মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ: খসড়া তদন্ত প্রতিবেদনে জাফর ইকবালসহ ৪ জনের নাম
তদন্ত কর্মকর্তার প্রস্তুত করা খসড়া প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
জুলাই অভ্যুত্থানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার খসড়া তদন্ত প্রতিবেদনে লেখক ও অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালসহ চার জনের নাম এসেছে।
অন্য যাদের নাম এসেছে তারা হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই সাবেক উপাচার্য এ এস এম মাকসুদ কামাল ও মো. আখতারুজ্জামান, আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম বৃহস্পতিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনার তদন্ত এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
“তদন্ত কর্মকর্তার প্রস্তুত করা খসড়া প্রতিবেদনটি আমরা হাতে পেয়েছি এবং তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। শিগগিরই এটি চূড়ান্ত করা হবে।”
খসড়া প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর সেটি চূড়ান্ত হলে গ্রহণ করা হবে তুলে ধরে গাজী তামীম বলেন, “কোনো সংশোধন প্রয়োজন হলে তা শেষ করে দ্রুত চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়া যাবে।”
প্রসিকিউটর তামীম বলেন, ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর যে হামলা চালানো হয়েছিল, তাতে তিন শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী আহত হন।
জাফর ইকবালসহ এই চার জনের বিরুদ্ধে ওই সময় উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়া এবং হামলার পেছনে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ মদদের অভিযোগ রয়েছে।
সে বছর ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে।
এরপর ২১ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৯১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।
লিখিত অভিযোগে অজ্ঞাতনামা আরও ৮০০ থেকে ১ হাজার জনের নাম দেওয়া হয়েছে।
কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যে ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করে। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয় এবং ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায়।
ওই ঘটনার পর সারাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলন তীব্রতা পায়। এরপর দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘাত ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। ব্যাপক প্রাণহানির মধ্য দিয়ে চলা আন্দোলন একপর্যায়ে সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনে রূপ নেয়।
