গোপালগঞ্জে ‘ভালো’ ভূমিকা পালন করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী: আসিফ মাহমুদ
“বাংলাদেশের মানুষ শান্তিপ্রিয়, শান্তিপূর্ণভাবেই সবকিছু রাজনৈতিক কার্যক্রম চলবে; এটাই আমরা প্রত্যাশা করি,” বলেন তিনি।
গোপালগঞ্জে এনসিপির কর্মসূচি ঘিরে যে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, তাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
তিনি বলেছেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তো আমার মতে আমি যতটুকু দেখেছি ভালো ভূমিকা পালন করেছে। এবং তারা সফলভাবে’ সেখান থেকে প্রত্যেককে ইভাকুয়েট করতে পেরেছে।
“এবং আশা করছি, আমাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের লিডারশিপে- যারা এই ঘটনাগুলো ঘটিয়েছে, অস্ত্রশস্ত্রসহ হামলা করেছে- তাদেরকে তারা গ্রেপ্তার করবে।”
বৃহস্পতিবার বিডায় আয়োজিত এক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে তিনি এ কথা বলেন।
বুধবার এনসিপির সমাবেশ ঘিরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মীদের হামলা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় গোপালগঞ্জ।
টানা ৫ ঘণ্টার ওই সংঘাতে নিহত হন অন্তত চারজন। পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আটকা পড়া এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা পরে সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যানে করে গোপালগঞ্জ ত্যাগ করেন।
প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থা ‘সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ’ নিলে গোপালগঞ্জের পরিস্থিতি এতটা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারত না বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
গোপালগঞ্জের সহিংসতার বিষয়ে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, “আমরা লক্ষ্য করেছি যে, সারাদেশ থেকে বিভিন্ন সন্ত্রাসীরা সেখানে (গোপালগঞ্জ) গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে এবং গতকালকে একটা ন্যাক্কারজনক ঘটনা সেখানে ঘটেছে।
“এটা আমরা কখনোই প্রত্যাশা করি না। আমরা চাই যে শান্তিপূর্ণভাবে…বাংলাদেশের মানুষ শান্তিপ্রিয়, শান্তিপূর্ণভাবেই সবকিছু রাজনৈতিক কার্যক্রম চলবে। এটাই আমরা প্রত্যাশা করি।”
বুধবার সন্ধ্যায় পুলিশের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ছবি জুড়ে দিয়ে আসিফ মাহমুদের ফেইসবুক পেজে বলা হয়, পরিস্থিতি মোকাবেলায় তিনি, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানরা প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।
নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে কী জানতে পারলেন, কতজন গ্রেপ্তার হয়েছে- এমন প্রশ্ন করা হলে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, “এটা নিয়ে হোম মিনিস্ট্রি কাজ করছে। যদি হোম মিনিস্ট্রির কাছে এ প্রশ্নটা করেন, দে ক্যান… ডিটেইলে আপনার আন্সারটা পাবেন।”
গোপালগঞ্জে যারা হামলা চালিয়েছে, তাদের গ্রেপ্তারে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছেন এনসিপি নেতা নাহিদ।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, “মিনিস্ট্রিকে এই প্রশ্নটা করেন। মানে কনসার্ন মিনিস্ট্রিকে না করলে তো, একটু মুশকিল হয়ে যায়।”
এনসিপি গোপালগঞ্জে না গেলে এ সংঘাত এড়ানো যেত বলে সোশাল মিডিয়ায় অনেকেই মত তুলে ধরেছেন।
সাংবাদিকরা এ নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এই বিষয়টা আর আমার বিষয় না, এটা এনসিপিকে প্রশ্ন করলে ভালো হয়।”
আওয়ামী লীগের পেইজ ‘টেকডাউন’র অনুরোধ
আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলেও সোশাল মিডিয়ায় তাদের পেইজ সরব রয়েছে। এসব পেইজের বিরুদ্ধে সরকার কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না- এমন প্রশ্ন রাখা হয়েছিল প্রধান উপদেষ্টার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের কাছে।
জবাবে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আসলে প্ল্যাটফর্ম লায়াবিলিটির জন্য বাংলাদেশে পার্সোনাল ডেটা প্রটেকশন আইন নেই। এটা একটা সীমাবদ্ধতা। আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি। আর দ্বিতীয় যে বিষয়টা, আসলে সরকারের প্লাটফর্মে গিয়ে কন্টেন্ট রিমুভ করে দেওয়ার ক্ষমতা সরকারের নেই। আমরা বিটিআরসির মাধ্যমে প্লাটফর্মগুলোকে এই বিষয়টা জানিয়েছি। কিন্তু আমরা তাদের সহযোগিতার প্রত্যাশায় রয়েছি।
“সরকার প্লটফর্মে গিয়ে কন্টেন্ট রিমুভ করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে না এবং সরকারের সেই মেকানিজমও নেই। আমরা যেটা করতে পারি বাংলাদেশের আইনে প্লাটফর্মগুলোকে রিকোয়েস্ট করতে পারি। যেমন মেটা এবং গুগলসহ অন্যদেরকে রিকোয়েস্ট করতে পারি যে- ‘তোমরা এই কাজটা করো’। তবে তারা এটা করতে বাধ্য নয়। এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশের কোন আইনে তারা বাধ্যতাকতা নেই।”
কোন পেইজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্লাটফর্মগুলোকে বলা হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, “কোনো পেইজের বিপরীতে আমরা স্পষ্টভাবে করিনি। তবে স্বাভাবিকভাবে বাংলাদেশের প্রজ্ঞাপনে যেটা বলা হয়েছে যে, এরা সন্ত্রাসী সংগঠন এবং এদের পেজগুলোকে টেকডাউন করার ব্যাপারে জানানো হয়েছে। কিন্তু আমরা তাদের মতামতের রেসপন্সের অপেক্ষা করছি।”
