টনি চিরান
টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়াঞ্চলের শাল অরণ্যঘেরা টেলকি গ্রামে বেড়ে উঠেছেন। শৈশবেই রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে ‘ফায়ারিং অ্যান্ড বোম্বিং রেঞ্জ’ স্থাপনের কারণে জোরপূর্বক উচ্ছেদের শিকার হওয়া গারো গ্রাম নয়াপাড়ার মানুষের উচ্ছেদ, উন্নয়ন আগ্রাসন ও নিপীড়ন খুব কাছ থেকে দেখেছেন, যা তার ভেতর অধিকার সচেতনতা তৈরি করেছে। স্থানীয় বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক শেষ করে তিনি ঢাকার নটর ডেম কলেজ থেকে বোর্ড স্কলারশিপসহ কৃতিত্বের সঙ্গে উচ্চমাধ্যমিক এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। মানবাধিকার ও আদিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করার সুবাদে এবং আইনি সুরক্ষার তাগিদ থেকে বর্তমানে তিনি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অধীনে আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে এলএলবি করছেন। এছাড়া তিনি অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস ইউনিভার্সিটির ‘ল অ্যান্ড জাস্টিস’ ফ্যাকাল্টি থেকে ডিপ্লোম্যাসি ট্রেনিং সম্পন্ন করেছেন। একজন মানবাধিকার কর্মী ও গবেষক হিসেবে তার দীর্ঘ কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। ইউএনডিপির সহযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধীনে গবেষণা ফেলো হিসেবে খাসি আদিবাসীদের ভূমি ও জীবন সংগ্রাম নিয়ে যৌথভাবে তার ‘Rights to Land and Natural Resources’ নামক একটি গবেষণা গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। ২০১৭ সালে মানবাধিকার ও আদিবাসী অধিকার বিষয়ক কর্মসূচিতে অনবদ্য অবদানের জন্য ইউএনডিপি কর্তৃক তিনি ‘অন্যতম শ্রেষ্ঠ তরুণ সংগঠক’ হিসেবে ভূষিত হন। তিনি সুইজারল্যান্ডের জেনিভা ও যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে বাংলাদেশের আদিবাসীদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। বর্তমানে আদিবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার শীর্ষস্থানীয় সংগঠন বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন