আদাবরে বাদশা হত্যা: ‘অস্ত্র জুগিয়েছিলেন’ বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা লেদু, দাবি র্যাবের
তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং কিশোর গ্যাংকে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ করে আসছিলেন স্থানীয়রা।
রাজধানীর আদাবরে বিএনপি নেতা আবুল বাশার বাদশা হত্যা মামলায় দলের বহিষ্কৃত আরেক নেতাকে গ্রেপ্তারের পর র্যাব দাবি করেছে, হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি ‘তিনিই জুগিয়েছিলেন’।
র্যাবের দাবি, এ হত্যা মামলার মূল আসামি পারভেজের কাছে হত্যায় ব্যবহৃত ‘অস্ত্র সরবরাহ করেছিলেন’ আদাবর থানা বিএনপির বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক মনোয়ার হোসেন লেদু ওরফে লেদু হাসান। অন্য আসামিদের আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তার নাম এসেছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-২ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান বলেন, সোমবার রাতে মোহাম্মদপুরের মোহাম্মদিয়া হাউজিং সোসাইটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে লেদুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত ১ জুলাই রাত সাড়ে ৮টার দিকে আদাবর থানার নবোদয় হাউজিংয়ের চার রাস্তার মোড়ে জাপান ও ব্রাজিলের মধ্যকার বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ দেখা নিয়ে বিরোধের জেরে সালিশ বৈঠকের সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়।
এ সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার বাদশা (৪৫) ও একই ইউনিটের সভাপতি মো. সাদ্দাম হোসেন (৩৫) গুরুতর আহত হন।
তাদের প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাদশার মৃত্যু হয়।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পর লেদুকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে জাতীয় নির্বাচনের আগে তাকে দলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। তবে বাদশা হত্যা মামলায় নাম আসার পর দল থেকে আবারও তাকে বহিষ্কার করা হয়।
র্যাবের দাবি, দলে ফেরার পর লেদু এলাকায় আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন এবং চাঁদাবাজি, দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন।
অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান বলেন, মোহাম্মদপুর, আদাবর ও দারুস সালাম থানায় লেদুর বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, অস্ত্র, বিস্ফোরক, বিশেষ ক্ষমতা আইন, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও দ্রুত বিচার আইনের মামলাসহ মোট ৩২টি মামলা রয়েছে।
র্যাব বলছে, ২০১০ সালের আলোচিত ওহিদুজ্জামান হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে লেদু গ্রেপ্তার হয়ে ২০১২ সাল পর্যন্ত কারাগারে ছিলেন। এছাড়া ২০২১ সালে বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলিসহ তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-৪। একটি অস্ত্র মামলায় তার ১০ বছরের কারাদণ্ডও হয়েছে।
বাদশা হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত আদাবর থানা পুলিশ ও মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা-ডিবি মোট নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
এর মধ্যে ডিবি গ্রেপ্তার করেছে রিপন (২৭), তার ভাই নিরব (২৫), তাদের বাবা মজনু মিয়া (৬০), মিজানুর রহমান (৪০), সুমন (২৫) ও শহীদকে (৫৯)।
আদাবর থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে সোয়েব হোসেন, আরমান ও নয়নকে।
র্যাব বলছে, স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে লেদুর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং কিশোর গ্যাংকে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ করে আসছিলেন।
