২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

অবরোধে অচল ঢাকার সড়কে পদে পদে ভোগান্তি

“আমি প্রেগন্যান্ট। এই গরমে কীভাবে হেঁটে যাব? একটা রিকশাও পাচ্ছি না,” বলেন এক পথচলতি নারী।

অবরোধে অচল ঢাকার সড়কে পদে পদে ভোগান্তি
সকাল থেকে ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থান নেন কোটাবিরোধীরা। এতে বন্ধ হয়ে যায় এই মোড়ে সংযুক্ত সব সড়কে যান চলাচল।

রিফাত পারভীন

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 10 Jul 2024, 09:22 PM

Updated : 26 Aug 2026, 09:58 AM

ভ্যাপসা গরমের রোদ্রোজ্জ্বল দুপুরে ঢাকার শ্যামলী শিশু মেলার সামনে দেখা গেল জটলা করে দাঁড়িয়ে থাকা ঘামে ভেজা পনের-বিশজন মানুষ। ঘর থেকে বেরিয়ে এখানে এসেছেন গন্তব্যে পৌঁছানোর গাড়ি ধরার জন্য। আধা ঘণ্টা থেকে কেউ কেউ তারও বেশি সময় বাসের জন্য অপেক্ষা করে আছেন। বাস আসছে না।

তাদের অনেকে জানেন বুধবার কোটাবিরোধীদের অবরোধ, কেউ কেউ বললেন- তাদের জানা ছিল না। তবে এই অবরোধে একেবারেই যে গণপরিবহন পাওয়া যাবে না, বিশেষ করে বাস চলবে না, তা তাদের ধারণাতেও ছিল না। ফলে রাস্তায় নেমে দিশেহারা অবস্থায় পড়েছে তারা।

অটোরিকশা, পায়ে টানা রিকশা, ভাড়ায় খাটা মোটরসাইকেল দেখা যাচ্ছে, কিন্তু চড়া ভাড়া হাঁকানোয় আবার ফিরে এসে দাঁড়াচ্ছে বাস থামার জায়গায়। সেখানে অপেক্ষায় থাকাদের মধ্যে কেউ অন্তঃসত্ত্বা, কেউ রোগী, কেউবা জরুরি কাজে কোনো না কোনো গন্তব্যে যেতে চান। অনন্যোপায় এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হতে দেখা গেল। 

অ্যাম্বুলেন্স আর জরুরিসেবায় নিয়োজিত গাড়ি ছাড়া কাউকে ছাড় নয়- অবরোধীকারীদের এমন মানসিকতায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা থমকে থাকতে দেখা গেল শ্যামলী এলাকার সব সড়ক। এমন চিত্র পুরো ঢাকায়, গাবতলী থেকে যাত্রাবাড়ী, সদরঘাট থেকে আবদুল্লাহপুর; সব বাসস্ট্যান্ডে ও সব মোড়ে অপেক্ষমাণ মানুষ কিন্তু পরিবহন নেই। 

দিনটি যেন অন্যরকম। ফার্মগেট, কাওরানবাজার, শাহবাগ, সায়েন্সল্যাব, মিরপুর রোড, সাতমসজিদ রোডে অন্যান্য দিন যেমন যানজট পরিস্থিতি দেখা যায়, বুধবার ছিল ব্যতিক্রম চিত্র।

কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড দিয়ে সড়কে সড়কে ছড়িয়ে ছিটিয়ে অবস্থান নেন। আর পথে বেরিয়ে বিপদে পড়া মানুষ ফুটপাত ধরে হেঁটে যে যার গন্তব্যে ছুটছেন।

সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে টানা কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বুধবার সকাল থেকে রাস্তায় নামেন আন্দোলনরত চাকরিপ্রত্যাশী শিক্ষিত তরুণ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ১০ থেকে ঢাকার সব সড়কে অবরোধ শুরু করেন তারা। তাতে দুর্ভোগের শিকার হওয়ার কথা শোনা যায় পথচলতি মানুষের মুখে।

অবরোধ চলার মধ্যেই বুধবার সর্বোচ্চ আদালত কোটা নিয়ে স্থিতাবস্থা জারি করলেও সংসদে আইন পাস করে কোটাব্যবস্থার ‘যৌক্তিক’ সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যান শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা। ফলে বিকাল পর্যন্ত ঢাকার সড়ক স্থবির থাকতে দেখা যায়।

সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে বলা হয়, বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে আবারও সড়কে নামবে তারা। সরকারের নির্বাহী বিভাগ থেকে দাবি পূরণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেলে তবেই তারা আন্দোলন থেকে সরবে। 

তাদের দাবি হল- শুধু পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ কোটা রেখে সরকারি চাকরির সকল গ্রেডে সকল ধরনের কোটা বাতিল করতে হবে।

শাহবাগ মোড় অবরোধ করায় বারডেম হাসপাতাল থেকে এক রোগীকে নিয়ে তার স্বজনকে এভাবেই রাস্তা পার হতে দেখা যায়। 

শাহবাগ মোড় অবরোধ করায় বারডেম হাসপাতাল থেকে এক রোগীকে নিয়ে তার স্বজনকে এভাবেই রাস্তা পার হতে দেখা যায়।

শ্যামলীর শিশু মেলা থেকে আগারগাঁও মোড়ে গিয়ে দেখা যায় সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। সাধারণ যে কোনো কার্যদিবসে শ্যামলী মোড়ে বাসের জটলা দেখা যায়, আগারগাঁও মোড়েও পাওয়া যায় অহরহ গাড়ি। তবে বুধবার সেই অবস্থা ছিল না দুটি জায়গার কোনোটিতেই।

আগারগাঁও মোড়ে ভাড়ার মোটরসাইকেলের এক আরোহীকে দেখা গেল নেমে আন্দোলনকারীদের কাছে অনুরোধ করছেন, তাকে যেন যেতে দেন। তখন এক শিক্ষার্থীকে বলতে শোনা গেল, “আপনাদের জন্যই ভালো কিছু করা সম্ভব হয় না। আমরা ভালোর জন্যই আন্দোলন করছি। মন খারাপ কইরেন না, আমরা অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি গাড়ি ছাড়া কাউকেই যেতে দিচ্ছি না।”

কাছে এগিয়ে গেলে ওই মোটরসাইকেল আরোহী নাম প্রকাশ না করে বিডিনিজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বললেন, “খুব জরুরি কাজ। এফডিসিতে যেতে হবে। আর কতক্ষণ বসে থাকব। এত দূর, হঁটেও তো যাওয়ারও উপায় নেই।” 

শ্যামলী রোডে গণপরিবহন ছিল না বললেই চলে। তবে দুপুরে হেঁটে চলা মানুষের স্রোত তৈরি হলে হঠাৎ শিশু মেলার আশপাশে রিকশার জট দেখা যায়।

শ্যামলী রোডে গণপরিবহন ছিল না বললেই চলে। তবে দুপুরে হেঁটে চলা মানুষের স্রোত তৈরি হলে হঠাৎ শিশু মেলার আশপাশে রিকশার জট দেখা যায়।

পথের চিত্র

আগারগাঁও লিংক রোড মোড়ে রিকশা খুঁজছিল রাসনা নামে এক নারী। শাহবাগ থেকে মেট্রোরেলে প্রায় আধাঘণ্টা আগে এসেছেন এখানে, যাবেন মোহাম্মদপুর। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “আমি প্রেগন্যান্ট। এই গরমে কীভাবে হেঁটে যাব। একটা রিকশাও পাচ্ছি না। যা দু-একটি যেতে চাইছে, তারা ৫০ টাকার ভাড়া চাচ্ছে ২০০ টাকা।”

মিনিট দশেরক পর দেখা গেল, অপেক্ষায় থাকা অপরিচিত আরেক নারীর সঙ্গে একটি রিকশায় ভাড়া ভাগাভাগি করে গন্তব্যের দিকে রওনা দিলেন তিনি।

মোমেনুল হক আগারগাঁও থেকে যাবেন গুলিস্তান। তাকে দেখা গেল একজন মোটসাইকেল চালকের সঙ্গে কথা বলছেন। তার সঙ্গে কথা হল, তিনি বললেন, ভাড়া নিয়ে চালকের সঙ্গে ১০ মিনিটেরও বেশি সময় দরকষাকষি করছেন। আড়াইশ টাকার নিচে যাবেন না। বাসা থেকে এখানে আসতে গেছে ১৫০টাকা। গুলিস্তান তার যাওয়া হল কিনা, পরে তা আর জানা যায়নি।

