জাইমার জাতিসংঘে চাকরির সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক নেই: মাহদী আমিন
জাইমা রহমান নিজ যোগ্যতায় এ চাকরি পেয়েছেন বলে মত দেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমানের চাকরির পাওয়ার সঙ্গে সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে সরকার প্রধানের নিউ ইয়র্ক সফর নিয়ে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।
জাইমাকে নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন বলেন, “বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বা মিস্টার খলিলুর রহমানের অফিসে তো উনার (জায়মা রহমান) চাকরি হয়নি। উনার চাকরিটা হয়েছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির কার্যালয়ে।
“এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার সাথে বাংলাদেশের নূন্যতম কোনো সম্পৃক্ততা নেই। জাতিসংঘের রুলস, রেগুলেশনস এবং প্রসিজিউর অনুযায়ী যে এক্সিকিউটিভ অফিস রয়েছে, তার আন্ডারে যে হিউম্যান রিসোর্স টিম রয়েছে, উনারাই সব ধরনের রিক্রুটমেন্ট এবং অ্যাপয়েন্টমেন্ট করে থাকেন। এ ক্ষেত্রে সেটাই হয়েছে। যে কেউ চাইলে জাতিসংঘে সেটা পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। এখানে উনার (জায়মা রহমান) অ্যাপয়েন্টমেন্ট প্রসিজিউর, ফাইনান্সিয়াল বেনিফিট সবকিছু জাতিসংঘ করবে। এর সাথে সরকারের নূন্যতম কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”
জাতিসংঘের ওয়েবসাইটেও এ বিষয়গুলো পরিষ্কারভাবে দেওয়া বর্ণনা করে মাহদী আমিন বলেন, “উনি (জাইমা রহমান) যেই পজিশনে অ্যাপ্লাই করেছেন এবং নিজ যোগ্যতায় নিজ মেধার ভিত্তিতে পেয়েছেন সেটা হচ্ছে পি-থ্রি পজিশন। জাতিসংঘ প্রসিজিউরে পি-ওয়ান মানে প্রফেশনাল ওয়ান। সেটা হচ্ছে নিউ গ্রাজুয়েট ধরনের জব। পি-টু প্রফেশনাল লেভেল টু। সেটার জন্য দুই বছর অভিজ্ঞতা লাগে।
“প্রফেশনাল লেভেল থ্রি কে বলা হয় পি-থ্রি, যেটা পাঁচ বছর অভিজ্ঞতা লাগে। তারপর পি-ফোর, পি-ফাইফ, তারপর আরও উপরে ডিরেক্টর লেভেল, তারপর আরও সিনিয়র পজিশনস রয়েছে। জাইমা রহমান যে পজিশনটার জন্য গিয়েছেন সেটা হচ্ছে, পি-থ্রি লেভেল। এটা মিড লেভেল প্রফেশনাল পজিশন। উনার যা প্রোফাইল তার সাথে এটা ম্যাচ করে।”
নিজ যোগ্যতায় নিজ মেধায় একজন মানুষ জাতিসংঘে উনার মতন করে প্রতিনিধিত্ব করছেন, তার পেশাগত ক্যারিয়ারের জন্য এটাকে সবার সাধুবাদ জানানো উচিত বলেও মত দেন তিনি।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে এখন দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমান। জাতিসংঘের ওয়েবসাইট অনুযায়ী ব্যারিস্টার জাইমা রহমান লিগ্যাল অফিসার হিসেবে সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে এক্সিকিউটিভ অফিসের অধীনের কাজ করবেন।
মাহদী আমিন বলেন, “অতীতে আমরা যে ধরনের রাজনৈতিক বা পারিবারিক প্রভাব খাটিয়ে আন্তর্জাতিক মিশনে পদায়ন কিংবা প্রতিনিধিদলে অন্তর্ভুক্তির সংস্কৃতি দেখেছি, তিনি কিন্তু সেভাবে যাননি। তিনি বাংলাদেশ সরকারি প্রতিনিধিদলেরও কোথাও সম্পৃক্ত হননি। নিজের মেধার জোরে আন্তর্জাতিক পরিসরে এমন একটি অবস্থানে পৌঁছানোকে আমাদের বরং সাধুবাদ জানানো উচিত। এই ধরনের সফলতাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো কোনওভাবেই কাম্য নয়।”
