ছবি ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র নয়: হাই কোর্ট
“নির্বাচন কমিশন আইনতগতভাবে ছবি ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র ইস্যু করতে পারে না; যে কারণে রুলটি খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।”
ছবি ব্যবহার না করে ‘বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণ’ পদ্ধতিতে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না—জানতে চার বছর আগে জারি করা রুল খারিজ করে দিয়েছে হাই কোর্ট।
বুধবার চূড়ান্ত শুনানির পর বিচারপতি মো. ইকবাল কবির ও বিচারপতি এস এম সাইফুল ইসলামের বেঞ্চ এ রায় দেন।
আদালতে রুলের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী শেখ ওমর শরীফ ও আইনজীবী ইলিয়াছ আলী মন্ডল। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কামাল হোসেন মিয়াজী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মো. আরিফুর রহমান।
রায়ের পর ইসির আইনজীবী কামাল বলেন, “ছবিসহ এনআইডি হয়—এটাই আইনের বিধান। এর পেছনে আইনি ভিত্তি হচ্ছে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন আইন ২০১০, ভোটার তালিকা আইন ২০০৯ এবং জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন বিধিমালা ২০১৪। এই তিনটি আইন এবং বিধিমালা অনুসারে ছবি ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র ইস্যু করার সুযোগ নেই।”
কামাল হোসেন মিয়াজী বলেন, “ছবি ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে—এমন কোনো বিধান রিট আবেদনকারী দেখাতে পারেননি। তাছাড়া ছবি ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার আইনগত অধিকার রয়েছে, রিটকারী পক্ষ তাও দেখাতে পারেনি।
“কিন্তু আমি দেখিয়েছি, নির্বাচন কমিশন আইনতগতভাবে ছবি ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র ইস্যু করতে পারে না; যে কারণে রুলটি খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। ফলে রিট আবেদনকারী ছবি ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র পাচ্ছেন না। জাতীয় পরিচয়পত্রে বায়োমেট্রিক ফিচারস ছবির বিকল্প হতে পারে না।”
রিট আবেদনকারীর আইনজীবী শেখ ওমর শরীফ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রুল খারিজের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে।”
ছবি ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র চেয়ে ২০২২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেন ঢাকার শাহজাহানপুর শান্তিবাগের বাসিন্দা সুমাইয়া আহমাদ মুনা।
আবেদনে বলা হয়, তিনি একজন প্রাপ্তবয়স্ক পর্দানশীন নারী। শরীয়তের হুকুম আহকাম নিয়মিত পালন করেন। এ কারণে কোনো ছবি তিনি তোলেন না এবং এই কারণে তার পরিচয়পত্র নাই। আর জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকার কারণে তিনি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এ অবস্থায় ছবি ছাড়া বিকল্পপন্থায় জাতীয় পরিচয়পত্র পেতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ চেয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন তাতে সাড়া না দেওয়ায় হাই কোর্টে রিট মামলা করেন সুমাইয়া আহমাদ মুনা। ওই বছরের ৬ মার্চ রিট মামলার প্রাথমিক শুনানির পর রুল দেয় হাই কোর্ট। বুধবার সেই রুল খারিজ করে রায় দেওয়া হয়।