পরিবহন না পেয়ে অনেকের মত রোদে পুড়ে, ভ্যাপসা গরমে কষ্ট ভোগ করার কথা শোনালেন বেসরকারি চাকরিজীবী আব্দুল হাকিম। বুধবার সকালে পলাশী থেকে পল্টনে এসেছেন কিছু পথ হেঁটে, কিছুটা রিকশায় চড়ে। পল্টন মোড়ে আসার আগেই কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের জন্য তাকে রিকশা থেকে নেমে যেতে হয়।

দুপুর ১২টার দিকে পল্টন মোড়ে অবস্থান নেয় আন্দোলনকারীরা। এই মোড়ে সংযুক্ত চার দিকের সড়কে দড়ি দিয়ে ব্যারিকেড দিয়ে দেয় তারা। পুলিশও দড়ি ডিঙায়নি। দড়িটানা ব্যারিকেডের ওপারে দাঁড়িয়েই মোড়ের দিকে আসা সব যানবাহনকে উল্টোপথে ফিরিয়ে দিতে দেখা যায় পুলিশকে।

পথে নেমে বিপদে পড়া আব্দুল হাকিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পল্টনে অফিসের কাজে এসেছিলাম। মনে ছিল না আজকে ‘হরতাল’ (ব্লকেড) ডেকেছে। এখন মহাখালী আরেকটি ডকুমেন্ট জমা দিতে যেতে হবে, কীভাবে যাব বুঝতে পারছি না। বাস নেই, মোটরসাইকেলে অনেক ভাড়া চায়।’’

মরিয়ম হক ছেলেকে নিয়ে শ্যামলী থেকে মহাখালী এসেছেন ৫০০ টাকা খরচ করে। কিছুটা পথ হেঁটে, কিছুটা রিকশা ও বাকি পথ সিএনজিচালিতে অটোরিকশায় এসেছেন তারা। 

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে মরিয়ম হক বলেন, “শ্যামলী লিংক রোড পার হতে রিকশাওয়ালা নিল ১০০ টাকা আর বিজয়সরণি থেকে আমতলি মোড় পর্যন্ত আসলাম ২০০ টাকা সিএনজি ভাড়া দিয়ে।”  

কারওয়ান বাজার রেলাক্রসিং অবরোধ করে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা।

কারওয়ান বাজার রেলাক্রসিং অবরোধ করে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা।

কাজের প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়া ঢাকাবাসীকে ‘বাংলা ব্লকেড’ ভুগিয়েছে দিনভর। হাসপাতালে আসা রোগীদেরও রেহাই মেলেনি। 

ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) এসেছিলেন পারভীন। গাউছিয়ার বাসিন্দা বেশ সকালেই শ্যামলী পৌঁছে হাসপাতালে যান। কিন্তু দুপুর ২টার দিকে বাস না পেয়ে আগারগাঁওয়ের ফুটপাত ধরে হাঁটছিলেন তিনি। 

মধ্যবয়সী পারভীন বলেন, “হাজার হাজার মানুষ হাঁটছে। মাথার ওপর সূর্য। এমন রোদ আর গরমে কীভাবে গাউছিয়া পৌঁছব, চিন্তায় পড়েছি। হঠাৎ এমন দুর্ভোগ হবে ভাবতেও পারিনি। রিকশা চলতে দেখছি কিন্তু এত ভাড়া তাতে আর ওঠা যাচ্ছে না। দেখি, কিছু দূর হেঁটে; কোনো বাস পাওয়া যায় কিনা।”

সকালে খুলনা থেকে ঢাকায় এসে মিরপুরে এক আত্মীয়ের বাসায় উঠেছেন আজহার আলী। মধ্যবয়সী এই ব্যক্তি বললেন, ঢাকায় এসে ‘বিপদে’ পড়ে গেছেন। মহাখালী পর্যন্ত হেঁটে যেতে কতক্ষণ লাগবে, তা জিজ্ঞেস করতে দেখা গেল কয়েকজনের কাছে। এরই মধ্যে তার মেয়ে মোবাইল ফোনে কল করে বাবার খোঁজ নিচ্ছেন। মিনিট দশেক আগারগাঁও থেকে মহাখালীর পথে হাঁটার পর ফোনে মেয়ের পরামর্শেই ফের উল্টো পথে মিরপুরের দিকে যাত্রা শুরু করেন তিনি।

