ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর, পেট্রোবাংলার শীর্ষ পদে ভূতত্ত্ববিদ নিয়োগের প্রস্তাব
আনোয়ার জাহিদ বলেন, বাংলাদেশে এখনো ভূতাত্ত্বিক জ্ঞানেরর প্রয়োগটা হচ্ছে না। ফলে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য থেকে জানি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর এবং পেট্রোবাংলাসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার শীর্ষ ও গুরুত্বপূর্ণ পদে ভূতত্ত্ববিদ নিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক সমিতি।
সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার জাহিদ এর সঙ্গে আরও বেশকিছু প্রস্তাব তুলে ধরেন।
তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর, পেট্রোবাংলা, বাপেক্স এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠানে ভূতত্ত্ববিদ পদের অবস্থান থাকলেও শীর্ষ পদ ‘অনভিজ্ঞ কর্মকর্তা’ দ্বারা পূরণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভূ-গর্ভস্থ পানি বিজ্ঞান পরিদপ্তরে ভূতত্ত্ববিদ পদায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে, কিন্তু বোর্ডের নদ-নদীর গতি-প্রকৃতি সমীক্ষা, নদী শাসন, বাঁধ নির্মাণসহ পানির বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণে ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষার সঙ্গে ভূতত্ত্ববিদের কোন সংশ্লিষ্টতা রাখা হয়নি।
“ভূ-গর্ভস্থ পানি নিয়ে কাজ করলেও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন, পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা, ওয়াসায় নেই ভূগর্ভস্থ পানি বিজ্ঞানের জ্ঞানসমৃদ্ধ ন্যূনতম সংখ্যক ভূতত্ত্ববিদ।”
আনোয়ার জাহিদ বলেন, “জাতীয় স্বার্থে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পদসহ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ পদে ভূতত্ত্ববিদ পেশাজীবীর পদায়ন নিশ্চিত করতে হবে। আমরা চিঠি দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলব, এখানে ভূতত্ত্বে যারা পড়েছেন বা ভূতত্ত্ববিদদের রাখতে।”
তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখনো ভূতাত্ত্বিক জ্ঞানেরর প্রয়োগটা হচ্ছে না। ফলে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য থেকে জানি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক সমিতির পক্ষে কিছু সুপারিশ ও প্রস্তাবনা তুলে ধরেছেন-
>> জাতীয় স্বার্থে খনিজ ও প্রাকৃতিক সম্পদ, ভূ-গর্ভস্থ পানিসহ পানিসম্পদ, সুনীল অর্থনীতি, জলবায়ু পরিবর্তন, ভূমিকম্প, বন্যা, নদী ভাঙ্গনসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন ইত্যাদি সংশ্লিষ্ট নীতি-নির্ধারণ ও কর্মপরিকল্পনা তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ ভূতত্ত্ববিদদের যুক্ত করতে হবে।
>> বাংলাদেশে ভূতাত্ত্বিক জ্ঞান ও বিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট সব উন্নয়ন কর্মকান্ডে ভূতত্ত্ববিদ পেশাজীবী ও গবেষকদের অর্ন্তভুক্ত করা।
>> বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান পদসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার শীর্ষ ও গুরুত্বপূর্ণ পদে ভূতত্ত্ববিদ পেশাজীবীর পদায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
>> বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদ-নদীর গতি-প্রকৃতি সমীক্ষা, নদী শাসন, বাঁধ নির্মাণসহ পানির বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণে ভূতাত্ত্বিক ও ভূ-কারিগরী অনুসন্ধান ইত্যাদি কাজ পরিচালনায় ভূতত্ত্ববিদের পর্যাপ্ত পদ তৈরি করতে হবে।
>> খনিজ সম্পদ আহরণ, ভূ-কারিগরী ও ভূ-গর্ভস্থ পানিসহ ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট কর্মকান্ডে জড়িত এনজিওতে ভূতত্ত্ববিদ পেশাজীবী অন্তভূক্ত করা।
>> সরকারের গ্রাউন্ডওয়াটার টাস্ক ফোর্স ২০০৪, পানি সম্পদ মন্ত্রনালয় এবং অন্যান্য সুপারিশের আলোকে ভূ-গর্ভস্থ পানির যথাযথ ও টেকসই ব্যবহার, ব্যবস্থাপনা ও পর্যবেক্ষণের জন্য ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞানের হাইড্রোজিওলজিষ্ট পেশাজীবীদের তত্ত্বাবধানে একটি আলাদা ও একক প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে হবে।
>> বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের আরও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগ চালুসহ প্রাথমিক থেকে উচ্চ-মাধ্যমিক শিক্ষায় ভূতত্ত্ব বিষয় যুক্ত করতে হবে।
সমিতির সভাপতি বদরুল ইমাম বলেন, “ভূতত্ত্ববিদরা অনেক কাজ করে কিন্তু কাজের স্বীকৃতি যথাযথভাবে পায় না। সুপারিশের দিকে নজর দেওয়া হলে এবং যদি স্বীকৃতি দেওয়া হয় তাহলে উন্নয়ন কার্যক্রমটা যথেষ্ঠ এগিয়ে যাবে।”
