আমরা এইবার এই জায়গাটায় শুধু ঈদের নামাজ আদায় করব। এখানে কোনো মেলা হবে না, এখানে কোনো আনন্দ শোভাযাত্রা হবে না।
“আমরা চাই প্রতিটি সদস্য ঈদের নামাজ আদায় করে তার পরিবারের সাথে অন্ততপক্ষে সময়টা কাটাক। এই চিন্তা থেকে আমরা এবার এই উদ্যোগ নিয়েছি।”
ঈদ জামাত আয়োজনের প্রস্তুতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ঢাকা উত্তর এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ঈদের নামাজের জন্য দুইটি জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। দক্ষিণের জামাত হবে জাতীয় ঈদগাহে, হাই কোর্টের সামনে। আর উত্তর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠ নির্ধারণ করা হয়েছে।
“আশা করছি যে আমাদের ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বাসিন্দারা ভালোভাবে এখানে সবাই নামাজ আদায় করতে পারবে। এ নিয়ে বিভিন্ন ক্যাম্পেইন ও মাইকিংয়ের ব্যবস্থা ব্যবস্থাও করব।”
একসঙ্গে প্রায় ১০ হাজার মানুষ নামাজ আদায় করতে পারবে, এমন ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন প্রশাসক মিল্টন। ৫০০ থেকে ৭০০ নারীর জন্য নামাজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বরে জানিয়েছেন তিনি।
ঈদের দিন বৃষ্টির আভাস থাকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “বৃষ্টি হলে সেই ব্যাপারে আমরা প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। যাতে নামাজ আদায় করতে গিয়ে মুসল্লিদের কোনো বিঘ্ন না ঘটে।”
নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে এক প্রশ্নে মিল্টন বলেন, ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খল রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা সেরে নেওয়া হয়েছে।
“তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে, একদম যতটুকু সম্ভব সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা এখানে থাকবে।”
