২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

‘পরনির্ভরশীল রাষ্ট্রের’ পর্যায়ে কখনও ফিরে যাব না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

“জুলাইয়ের শহীদ, জুলাইয়ের আহত, তারা আমাদের যে ঐতিহাসিক দায়িত্ব দিয়েছেন, সেটা পালনের সক্ষমতা আমাদের আছে,” বলেন খলিলুর রহমান।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 Aug 2026, 07:40 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:47 PM

জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ‘পরনির্ভরশীল রাষ্ট্র’ (ক্লায়েন্ট স্টেট) পর্যায় থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছে বলে মন্তব্য করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেছেন, সে অবস্থার দিকে তারা আর কখনও ফেরত যাবেন না।

বুধবার জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, “কিছুকাল আগে আমাকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন, ‘বাংলাদেশ একসময় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল থেকে হারিয়ে যাচ্ছিল, সেই বাংলাদেশ ফিরে আসছে দেখে আমরা খুব আনন্দিত’। আজ যেটা আমাদের প্রধানমন্ত্রী মহোদয় জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধনের সময় বলেছিলেন, জুলাই যে আন্দোলন, তার একটা বড় বিষয়ই হচ্ছে যে, আমরা বাংলাদেশকে একটা 'ক্লায়েন্ট স্টেট' হিসেবে দেখতে চাই না।

“এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যে কথাটি বললেন, সেটা সেই একই কথার প্রতিধ্বনি। শুরু থেকেই আমাদের সরকারের পররাষ্ট্রনীতির সবচাইতে বড় দিক হচ্ছে— বাংলাদেশ ফার্স্ট, বাংলাদেশ প্রথম। আমরা সেই 'ক্লায়েন্ট স্টেট', সে পর্যায়ে কখনো ফিরে যাব না।”

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও কূটনীতিকদের এক্ষেত্রে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাই সংগ্রামের যে সাফল্য, সে সাফল্যের একটা ভার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপরে পড়েছে। 

“এবং সেই ভার আমাদেরকে বহন করতে হবে। পরনির্ভরশীল রাষ্ট্রের পর্যায়ে যাতে আমরা কখনও ফিরে না যাই, সেক্ষেত্রে কাজের সম্মুখসারিতে রয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ই।”

ফেব্রুয়ারিতে সরকার গঠনের পর অল্প কিছুদিনের প্রচারে জুনে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে ‘প্রথম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ’ হওয়ার কথা বক্তৃতায় তুলে ধরেন খলিলুর রহমান।

তিনি বলেন, “জুলাইয়ের শহীদবৃন্দ, জুলাইয়ে যারা আহত হয়েছেন, তারা আমাদেরকে যে ঐতিহাসিক দায়িত্বটা দিয়ে গেছেন, সেটা পালন করার মতন সক্ষমতা আমাদের আছে। 

“শুধু সক্ষমতা না, আমাদের স্পৃহা এবং ইচ্ছাটাও আছে, সেটা আমরা এই ইউএনজিএ-র ইলেকশনে দেখেছি। এই জিনিসটা আমাদেরকে আগামীতে জারি রাখতে হবে।”

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের রোহিঙ্গা সমস্যা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয় সংক্রান্ত হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

ওই সময়ে হাই রিপ্রেজেন্টেটিভের দায়িত্ব পাওয়ার পর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাতের আগেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জুলাই আন্দোলনে আহতদের দেখতে যাওয়ার অভিজ্ঞতার কথা বলেন খলিলুর রহমান।

তিনি বলেন, হাসপাতল থেকে ফিরে এসে তিনি মুহাম্মদ ইউনূসকে বলেছিলেন, ‘স্যার, আমরা যেন কখনো না ভুলে যাই যে আমরা কী অবস্থায়, তাদের রক্তের ওপর হেঁটে এসে এখানে বসেছি’।

“এই কথাটি যেন আমরা সবাই মনে রাখি। আমাদের এই ছেলেমেয়েগুলো, দুরন্ত ছেলেমেয়েগুলো প্রবল একটা লড়াইয়ে একটা ভয়ংকর দানবের হাত থেকে দেশটাকে ছিনিয়ে এনেছে। এনে আমাদের হাতে দিয়েছে।”

কর্মকর্তাদের আহ্বান জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা আমাদের মায়া দিয়ে, ভালোবাসা দিয়ে, আমাদের কাজ দিয়ে, আমাদের ডেডিকেশন দিয়ে, আমাদের মেধা দিয়ে, প্রজ্ঞা দিয়ে যেন এই দেশটাকে আগলে রাখতে পারি, এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি।”

অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্বের সময়ে প্রধান তিনটি চ্যালেঞ্জ থাকার কথা তুলে ধরে খলিলুর রহমান বলেন, “একটা হচ্ছে উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তার কিছু হলে এই পুরো বিষয়টি অন্যদিকে চলে যেতে পারত। 

“দ্বিতীয় হচ্ছে, সরকারের স্থিতিশীলতা রক্ষা করা। এবং তিন নম্বর বিষয়টি ছিল এই পুরো ট্রানজিশন, এটা যেন একটা ভালো নির্বাচনের মাধ্যমে সমাপ্ত হতে পারে। তিনটি বিষয়ই আমরা করতে পেরেছি।”

অনুষ্ঠানে শুরুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) মু. নজরুল ইসলাম এবং ফরেন সার্ভিস একাডেমির রেক্টর মুহাম্মদ আব্দুল মুহিত বক্তব্য দেন।