দুর্নীতি মামলায় আবেদপুত্র সিয়ামের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ
সিয়ামের আত্মপক্ষ শুনানির দিন রাখা হয়েছে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর।
পিএসসির প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে আলোচিত সংস্থার সাবেক চেয়ারম্যানের গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবনের ছেলে, ছাত্রলীগ নেতা সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।
ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি এম তারিকুল কবীর সবশেষ সাক্ষী হিসেবে রোববার মামলার বাদী দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক জাকির হোসেনের জবানবন্দি গ্রহণ করেন।
এরপর সিয়ামের পক্ষে তার আইনজীবী রেজাউল করিম তাকে জেরা শেষ করেন। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর আসামি সিয়ামের আত্মপক্ষ শুনানির দিন রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেঞ্চ সহকারী আরিফুল ইসলাম।
এদিন শুনানিকালে সিয়ামকে আদালতে হাজির করা হয়। সিয়ামের জামিন চেয়ে শুনানি করেন আইনজীবী রেজাউল করিম। দুদকের পক্ষে কৌঁসুলি দেলোয়ার জাহান রুমী জামিনের বিরোধিতা করেন। শুনানি নিয়ে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে দেয়।
মামলাটিতে ১১ সাক্ষীর মধ্যে ১১ জনেরই সাক্ষ্য সম্পন্ন হওয়ার কথা জানিয়েছেন বেঞ্চ সহকারী আরিফুল ইসলাম।
গত ১৭ জুন এ মামলায় সিয়ামের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় একই আদালত।
সিয়ামের বিরুদ্ধে গত বছরের ৫ জানুয়ারি মামলা করেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন। মামলায় ২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ৩৭ লাখ ৩০ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার তদন্ত শেষে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর সিয়ামের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন। তবে তদন্তে সিয়ামের জ্ঞাত আয় উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৩১ লাখ ৮১ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পান তদন্ত কর্মকর্তা।
একটি চক্র প্রায় এক যুগ ধরে পিএসসির অধীনে বিসিএসসহ বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসে জড়িত বলে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচারিত হয় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল টোয়েন্টিফোরে। সেখান ওই চক্রের ছয়জনের ছবি প্রকাশ করা হয়।
এদের মধ্যে পিএসসি চেয়ারম্যানের সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবন ও তার পরিবারের বিলাসবহুল জীবনযাপনের বিভিন্ন ছবি ফেইসবুকে ঘুরতে থাকে।
এরপর ওই চক্রের সদস্যদের ধরতে অভিযানে নামে সিআইডি। আবেদ আলী, তার ছেলে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামসহ মোট ১৭ জনকে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আবেদ আলী, তার স্ত্রী শাহরিন আক্তার শিল্পী এবং ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করে দুদক।
