২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

সংখ্যালঘু নিপীড়ন: বাংলাদেশের পরিস্থিতি ‘পর্যবেক্ষণ’ করছে ভারত

“দ্রুতই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে আশা করি,” বলেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।

বিডিনিউজ২৪

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 09 Aug 2024, 12:25 AM

Updated : 26 Aug 2026, 10:12 AM

বাংলাদেশে সরকার পতনের প্রেক্ষাপটে হামলা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও হত্যাকাণ্ডের খবরে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার কথা জানিয়েছে ভারত।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্রুতই স্বাভাবিক হওয়ার আশা ব্যক্ত করে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, “সরকারপতনের পর সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা বা আক্রমণ ঠেকাতে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। আমরা স্পষ্ট করতে চাই, সব নাগরিকের কল্যাণ নিশ্চিত করা প্রত্যেক সরকারের দায়িত্ব।

“আমরা সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছি। দ্রুতই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে আশা করি। এটি গোটা দেশের এমনকি সমগ্র অঞ্চলেরই স্বার্থের বিষয়।”

দিল্লিতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বৃহস্পতিবার কথা বলছিলেন রণধীর জয়সওয়াল। সেখানে গত কয়েকদিনে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ও হিন্দুদের বাড়িঘর, মন্দিরে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের বিষয়ে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

ইন্ডিয়া টুডে লিখেছে, বাংলাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ব্যাপক দাঙ্গা ও লুটপাট হয়। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, বিশেষ করে হিন্দুরা আক্রমণের শিকার হয়েছেন। 

গণআন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রিত্ব ছেড়ে শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করে ভারতে চলে যাওয়ার পর বিভিন্ন মন্দিরে আগুন, হিন্দুদের বাড়িঘর ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে হামলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়েছে।

তবে একই সময়ে কুমিল্লায় মুসলিম ধর্মীয় নেতাদের একটি মন্দির পাহারা দিতে গেছে। ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দির পাহারা দিতে গেছে একদল শিক্ষার্থীকে।

বাংলাদেশের একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাতে ইন্ডিয়া টুডে লিখেছে, শেখ হাসিনা যেদিন দেশ ছাড়েন, সেদিন দেশের ২৭ জেলায় হিন্দুদের বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আক্রমণ চালানো হয়েছে। সম্পত্তি লুটপাট করা হয়েছে।

মেহেরপুরের একটি ইসকন ও কালী মন্দিরে হামলা ও অগ্নিসংযোগ, রোববার রংপুরে হিন্দু কাউন্সিলর হারাধন রায়কে হত্যা এবং কাজল রায় নামে আরেক কাউন্সিলরকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।

‘বাংলাদেশ হিন্দু বুদ্ধিস্ট ক্রিশ্চিয়ান ইউনিটি কাউন্সিল’ এক্সে এক পোস্টে বলেছে, হিন্দুদের ৫৪টি মন্দির, বাড়ি ও স্থাপনায় আক্রমণ চালানো হয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশে এখন ১০ হাজারের মত ভারতীয় আছে। তাদের কিছু ভারতে ফেরত যেতে হাই কমিশনে যোগাযোগ করেছে। ঢাকার হাই কমিশন ও অন্যান্য সহকারী হাইকমিশন তাদের ভারতে ফিরে যেতে সহায়তা করছে।”

ঢাকায় হাই কমিশন ছাড়াও চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও সিলেটে ভারতের কনস্যুলেট রয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, তারা মিশন ও কূটনীতিকদের নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন।

গেল জুলাই থেকে শুরু হওয়া কোটা সংস্কার আন্দোলন পরে রূপ নেয় সরকার পতনের গণ আন্দোলনে। সোমবার তুমুল আন্দোলনের মুখে দেশ ছাড়েন টানা সাড়ে ১৫ বছর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। সেদিনই দেশের বিভিন্ন থানা, আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়ি ও অফিস, সরকারি স্থাপনা ও হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা, অগ্নিসংযোগ করা হয়। ৩৬ দিনের আন্দোলন বিক্ষোভে কয়েকশ মানুষের মৃত্যু হয়।

সরকার পতনের পর বৃহস্পতিবার নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূস অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নিয়েছেন। ইউনূসের সঙ্গে রয়েছেন নবীন-প্রবীণ মিলিয়ে ১৬ জন উপদেষ্টা।