‘নারী উন্নয়নে চেষ্টা’র মত সংগঠন প্রয়োজন’
অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ফুল ও উত্তরীয় দিয়ে সম্মান জানানো হয়।
মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা নারী ও বীরঙ্গনাদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘চেষ্টা’কে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয়ে উদযাপিত হল সংগঠনের পনেরতম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।
শুক্রবার রাতে ঢাকার রাওয়া ক্লাবে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ‘চেষ্টা পল্লি’ করার ঘোষণা দেন সংগঠনের সভাপতি লায়লা নাজনীন হারুন।
সাবেক সেনাপ্রধান প্রয়াত হারুন অর রশিদের স্ত্রী লায়লা নাজনীন বলেন, এ পল্লিতে স্কুল, মসজিদ, ক্লিনিকসহ সব ধরনের নাগরিক সুবিধা থাকবে।
“এটা অনেক ব্যয় বহুল। তবে সকলের সহযোগিতার পেলে এই স্বপ্নের বাস্তবায়ন হবেই।”
২০১১ সালে ‘চেষ্টা’ যাত্রা করে জানিয়ে তিনি বলেন, “চারজন দিয়ে শুরু আজ ১৫ বছরে ৪০ জনে দাঁড়িয়েছে, আরো শক্তিশালী হচ্ছে আমাদের সংগঠন।”
অনুষ্ঠানে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক নাজনীন আহমেদ বলেন, “মানবিকতার জন্য ‘চেষ্টা’ যেসব কাজ করছে তা সত্যি অতুলনীয়। নারীদের উন্নয়নে এ ধরনের সংগঠন আমাদের সমাজে প্রয়োজন রয়েছে।”
মুক্তিযোদ্ধা খুকু আহমেদ মুক্তিযুদ্ধকালে সেনা কর্মকর্তা স্বামীর সঙ্গে থেকে কীভাবে গ্রামে গ্রামে পায়ে হেঁটে সহযোগিতা করেছেন তার বর্ণনা তুলে ধরেন। রাত জাগা আর দিনের পর দিন না খেয়ে কাটানোর গল্পও বলেন তিনি।
‘চেষ্টা’র সাধারণ সম্পাদক গুলশান নাজনীন চৌধুরি বলেন, “অসহায় নারীদের সেলাই মেশিন, দোকান করে দেওয়াসহ নানাবিধ কাজ করছে আমাদের এই সংগঠন।”
প্রয়াত বীরঙ্গনা রঙ্গমালার মেয়ে হেনা বেগমকে অনুষ্ঠানে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এ আয়োজনে উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ফুল ও উত্তরীয় দিয়ে সম্মান জানানো হয়।
অন্যদের মধ্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নারী উদ্যোক্তা কণা রেজা।
আয়োজনের শুরুতে ‘চেষ্টা’র প্রতিষ্ঠাতা সাবেক সেনাপ্রধান হারুন অর রশিদ, প্রতিষ্ঠাতা উপদেষ্টা ডা. মিজানুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা হারুন অর রশিদ, সাবেক সেনাপ্রধান হারুনের জামাতা তরুণ ব্যবসায়ী সৈয়দ মো. সাঈদের জন্য শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়; অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ মোনাজাত।
কোনো বাদ্যযন্ত্র ছাড়া চেষ্টা’র সদস্যরা সমস্বরে ‘ও আমার দেশের মাটি তোমার পরে ঠেকাই মাথা’ গান গেয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানেন।
