আগে ১৪ হাজার শিক্ষকের ‘পদায়ন’, পরে প্রাথমিক শিক্ষকদের ‘বদলি’
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলির কার্যক্রম আপাতত স্থগিত বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
যোগদানের অপেক্ষায় থাকা ১৪ হাজার শিক্ষকের পদায়নের পরই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলির কার্যক্রম চালু হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
সোমবার সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী এ কথা জানান।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “১৪ হাজারের বেশি যে নিয়োগ হবে, তার জন্য সব বদলি এখন স্থগিত। আগে নতুন শিক্ষকদের প্লেসমেন্ট হবে। তাদের প্লেসমেন্টের পর আবার বদলি চালু হবে।
“আবার বদলি চালু হবার পর তখন বর্তমান সিস্টেমটা, যে নীতিমালায় বদলিটা চলছিল, সেটাতে হবে না অন্য কিছুতে হবে, সেটা তখনই বলা যাবে।”
প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, “যেহেতু তখন চেইঞ্জ হতে পারে, তাহলে সেটা নিয়ে এখন আবার আলোচনার প্রয়োজন।”
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বদলির প্রক্রিয়ায় আগে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ ও নিষ্পত্তি হলেও গেল ২১ জুন এ পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা, উপজেলা বা থানা পর্যায়–সব মিলিয়ে চার স্তরে কমিটির মাধ্যমে সহকারী শিক্ষক বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তি করা হবে।
আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে এই সংবাদ সম্মেলন করেন ববি হাজ্জাজ। ৮ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাপী এই দিবসটি পালন করা হয়ে থাকে।
জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো এবারের আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে: ‘লিটারেসি ফর পিপল, দ্য প্লানেট অ্যাণ্ড দ্য প্রসপারিটি’।
লিখিত বক্তব্যের শুরুতে ববি হাজ্জাজ বলেন, “বাংলাদেশে সাক্ষরতা বিস্তারে গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫ এর তথ্য অনুযায়ী দেশে সাক্ষরতার হার ৭৭.৯ শতাংশ। এই অগ্রগতি আমাদের জন্য আশাব্যঞ্জক।”
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী স্বীকার করেন, এখনও একটি উল্লেখযোগ্য জনগোষ্ঠী কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা ও দক্ষতার সুযোগের বাইরে রয়েছে।
“তাদের মধ্যে রয়েছে বিদ্যালয় বহির্ভূত ও ঝরে পড়া শিশু-কিশোর, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং শিক্ষা থেকে বঞ্চিত প্রাপ্তবয়স্ক নারী ও পুরুষ।”
প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, “তাদের কাছে শিক্ষার সুযোগ পৌঁছে দেওয়া রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব এবং উন্নয়ন অগ্রযাত্রার অন্যতম প্রধান শর্ত।”
ববি হাজ্জাজ বলেন, আগামী বছরের মধ্যে সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোয় ‘মিড ডে মিল’ দেওয়ার ব্যবস্থা করছে সরকার।
অন্যদের মধ্যে মন্ত্রণালয়ের সচিব জেসমিন নাহার সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
