২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

খালেদা জিয়ার ১১ মামলার শুনানি ৩১ অক্টোবর

সোমবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন আগামী ৩১ অক্টোবর শুনানির দিন ঠিক করেছেন।

খালেদা জিয়ার ১১ মামলার শুনানি ৩১ অক্টোবর
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি।

আদালত প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 09 Sep 2024, 04:56 PM

Updated : 26 Aug 2026, 10:26 AM

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা হত্যা, নাশকতা ও রাষ্ট্রদ্রোহসহ ১১ মামলার শুনানির তারিখ ফের পিছিয়েছে।

সোমবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন আগামী ৩১ অক্টোবর শুনানির দিন ঠিক করেছেন।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী সৈয়দ মো. জয়নুল আবেদীন মেজবাহ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রত্যেকটি মামলা বাতিলের জন্য হাই কোর্টে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু হাই কোর্টে এখনো আবেদনগুলোর শুনানি হয়নি, তাই আমরা হাই কোর্টের আদেশ দাখিলের জন্য সময় চেয়েছি। এ প্রেক্ষিতে বিচারক আগামী ৩১ অক্টোবর শুনানির দিন দিয়েছেন।” 

মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে- রাজধানীর দারুস সালাম ও যাত্রাবাড়ী থানায় করা নাশকতার ৯টি, এছাড়া যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা ও একটি রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা।

মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগে ২০১৬ সালের ২৫ জানুয়ারি আদালতে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করা হয়।

এছাড়া যাত্রাবাড়ী থানার মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৩ জানুয়ারি রাতে যাত্রাবাড়ীর কাঠেরপুল এলাকায় গ্লোরি পরিবহনে যাত্রীবাহী একটি বাসে পেট্রোল বোমা হামলা হয়। এতে বাসের ২৯ যাত্রী দগ্ধ হন। পরে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ১ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নূর আলম (৬০) নামের এক যাত্রী।

ওই ঘটনায় ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন থানার এসআই কে এম নুরুজ্জামান। ওই বছরের ৬ মে খালেদা জিয়াসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন ডিবি পুলিশের পরিদর্শক বশির আহমেদ।

অন্যদিকে ২০১৫ সালে দারুস সালাম থানা এলাকায় নাশকতার অভিযোগে ৯টি মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলায় খালেদা জিয়াকে আসামি করা হয়।

২০১৭ সালের বিভিন্ন সময়ে মামলাগুলোয় অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। সবগুলো মামলায় খালেদা জিয়াকে পলাতক দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়। পরে খালেদা জিয়া মামলাগুলোয় আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন।

এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে মন্তব্য এবং ভুয়া জন্মদিন উদযাপনের অভিযোগে আওয়ামী লীগের আমলে দায়ের হওয়া মানহানির পাঁচ মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন খালেদা জিয়া। 

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় ৫ বছরের সাজা হলে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে যেতে হয় খালেদা জিয়াকে। দুদকের আপিলে ওই বছরেরই অক্টোবরে হাই কোর্ট তার সাজা বাড়িয়ে দ্বিগুণ করে। একই মাসে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলাতেও সাজার রায় হয় খালেদা জিয়ার। দুই বছরের বেশি সময় কারাবন্দি ছিলেন তিনি।

২০২০ সালের ২৫ মার্চ আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাহী আদেশে সাজা স্থগিত করে শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দেয় সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে। তখন থেকে ছয় মাস পরপর তার সাজা স্থগিত করে মুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হচ্ছিল।

গণআন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গত ৭ অগাস্ট রাষ্ট্রপতির আদেশে মুক্তি পান খালেদা জিয়া।