‘তেল কই’, জ্বালানির খবরাখবর মিলছে মুহূর্তেই
“যদি কোনো পাম্পে বেশি ভিড় থাকে, মানুষ অন্য পাম্পের তথ্য দেখে সেদিকে যেতে পারবে। এতে ভিড় কমতে পারে।”
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে।
মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির অনেক চালক ট্যাংক ভরতে ভিড় করছেন ফিলিং স্টেশনে, ধৈর্য
হারিয়ে কেউ কেউ হট্টগোল বাধিয়ে ফেলছেন। আবার কোথাও কোথাও তেল শেষ হওয়ায় বন্ধ থাকছে স্টেশন, আর তা দেখে মুখ বেজার হচ্ছে অনেকের।
এই পরিস্থিতিতে কোন ফিলিং স্টেশনে তেল মিলছে, ভিড় কেমন—সেসব তথ্য জানাতে কমিউনিটিভিত্তিক ওয়েবসাইট চালু করেছেন এক বাংলাদেশি সফটওয়্যার ডেভেলপার।
‘তেল কই’ নামে এই প্লাটফর্মে ব্যবহারকারীরা স্টেশনের পরিস্থিতি কেমন, সে বিষয়ে তথ্য দিতে পারেন। ফলে গাড়িচালকরা বের হওয়ার আগে কোন পাম্পে জ্বালানি পাওয়া যেতে পারে তা দেখে নিতে পারেন।
ওয়েবসাইটটি তৈরি করেছেন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের স্নাতক ডিগ্রিধারী সজিব খান। তিনি বর্তমানে পাঠাও লিমিটেডে ডেটা অ্যানালাইটিকস ও এআই অটোমেশন প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করছেন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে সজিব বলেন, প্লাটফর্মটি মূলত ব্যবহারকারীদের দেওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করে এবং সেখানে তথ্য যাচাইয়ের জন্য কমিউনিটি ভোটিং ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
“এখন যদি একজন ভুল তথ্য দেয়, অন্য ব্যবহারকারী সেটা দেখে যাচাই করতে পারবে। সেখানে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়ে বলা যাবে তথ্যটা সত্য না মিথ্যা।”
ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “ধরা যাক কোনো পাম্প সম্পর্কে অনেকগুলো ভোট পড়ল, যেমন ৩০টা ভোট। তখন বোঝা যাবে তথ্যটা কতটা সত্য বা মিথ্যা।”
সজিব বলেন, সাইটটি যাতে সহজে ব্যবহার করা যায়, সে কারণে লগইন বাধ্যতামূলক করা হয়নি।
“যদি খুব কঠিন নিয়ম করা হয়, তাহলে সবাই ইনপুট দিতে পারবে না। তাই সহজভাবে রাখা হয়েছে, যাতে মানুষ দ্রুত তথ্য দিতে পারে।”
ডেভেলপারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত প্ল্যাটফর্মটিতে প্রায় ৩৬৪টি ফিলিং স্টেশনের তথ্য যুক্ত হয়েছে। সেখানে মোট ৯৭৫টি রিপোর্ট এসেছে এবং ৪৭২ জন ব্যবহারকারী তথ্য দিয়েছেন। একই সময়ে ওয়েবসাইটে সাধারণত ৫০৫ থেকে ৬০০ জন পর্যন্ত ব্যবহারকারী সক্রিয় থাকেন।
তবে কিছু ব্যবহারকারী ‘উল্টাপাল্টা’ নাম দিয়ে তথ্য যুক্ত করার চেষ্টা করায় নতুন স্টেশন যোগ করার সুবিধা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার কথা বলেন সজিব।
তার কথায়, “অনেকে স্ক্যান করে উল্টাপাল্টা নাম দিয়ে যোগ করা শুরু করেছিল। এজন্য আপাতত নতুন স্টেশন যোগ করা বন্ধ রেখেছি, যাচাই করে পরে আবার চালু করব।”
জ্বালানি সংকট বা আতঙ্কের সময়ে এই ধরনের প্লাটফর্ম মানুষের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সহায়ক হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
সজিব বলেন, “যদি কোনো পাম্পে বেশি ভিড় থাকে, মানুষ অন্য পাম্পের তথ্য দেখে সেদিকে যেতে পারবে। এতে ভিড় কমতে পারে।”
এই প্লাটফর্মে ব্যবহারকারীদের অংশগ্রহণও দেখা যাচ্ছে সোশাল মিডিয়ায়।
একজন ব্যবহারকারী প্লাটফর্মে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতার মিল পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
“জলসিড়ি পাম্প বন্ধ লেখা দেখার পরও গতকাল সেখানে গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখি সত্যিই তেল নেই। পরে পিনাকল থেকে নিয়েছি, সেখানে লাইনে ভিড়ও কম ছিল।”
ইমাম হোসেন আকাশ নামের এক ব্যবহারকারী ফেইসবুকে লিখেছেন, “আমি যেখানেই যাই, আপডেট দিছি।”
তবে ডেটার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্নও তুলছেন কেউ কেউ।
আসিফ মুজতবা কবির নামের এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “এখানে যেকেউ যেটা খুশি লিখতে পারবে, আবার ভুল হলে অন্যরা ভোট দিয়ে ভুল বলতে পারবে। এরকম প্লাটফার্ম কাজ করবে যদি অনেক বেশি ইউজার থাকে।
“কিন্তু এই মুহূর্তে এত বেশি ইউজার নাই, এজন্য ভেরিফায়েড ডেটা পাওয়ার শিউরিটি নাই আসলে। আরও অনেক বেশি ইউজার হইলে, পার পোস্টে কম পক্ষে ১৫-২০টা ভোট থাকলে তখন বিশ্বাস করা যেত সহজে।”
অ্যাপটি মিলবে এখানে।
