দাবি পূরণের ‘আশ্বাসে’ পরিবহণ ধর্মঘট কর্মসূচি প্রত্যাহার
“সরকারকে জিম্মি করে কোনো কিছু আদায় করা উচিৎ নয়,” বলেন শিমুল বিশ্বাস।
বাণিজ্যিক মোটরযানের ‘অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল’ ৩০ বছর করাসহ আট দফা দাবি পূরণের ‘আশ্বাস’ মঙ্গলবার থেকে ডাকা তিন দিনের পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ।
রোববার বিদ্যুৎ ভবনের বিজয় হলে সড়ক পরিবহণ উপদেষ্টার সঙ্গে সমন্বয় পরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানিয়ে সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান সাংবাদিকদের বলেন, “পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের দাবিগুলো যৌক্তিক পর্যায়ে বিবেচনা করবো। মালিকেরা আমাদের কথায় আশ্বাস পেয়েছেন, ফলে তাদের ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছেন।”
এক প্রশ্নের জবাবে শ্রমিক নেতা বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, “সরকারকে জিম্মি করে কোনো কিছু আদায় করা উচিৎ নয়। সরকারের সব সিদ্ধান্ত আইনানুগ প্রয়োগ হবে। আমাদের যুক্তিসংগত দাবিগুলো একাধিক বৈঠক করে সরকার আমলে নিয়েছে। তাই আমরা ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলাম।”
এর আগে ২৭ জুলাই জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পরিবহন মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ ৮ দফা দাবি জানায়। দাবি পূরণ না করলে ৭২ ঘণ্টার জন্য সব ধরনের বাণিজ্যিক পরিবহন বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় সমন্বয় পরিষদ।
পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর ৯৮ ও ১০৫ ধারাসহ সুপারিশকৃত ধারাগুলো সংশোধন, বাণিজ্যিক মোটরযানের ‘অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ২০ ও ২৫ বছর থেকে বৃদ্ধি করে ৩০ বছর করা, সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ২০ ও ২৫ বছরের পুরাতন গাড়ির বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এর অভিযান স্থগিত রাখা, বাজেটে আরোপিত দ্বিগুণ অগ্রিম আয়কর কমিয়ে আগের মতো বহাল রাখা, রিকন্ডিশন বাণিজ্যিক যানবাহন আমদানির মেয়াদ ৫ বছর থেকে ১২ বছর করা, দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি থানায় আটক হলে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মালিকের জিম্মায় দেওয়ার বিধান, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহনের জন্য স্ক্র্যাপ নীতিমালা প্রণয়ন, মহাসড়কে তিন চাকার যানবাহন ও বিআরটিএ অনুমোদনবিহীন হালকা যানবাহনের জন্য পৃথক লেনের ব্যবস্থা, নতুন ড্রাইভিং লাইসেন্স ও নবায়ন করা লাইসেন্স দ্রুত সরবরাহ এবং শ্রমিক ফেডারেশনের ১২ দফা দাবি বাস্তবায়ন।
সোমবারের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে তিন দিনের ধর্মঘটের কর্মূচি দেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম।
মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে এই ধর্মঘট শুরু হয়ে শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত চলার কথা ছিল।
তার আগে রোববার বৈঠক করে তাদের দাবিগুলোর বিষয়ে আলোচনা এবং সমাধানের জন্য প্রক্রিয়া শুরুর আশ্বাস দেন সরকারের উপদেষ্টা।
বৈঠকে সভাপতি করছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান।
এছাড়া প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী শেখ মইনউদ্দিন, সড়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব এহছানুল হক, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
