হত্যাচেষ্টা মামলায় কলিমুল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন, আটকে গেল মুক্তি
দুর্নীতির মামলায় গত ১৪ জুন উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান তিনি।
ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে। ফলে কারামুক্তি আটকে গেল তার।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই মো. আবু সাঈদ মঙ্গলবার তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।
ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য দিন রেখেছেন বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই হেলাল উদ্দিন।
বুধবার নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ আইনজীবী মহসিন রেজা জানিয়েছেন, দুর্নীতির অভিযোগে করা মামলায় গত ১৪ জুন উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান তিনি।
“সোমবার আমরা জামিননামা দাখিল করি। ওইদিনই তার কারামুক্ত হওয়ার কথা। আমরা তার মুক্তির অপেক্ষায় কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে অপেক্ষা করি। কিন্তু জামিননামা কারাগারে পৌঁছানোর পর তাকে বৈষম্যবিরোধী একটা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে। আগামীকাল তার উপস্থিতিতে শুনানিতে হবে। আপাতত তার মুক্তি আটকে গেল।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে কলিমুল্লাহসহ ৫ জনকে আসামি করে গত বছরের ১৮ জুন মামলাটি দায়ের করেন দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এর সহকারী পরিচালক মিনহাজ বিন ইসলাম।
মামলার অপর আসামিরা হলেন- বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক সাবেক উপাচার্য ও প্রকল্প পরিচালক এ কে এম নূর-উন-নবী, সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী ও দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্য সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম, ঠিকাদার মো. আ. সালাম বাচ্চু এবং এম এম হাবিবুর রহমান।
গেল বছরের ৭ অগাস্ট মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে কলিমুল্লাহকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। ওইদিনই জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
গত ১৪ জুন তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান তিনি। পরবর্তীতে এক লাখ টাকা মুচলেকা ও পাসপোর্ট জমার সাপেক্ষে জামিননামা দাখিলের অনুমতি দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির। অন্য কোনো মামলা না থাকায় তিনি কারামুক্তির অপেক্ষায় ছিলেন।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই উত্তরা পশ্চিম থানার ৭ নং সেক্টরের রবীন্দ্র সরনি সড়কের উত্তর পাশে ২ নং রোডের মাথায় অবস্থান করেন ভুক্তভোগী মুস্তাঈন বিল্লাহ সাব্বির।
“ওইদিন বিকেল পৌনে ৫ টায় আসামিরা মারাত্মক অস্ত্রসজ্জিত সজ্জিত হয়ে ছাত্র-জনতার উপর অতর্কিতভাবে গুলি চালান। আসামিদের ছোড়া গুলি তার বাম হাতের কনুইয়ে লাগে৷ এতে তিনি গুরুতর জখম হয়। উপস্থিত লোকজন তাকে উত্তরা হাইকেয়ার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।”
পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য জাতীয় অর্থপেডিক হাসপাতাল ও পূর্নবাসন কেন্দ্রতে (নিটোর) ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ৪ অক্টোবর মুস্তাঈন বিল্লাহ সাব্বির বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