ডেমরা থেকে মেশিনের পার্টস কিনতে শেওড়া পাড়ার উদ্দেশে বের হয়েছিলেন রাকিব, বয়স ৩০-৩৫ বছর হবে। রাস্তাঘাট বন্ধ থাকায় বেশ বিপদে পড়েছেন, বললেন, “কী আর করার আছে! রিকশায় আগারগাঁও থেকে ৭০ টাকা চায়। হাঁটা শুরু করেছি। কাজ সেরে আবার যেতে হবে নারায়ণগঞ্জে। দেখি, বিকালে কী হয়!”

রিকশাচালক শহীদুল ইসলামের সঙ্গে কথা হল। তাকে বেশ চনমনে মনে হল। জানতে চাইলে বললেন, গণপরিবহন বন্ধ থাকায় আজ (বুধবার) তাদের কাটতি রয়েছে বেশ। শ্যামলী থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ৪০-৫০ টাকা ভাড়া নিচ্ছেন।

সায়েন্সল্যাবে দেখা যায়নি কোনো বাস-গাড়ি।  ছোট্ট শিশু কোলে নিয়ে এক মাকে রোদে পুড়ে হেঁটে যেতে দেখা যায়। 

সায়েন্সল্যাবে দেখা যায়নি কোনো বাস-গাড়ি।  ছোট্ট শিশু কোলে নিয়ে এক মাকে রোদে পুড়ে হেঁটে যেতে দেখা যায়।

অন্যান্য সড়কে গাড়ি খুবই কম দেখা গেলেও তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা থেকে মহাখালী পর্যন্ত ছিল ব্যতিক্রম; পুরো রাস্তায় যানবাহনের জটলা। বাসও দেখা গেল। তবে যাত্রীরা বিরক্তি প্রকাশ করলেন বেশি ভাড়া দিতে বাধ্য হওয়ায়।

সাজ্জাদ নামে এক তরুণ বলেন, “যানজটের কারণে আমিও নেমে যাই মহাখালী বাস টার্মিনালের কাছে। এরপর হেঁটে রেলগেইটে আসি। জ্যামের কারণে ভাড়া বেশি চাওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে বাসের হেলপারদের কথা কাটাকাটিও হচ্ছে।”

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর সরকারি চাকরিতে নারী কোটা ১০ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ এবং জেলা কোটা ১০ শতাংশ বাতিল করে পরিপত্র জারি করে সরকার।

ওই পরিপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০২১ সালে হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান অহিদুল ইসলামসহ সাতজন।

গত ৫ জুন সেই আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাই কোর্ট বেঞ্চ কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয়। পরে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে।

বাসে করে এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে ফার্মগেটে আসা যাত্রীরা এভাবে কষ্ট শিকার করে নামতে বাধ্য হয়।

বাসে করে এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে ফার্মগেটে আসা যাত্রীরা এভাবে কষ্ট শিকার করে নামতে বাধ্য হয়।

হাই কোর্টের রায়ের পর থেকেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে আন্দোলনে নামেন চাকরিপ্রত্যাশী তরুণরা। ১ জুলাই থেকে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ ব্যানারে তারা কোটা বাতিলসহ চার দফা দাবিতে বিক্ষোভ করছিলেন।

এর অংশ হিসেবে রবি ও সোমবার ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় অবরোধ করে তারা ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করেন। তাদের অবরোধের কারণে শহরজুড়ে ব্যাপক যানজটে নাকাল হতে হয় নাগরিকদের।

এর মধ্যেই কোটার মামলায় আন্দোলনকারী দুই শিক্ষার্থী পক্ষভুক্ত হয়েছেন। বুধবার পৃথক দুটি আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ বুধবার স্থিতাবস্থা জারির আদেশ দেয়।

তবে শাহবাগে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, কোটা সংস্কারের বিষয়ে সরকারের আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।

বিএনপিসহ সমমনা বিভিন্ন দল শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রত্যাশীদের এ আন্দোলনে সমর্থন দিচ্ছে। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে এই আন্দোলনকে বলা হচ্ছে ‘অযৌক্তিক’।