২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭ আশ্বিন ১৪৩৩

বসুন্ধরায় সাইকেলের প্যাডেল দিয়ে আঘাত করে নারীকে রক্তাক্ত করল যুবক

আদনান হোসেন নামের ওই যুবককে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 22 Sep 2026, 09:08 PM

Updated : 22 Sep 2026, 09:08 PM

ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এক নারী চিকিৎসকের মাথায় সাইকেলের প্যাডেল দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত করেছেন এক যুবক।

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনায় আদনান হোসেন নামের ওই যুবককে হেফাজতে নেওয়ার কথা বলেছেন ভাটারা থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম।

৩১ বছর বয়সি আদনান একজন বেকার যুবক। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকাতেই তার বাসা।

অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ বলছে, আদনান সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিলেন, এ সময় তিনি একটি প্রাইভেটকার ঘেঁষে দাড়ান। তখন প্রাইভেটকারে থাকা নুসরাত জাহান অর্চি নামে ওই নারী চিকিৎসক তাকে সরে দাঁড়াতে বললে ওই যুবক তাকে ‘অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন’।

এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ওই যুবক সাইকেলের প্যাডেল দিয়ে অর্চির মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত করেন বলে জানান ওসি মাজহারুল।

তিনি বলেন, “তারা কেউ পূর্ব পরিচিত না। কথা কাটাকাটি থেকে হিট অব দ্যা মোমেন্ট ঘটনাটি ঘটেছে।”

খবর পেয়ে ওই যুবককে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে, এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে জানান ওসি।

ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা করে ইতোমধ্যে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন আহত অর্চির স্বামী এনামুল হক।

যেখানে তিনি বলেছেন, তার স্ত্রী অর্চি তার ছেলেসহ প্রাইভেটকার নিয়ে মেয়েকে স্কুল থেকে আনতে যাচ্ছিলেন। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এ ব্লকের ২ নম্বর সড়কে যানজটে আটকা পড়লে বাইসাইকেল আরোহী আদনান তার গাড়ি ঘেঁষে দাড়ান।

তখন আদনানকে খানিকটা সরে দাঁড়াতে বললে তিনি অর্চিকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন, প্রাইভেট কার বাড়িতে রাখতে বলেন। একপর্যায়ে সাইকেল দিয়ে প্রাইভেটকারে আঘাত করে সামনের দিকে চলে যান আদনান।

এমন ঘটনা দেখার পর কিছুদূর এগিয়ে একজন বাইকার আদনানকে থামায়। তখন অর্চি গাড়ি থেকে নেমে এমন আচরণ করার কারণ জানতে চান।

আদনান তখন হাতে থাকা বাইসাইকেলের লোহার প্যাডেল দিয়ে অর্চির মাথার বাম দিকে আঘাত করে গুরুতর জখম করেন বলে অভিযোগ করেন এনামুল হক।

তিনি বলেন, “আমার স্ত্রীকে হুমকি দিয়ে বলে যে, ভাগ্য ভালো বেঁচে গেলি, এরপর রাস্তা-ঘাটে একা পেলে প্রাণে মেরে ফেলবে মর্মে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে।”

এরপর স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় এনামুলকে খবর দিলে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে তার স্ত্রীকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এরপর স্থানীয়রাই অভিযুক্ত আদনানকে আটক করে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে তাকে থানায় নিয়ে যায়।