খালি ভারত ভারত করলে দেশের খাবার কখন খাবেন, প্রশ্ন হুমায়ুনের
“আরে ভাই, ভারত-মুগ্ধতা থেকে বের হয়ে আসুন। ভারত কেবল আরেকটি দেশ, যার সাথে আমরা ভালো কর্মসম্পর্ক বা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক চাই।”
জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনা আছে কি না–জানতে চেয়েছিলেন সাংবাদিক। উত্তর না দিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির দিলেন ‘ভারত মুগ্ধতা’ থেকে বেরিয়ে আসার পরামর্শ।
রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ওই প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন, “ডেইলি ব্রেকফাস্ট খাইতে ইন্ডিয়া, লাঞ্চ খাইতে ইন্ডিয়া, ডিনার খাইতে ইন্ডিয়া–তাহলে ভাই আপনার নিজের দেশের খাবার কোন সময় খাবেন?”
কোনো দেশের সঙ্গে ‘দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আগে বহুপক্ষীয় ফোরামে গিয়ে আলোচনা না করার’ প্রসঙ্গে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করলে ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে মতভিন্নতা তৈরি হয়।
ওই সাংবাদিক জানতে চান, “আপনি (জাতিসংঘ অধিবেশনের) সাইডলাইনে বিশ্বনেতাদের সাথে বৈঠকের কথা বলছিলেন। বহুপক্ষীয় ফোরামের আগে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের বিষয়ে আমাদের একটা পর্যবেক্ষণ রয়েছে…।”
তখন প্রতিমন্ত্রী বলেন, “কে বলছে? এটা কোথা থেকে অবজার্ভেশন আসছে? আপনাকে কেউ বলছে সরকার থেকে?”
তখন ওই সাংবাদিক বলেন, আপনি নিজেই তো বলেছিলেন যে, কোনো বহুপক্ষীয় ফোরামে গিয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন না।
এরপর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমি এটা বলিনি। আপনি যত্নের সঙ্গে নোট নেননি। এমন কথা আমি কখনো বলিনি। আপনি আমার কথা বুঝতে পারেননি বা খেয়াল করে শোনেননি। এটাই সমস্যা।
“আমার প্রশ্নের উত্তর ছিল ভারতের জন্য নির্দিষ্ট। ভারতের সাথে ভালো কর্মসম্পর্ক চাই, তো সফরটা হলে প্রথমে ভালো হয়।”
তিনি বলেন, “আপনি যে দেশের সঙ্গে ভালো কর্মসম্পর্ক চান তার সঙ্গে বহুপক্ষীয় সফর করবেন না। এটা ভারতের ক্ষেত্রে বলেছি। আমি কখনোই বলিনি যে কোনো বহুপক্ষীয় অনুষ্ঠানে গেলে আমরা কারো সাথে দেখা করব না। দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।
“সাংবাদিক হিসেবে আপনাকে শব্দের বিষয়ে সতর্ক ও সঠিক হতে হবে, অন্যথায় এগুলো অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি ছড়ায়।”
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক চাই, আমরা সম্পর্কটাকে পুনর্গঠন (রিসেট) করতে চাই। এতদিন ছিল একটা ঝামেলাগ্রস্ত, ত্রুটিপূর্ণ, দুর্নীতিগ্রস্ত, লুটেরা স্বৈরাচারী সরকারের সাথে ১৫ বছরের সম্পর্ক।
“এটা থেকে বের হয়ে এখন একটা নতুন সম্পর্কের দিকে যাবে। এ কারণে এটা দ্বিপক্ষীয় সফর হওয়া উচিত, আমরা বহুপক্ষীয় ফোরামে যেতে চাই না। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, আমরা কোনো আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গেলে সাইডলাইনে কারো সাথে বৈঠক করব না। এমন কথা কখনোই বলা হয়নি।”
প্রতিমন্ত্রীর উত্তরের সূত্র ধরে আরেক সাংবাদিক জানতে চান, “সে ক্ষেত্রে জাতিসংঘের এই বহুপক্ষীয় ফোরামে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাইডলাইনে আমাদের বৈঠক হচ্ছে না—এমনটাই ধরে নেব?”
এর জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন বলেন, “না, না, না, আপনার প্রশ্ন… আরে ভাই, ভারত-মুগ্ধতা থেকে বের হয়ে আসুন। ভারত কেবল আরেকটি দেশ, যার সাথে আমরা ভালো কর্মসম্পর্ক বা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক চাই।”
“ডেইলি ব্রেকফাস্ট খাইতে ইন্ডিয়া, লাঞ্চ খাইতে ইন্ডিয়া, ডিনার খাইতে ইন্ডিয়া–তাহলে ভাই আপনার নিজের দেশের খাবার কোন সময় খাবেন? খালি যদি ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়া করেন? নিজের দেশের চিন্তা করেন।”
এ সময় “সবসময় ভারত ভারত করলে দেশের খাবার কখন খাবেন” মন্তব্য করে তিনি বলেন, “খালি যদি ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়া করেন? নিজের দেশের চিন্তা করেন।”
দেশের স্বার্থ বিবেচনায় দ্বিপক্ষীয় সফর ও বহুপক্ষীয় ফোরামে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আপনি সবার সাথে তো আর দেখা করতে পারবেন না। তবে আমাদের অনেক আমন্ত্রণ আছে। সুতরাং আমরা সাইডলাইনে অনেক ইভেন্টে কথা বলব।”
