সোয়া এক ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে চকবাজারের আগুন
প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস।
ঢাকার চকবাজারের রহমতগঞ্জ ডালপট্টি এলাকায় পাশাপাশি দুটো ভবনে আগুন লাগার পর সোয়া এক ঘণ্টার চেষ্টায় তা নিয়ন্ত্রণে এনেছে ফায়ার সার্ভিস।
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম জানান, সোমবার বিকাল ৪টা ৪২ মিনিটে তিন তলা একটি আবাসিক ভবনের তৃতীয় তলায় আগুন লাগার খবর পান তারা। পরে পাশের ভবনেও আগুন ছড়ায়।
প্রথমে লালবাগ ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ শুরু করে।পরে একে একে যোগ দেয় আরো পাঁচটি ইউনিট। সন্ধ্যা ৬টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।
এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস।
যে দুটি ভবনে আগুন লেগেছে, তার একটির নিচ তলায় ডালের গোডাউন ও মিল, দ্বিতীয় তলায় কর্মচারীদের আবাসন ও তৃতীয় তলায় লাগেজ ফিটিংস কারখানা ছিল।
আরেকটি ভবনের নিচ তলায় ওয়ার্কশপ ও দ্বিতীয় তলায় অফিস ছিল বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা।
ফায়ার সার্ভিস ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক মো. ছালেহ উদ্দিন জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে সরু সড়ক দিয়ে তাদের পানিবাহী গাড়ি প্রবেশ করতে পারেনি।
“পুরান ঢাকার রাস্তাঘাটের অবস্থা আপনারা জানেন। রাস্তায় গাড়ি আনা খুবই কষ্টকর। আমরা বড় একটা পানিবাহী গাড়ি নিয়ে এসেছিলাম, ওই গাড়িটা ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারেনাই। পানিবাহী গাড়ি থেকে কষ্ট করে অনেক দূর থেকে পাইপ টেনে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করি।”
তার ভাষ্য, “ভবনের মধ্যে যারা থাকে, আমার মনে হয় না তারাও ভেতরে রাস্তাঘাট চেনে। কেউ বলে জানালা দিয়ে ঢোকেন, কেউ বলে দরজা কেটে ঢোকেন।”
ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ‘ঝুঁকি নিয়ে’ পাশের তিনটি ভবনে উঠে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে জানিয়ে ছালেহ উদ্দিন বলেন, “ভেতরে আমাদের এখনো কাজ চলছে, তারপর আমরা সার্চ করব কোনো লোকজন আটকা আছে কি না। এখনো কোনো হতাহতের খবর পাইনি।”
ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা বলেন, “এগুলা ভবনের কোনো শ্রেণির মধ্যেই পড়ে না। কিছু টিন, কিছু পাকা, কিছু সেমি পাকা। একটা থেকে আরেকটায় যাওয়ার জন্য কাঠ দিয়ে সিঁড়ি, সেই সিঁড়ির মধ্যেও আগুন ছিল।”
