সংসদের সাউন্ড সিস্টেমে সমস্যা ‘জটিল’ হয়েছে, অধিবেশন শেষে ব্যবস্থা: চিফ হুইপ
সাউন্ড সিস্টেম কেনা ও স্থাপনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে চিফ হুইপ বলেন, ৩৮ গ্রেডের মাইক্রোফোন দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয়েছে ২৫৮ গ্রেডের।
জাতীয় সংসদের সাউন্ড সিস্টেমের সমস্যা ‘জটিল আকার’ ধারণ করেছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ‘বিব্রত’ চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।
তিনি বলেছেন, অধিবেশন চলার কারণে এখনই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। তবে অধিবেশন শেষ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ‘কঠোর ব্যবস্থা’ নেওয়া হবে।
বুধবার সংসদ অধিবেশনের বিরতিতে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, “অধিবেশন চলার কারণে এখন কিছু করতে পারি নাই। আজকেও অধিবেশন আধা ঘণ্টা বিলম্ব হয়েছে। আমরা সাউন্ড সিস্টেম নিয়ে খুবই বিব্রত। সংসদ কক্ষেও এটা কাজ করে না।”
সাউন্ড সিস্টেম কেনা ও স্থাপনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “ওই সময় একটা ফ্যাসিস্ট সরকার ছিল, তারা… শুনলে অবাক হবেন, একটি নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানকে কাজের চুক্তি দেওয়া হয়েছিল। সাউন্ডের ব্যাপারে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান কী কাজে লাগতে পারে? এ কাজটা বুঝে নেবে এমন কোন লোক নিয়োগ করা হয়নি।”
চিফ হুইপের ভাষ্য, ৩৮ গ্রেডের মাইক্রোফোন দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয়েছে ২৫৮ গ্রেডের।
টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, প্রায় ৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকার প্রকল্পে কম ব্যবধানে দরপত্র দেওয়া একটি কোম্পানি কাজ না পেলেও পরে সেই কোম্পানিকে দিয়েই কাজ করানো হয়েছে।
একে “অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং চরম অনিয়ম” হিসেবে বর্ণনা করেন চিফ হুইপ।
নূরুল ইসলাম বলেন, বর্তমান অবস্থায় সাউন্ড সিস্টেম বাতিল করলে অধিবেশন কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। তাই অধিবেশন শেষ হওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংরক্ষিত নারী আসনের বিষয়ে এক প্রশ্নে নূরুল ইসলাম বলেন, রাজপথের ত্যাগীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, নারীরা আসুক। যত দ্রুত আসে তত লাভ। আমরা ফ্যামিলি কার্ড করেছি নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য। যত দ্রুত সম্ভব আমরা তাদের সংসদে নিয়ে আসার চেষ্টা করছি। প্রধানমন্ত্রী যে কোনো নারীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করতে পারেন, এমন ক্রাইটেরিয়া সংবিধানে আছে।”
কারা অগ্রাধিকার পাবেন, সে বিষয়ে তিনি বলেন, “যারা রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত এবং সংসদে ভূমিকা রাখতে পারবে, এমন বিবেচনায় আমাদের সংসদ নেতা নিশ্চয়ই ব্যবস্থা করবেন। সব মিলিয়ে একটা সিদ্ধান্ত হবে এরকমের যে, যাতে আমরা সব সেকশনকে রিপ্রেজেন্ট করতে পারি। রাজপথে ত্যাগী নেতা এবং সংসদে ভূমিকা রাখতে পারেন, এমন মানুষকেই আমরা খুঁজে বের করবো।”
সংসদে সন্ত্রাসবিরোধী আইন পাসের প্রসঙ্গেও কথা বলেন চিফ হুইপ।
তিনি বলেন, “আইন অনুযায়ী যিনি দোষ করেছেন তার বিচার হবে, যিনি নির্দোষ তার বিচার হবে না। শেখ হাসিনা বা অতীত সরকার যা করে গেছেন, যেভাবে বিচার হতে পারে, আইন অনুযায়ী বিচার হবে। একটা জিনিস স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি করি না।”
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশগুলো সংসদে বিল আকারে নিষ্পত্তির অগ্রগতি তুলে ধরে নূরুল ইসলাম বলেন, একাধিক অর্ডিন্যান্স একত্র করে বিল আকারে পাস করা হয়েছে এবং এ পর্যন্ত ৪৪টি অর্ডিন্যান্স অনুমোদন পেয়েছে। বাকি প্রক্রিয়াও শিগগিরই শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সংসদের কাজের গতি বাড়াতে শুক্রবারও অধিবেশন বসার কথা বলেন চিফ হুইপ।
সংসদীয় দলের বৈঠকের বিষয়ে নূরুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার সংসদীয় দলের বৈঠক হয়েছে এবং সামনে এমন বৈঠক আরও হবে।
পুরনো খবর-
