দুই মামলায় প্রিন্স মামুনের জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই
প্রিন্স মামুন সোমবার সকালে কারামু্ক্ত হবেন বলে আশা করছেন তার আইনজীবী।
কোটি টাকা যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে মারধর এবং আত্মহত্যার চেষ্টা-এই দুই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আবদুল্লাহ আল মামুন ওরফে প্রিন্স মামুন জামিন পেয়েছেন।
ঢাকার পৃথক দুই মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রোববার এ আদেশ দেন।
আর কোনো মামলায় আটকাদেশ না থাকায় প্রিন্স মামুনের কারামুক্তিতে ‘বাধা নেই’ বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী পলাশ চন্দ্র রায়।
প্রিন্স মামুনের জামিনের বিষয় নিশ্চিত করে পলাশ বলেন, "আশা করছি, সোমবার সকালে প্রিন্স মামুন কারামুক্ত হবেন।"
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রৌনক জাহান তাকি কোটি টাকা যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে মারধরের মামলায় এবং আরেক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম তাকে আত্মহত্যার চেষ্টা মামলায় জামিনের আদেশ দেন।
প্রিন্স মামুনের পক্ষে তার আইনজীবী পলাশ চন্দ্র রায় এবং আব্দুল্লাহ আল মামুন জামিন চেয়ে শুনানি করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী সরকার সাব্বির হোসাইন (ফয়সাল) জামিনের বিরোধিতা করেন। জামিনের বিরোধিতা করতে আদালতে উপস্থিত হয়েছিলেন বাদী মোহনাও।
এদিন শুনানিতে প্রিন্স মামুনকে আদালতে হাজির করা হয়।
কোটি টাকা যৌতুক চেয়ে মারধরের অভিযোগ এনে ২৪ জুলাই ভাটারা থানায় মামলা করেন আতিকিয়া ফাইজাহ মোহনা। ওই মামলায় ওইদিনই জামিন আবেদন নাকচ করে প্রিন্স মামুনকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এদিকে ২৩ জুলাই গভীর রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসায় ফেইসবুক লাইভে এসে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে শাড়ি পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালানোর অভিযোগে মোহনা বাদী হয়ে প্রিন্স মামুনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। গেল ২৫ জুলাই আত্মহত্যার চেষ্টায় মোহনার করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়। ২৯ জুলাই এ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
যৌতুকের জন্য মারধরের মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, পাঁচ মাস আগে প্রিন্স মামুনের সঙ্গে মডেল মোহনার বিয়ে হয়। বিয়ের থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হয়ে আসছিল।
“প্রিন্স মামুন বিভিন্ন বয়স্ক মহিলাদের সঙ্গে পরকিয়ায় লিপ্ত এবং নেশায় আসক্ত। মোহনা তাকে কিছু জিজ্ঞাসা করলেই মারধর করে। বিয়ের থেকেই আসামি দোকান দেওয়ার জন্য তার কাছে এক কোটি টাকা যৌতুক দাবি করেন। তবে টাকা দিতে অস্বীকার করলে মোহনাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২ টার দিকে ভাটারার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার মোহনার বাসায় মামুন নেশাগ্রস্থ অবস্থায় এসে এক কোটি টাকা যৌতুক হিসেবে দাবি করেন।
“মোহনাকে তার বাবার বাড়ি থেকে এই টাকা এনে দিতে বলেন প্রিন্স মামুন। তবে মোহনা অস্বীকৃতি জানালে, তার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মামুন উত্তেজিত হয়ে তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করাসহ এলোপাতারি কিল ঘুষি ও লাথি মারতে থাকেন। মারধরের সময় তার গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। এতে তার বাম চোখের নিচে রক্তাক্ত জখম হয় এবং ডান কানে নীলাফুলা জখমসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারপিট করে আহত করা হয়।”
আত্মহত্যার চেষ্টার মামলার অভিযোগে মোহনা বলেন, গত ২৩ জুলাই রাত অনুমান ১২টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ই-ব্লকের ১১ নম্বর রোডের বাসায় প্রিন্স মামুন ফেইসবুক লাইভে আসেন।
“লাইভে এসে বেডরুমের সিলিং ফ্যানের সাথে তার (মোহনা) ব্যবহৃত শাড়ি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করবেন এবং বাদী ও তার পরিবার দায়ী থাকবে-এসব কথা লাইভে বলতে থাকে। লাইভ দেখে বাদী (মোহনা) দ্রুত আসামির বাসায় গিয়ে দেখতে পান, প্রিন্স মামুন সিলিং ফ্যানের সাথে শাড়ি পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করছেন এবং চিৎকার করে বলছেন, ‘তোমরা রুম থেকে বের হয়ে যাও, আমি এখন সুইসাইড করব’।
পরবর্তীতে মোহনার মা তার ধর্মভাই আব্দুল মোমিন ও লিখন এবং আসামি মামুনের বাবা-মায়ের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে পুলিশি সহায়তায় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
