২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের সামনে জুলাই অভ্যুত্থানে আহতদের অবস্থান

“সমন্বয়কদের কেউ আমাদের সঙ্গে দেখা করেনি, কোথাও না কোথাও তো আমাদের যেতে হবে। আমরাও তো এই দেশের নাগরিক। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আমরা আহত হয়েছি।”

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 03 Feb 2025, 02:14 AM

Updated : 10 Sep 2026, 12:31 PM

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহতরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে মধ্যরাতে রাজধানীর মিন্টো রোডে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান নিয়েছেন। 

বিক্ষোভকারীদের শান্ত করতে রোববার রাত ১২টার দিকে সেখানে যান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ। 

তিনি বিক্ষোভকারীদের সুচিকিৎসার জন্য আশ্বাস দিলেও হট্টগোল আর চিৎকারের কারণে ভালোভাবে কথাও বলতে পারেননি। 

উন্নত চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি নিয়ে শনিবার থেকে রাজধানীর শ্যামলীতে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালের সড়কে বিক্ষোভ করছিলেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহতরা। 

রোববার বেলা ১১টায় তারা সেখান থেকে সরে শ্যামলীর শিশুমেলার মোড়ে সড়কে বসে পড়েন। সেখান থেকে সন্ধ্যা ৭টার দিকে তারা রওনা হন প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের দিকে।

সেখানে যাওয়ার পথে রাত পৌনে ৯টার দিকে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে তাদের আটকে দেয় পুলিশ। 

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আহত আরিফুর ইসলাম তনয় সে সময় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা রাত ৮টার কিছু পরে এখানে এসেছি। এখন ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে আছি। পুলিশ ব্যারিকেড দিয়েছে। 

“এখনও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সামনে যেতে পারিনি। পুলিশের সঙ্গে আমাদের কথা হচ্ছে।”

এরপর সেখানে বসেই বিক্ষোভ শুরু করেন শতাধিক আন্দোলনকারীরা। রাত পৌনে ১২টার দিকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনের ব্যারিকেড ভেঙে তারা যমুনার দিকে এগিয়ে যান।  

সেনাবাহিনীর সদস্যরা তখন ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকানোর চেষ্টা বাধা পেরিয়ে মিন্টো রোডের তিন রাস্তার মোড়ে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। তারা যমুনার সামনে পৌঁছালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা হাসনাত আবদুল্লাহসহ কয়েকজন সেখানে উপস্থিত হন।  

হাসনাত বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহতদের সুচিকিৎসা দেয়া হয়নি, এটা সরকারের ব্যর্থতা। 

“এজন্য সরকারের আমলাতান্ত্রিক পদ্ধতি দায়ী। সচিবরা দায়ী, আমলারা দায়ী। যারা আহত হয়েছেন, তাদের আমরা সুচিকিৎসা দিতে পারিনি। এজন্য আমি নিজে ব্যথিত।”

এ সময় বিক্ষোভকারীদের একজন বলেন, “হয় স্বীকৃতি দিন, না হয় আমাদের গুলি করে মেরে ফেলুন। আমাদের স্বীকৃতি না দিলে আমরা আত্মহত্যা করব।”

সরকার আহতদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করবে– এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে হাসনাত বলেন, “অবিলম্বে যারা আহত তাদের সুচিকিৎসার জন্য যা যা করা দরকার সরকার দ্রুত সময়ের মধ্যে করবে। আপনাদের এ দাবি আমি সরকারের কাছে জানাচ্ছি।”

হাসনাত আব্দুল্লাহ বোঝানোর সময়ই আহতরা বিভ্নন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

রাত দেড়টার পরও আহত বিক্ষোভকারীদের অনেককে যমুনার ঠিক সামনেই রাস্তায় অবস্থান নিয়ে থাকতে দেখা যায়। তাদের কেউ কেউ রাস্তায় শুয়ে ছিলেন। কাছেই দাঁড়িয়ে ছিলেন পুলিশ সদস্যরা। 

আন্দোলনকারীদের একজন কুরবান শেখ হিল্লোল বলেন, “সরকারের দায়িত্বশীল কোনো ব্যক্তি আমাদের প্রতি ন্যূনতম সহানুভূতিও দেখাননি। আমরাও তো এই দেশের নাগরিক। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আমরা আহত হয়েছি।”