পার্বত্যবিষয়ক কমিটিতে গোয়েন্দা সংস্থার সম্পৃক্ততায় ৫২ নাগরিকের উদ্বেগ
“বিএনপি ‘রেইনবো নেশন’ গঠনের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, এ ধরনের পদক্ষেপ তার পরিপন্থি,” বলা হয় বিবৃতিতে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা নিরসনে সরকারের করা কমিটিতে গোয়েন্দা সংস্থার সম্পৃক্ততায় উদ্বেগ জানিয়েছেন দেশের ৫২ নাগরিক।
তাদের মতে, এ পদক্ষেপ পাহাড়ে নতুন করে সামরিকায়ন জোরদার করবে এবং সেখানে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ রুদ্ধ করবে।
সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তারা এ উদ্বেগ তুলে ধরেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে সভাপতি করে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি’, স্বরাষ্ট্র সচিবের নেতৃত্বে ‘নির্বাহী কমিটি’ এবং পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির প্রধানের নেতৃত্বে ‘পরামর্শক কমিটি’ গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
এর মধ্যে দুটি কমিটিকে সাচিবিক ও অবকাঠামোগত সুবিধা দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরকে (ডিজিএফআই)।
বিবৃতিদাতারা বলেন, একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার ওপর এ দায়িত্ব ন্যস্ত করার সিদ্ধান্ত ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও কর্তৃত্বপরায়ণ’। অতীতে পাহাড়িদের ‘অধিকার ক্ষুণ্নের’ ঘটনায় এ সংস্থার ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে। ফলে পার্বত্য অঞ্চলে সেনাশাসন ও দমন-পীড়ন বাড়ার আশঙ্কাই জোরালো হচ্ছে বলে বিবৃতিতে বলা হয়।
বিবৃতি দেওয়া ব্যক্তিরা মনে করেন, নির্বাচনি ইশতেহারে বিএনপি ‘রেইনবো নেশন’ গঠনের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, বর্তমান সরকারের এ ধরনের পদক্ষেপ তার পরিপন্থি।
বিবৃতিতে বলা হয়, ষাটের দশকে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে শুরু করে দুই যুগের সশস্ত্র সংঘাত এবং পরবর্তীতে চুক্তি সত্ত্বেও পার্বত্য সমস্যার স্থায়ী সুরাহা হয়নি। ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও গত ২৯ বছরে এর মৌলিক ধারাসমূহ বাস্তবায়িত হয়নি।
এমন পরিস্থিতিতে গোয়েন্দা ও সামরিক আমলাতান্ত্রিক ‘প্রেসক্রিপশনে’ পাহাড়ের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা বাদ দিয়ে সব বৈধ প্রতিনিধিকে নিয়ে রাজনৈতিক সমাধানের জোর দাবি জানান বিবৃতিদাতারা।
বিবৃতিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ, মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সুলতানা কামাল, ‘নিজেরা করি’র সমন্বয়কারী খুশী কবির, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের, সামিনা লুৎফা, লেখক রেহনুমা আহমেদ এবং মানবাধিকার কর্মী মো. নুর খানের সই রয়েছে।
