মাথা থেঁতলে হত্যা: প্রত্যক্ষদর্শীসহ আরও দুইজনের সাক্ষ্য
আগামী ৬ সেপ্টেম্বর পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন রাখা হয়েছে।
ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে মাথা থেঁতলে ভাঙারি ও পুরনো তারের ব্যবসায়ী সোহাগ ওরফে লাল চাঁদকে হত্যা মামলায় প্রত্যক্ষদর্শীসহ আরো দুই জন সাক্ষী দিয়েছেন।
রোববার ঢাকার ১ম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক আয়েশা আক্তার মৌসুমী তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন তথ্য দিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বিল্লাল হোসেন জানান, আগামী ৬ সেপ্টেম্বর পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন রাখা হয়েছে।
এ দিন যারা সাক্ষ্য দিয়েছেন তারা হলেন- প্রত্যক্ষদর্শী সোহাগের দোকানের কর্মচারী আমির হোসেন ও পাশের দোকানদার মিঠুন হাওলাদার।
গত ৩ অগাস্ট এ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। ওইদিন মামলার বাদী সোহাগের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম সাক্ষ্য দেন। ১৩ অগাস্ট মো. বাবুল, সোহাগের দোকান সোহানা মেটালের কর্মচারী মো. হাসান ও মো. ইসমাইল সাক্ষ্য দেন।
গত ১২ জুলাই ২১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় একই আদালত।
এ মামলার আসামিরা হলেন- মাহমুদ হাসান মহিন, আলমগীর, মনির ওরফে লম্বা মনির, নান্নু ওরফে নান্নু কাজী, সজিব ওরফে সজিব বেপারী, টিটন গাজী, তারেক রহমান রবিন, জহিরুল ইসলাম, পারভেজ, সাগর, রিজওয়ান উদ্দিন ওরফে অভিজিৎ বসু ওরফে অভি, রুমান বেপারী, আবির হোসেন, জহির, ইমরান হোসেন, শারাফাত ওরফে শফিউল ইসলাম, হোসেন চৌকিদার, জিয়াউদ্দিন রাজিব, সারোয়ার হোসেন টিটু, মনির ওরফে ছোট মনির, অপু দাস।
এদের মধ্যে ১০ জন কারাগারে ও ৮ জন পলাতক। তিন আসামি জামিনে রয়েছে।
২০২৫ সালের ৯ জুলাই বিকালে মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর ফটকের সামনে প্রকাশ্যে কংক্রিট বোল্ডার দিয়ে শরীর ও মাথা থেঁতলে হত্যা করা হয় ব্যবসায়ী সোহাগ ওরফে লাল চাঁদকে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়রা বলছেন, ওই হত্যাকাণ্ডে যাদের অংশ নিতে দেখা গেছে এবং নেপথ্যে যাদের নাম আসছে, তারা সবাই পূর্ব পরিচিত। তাদের কয়েকজন সোহাগের ব্যবসার সহযোগীও ছিলেন একসময়। ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধে এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় সোহাগের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম কোতয়ালী থানায় মামলা করেন। গত ৮ ডিসেম্বর ২১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক মনিরুজ্জামান।
অবশ্য অভিযোগপত্রে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকার কথা জানিয়ে মামলাটি ফের তদন্তের আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তাই। ঢাকার মহানগর হাকিম নাজমিন আক্তার গত ২০ জানুয়ারি আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন।
এর মধ্যে বদলি করা হয় পরিদর্শক মনিরুজ্জামানকে। মামলার তদন্তভার পড়ে ওই থানার পরিদর্শক শাহ ফয়সাল আহমেদের ওপর। তিনি ২১ জনের বিরুদ্ধে গত ১০ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় গত ২১ জুন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান মামলাটি মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর ১২ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মোসাদ্দেক মিনহাজ।
