০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
হেড অফ রিসার্চ, ঢাকা স্ট্রিম। দর্শন, সুফিবাদ ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কাজ করেন। লিখিত বইয়ের সংখ্যা ১০। এর মধ্যে 'ত্রিশ লক্ষ শহিদ: বাহুল্য নাকি বাস্তবতা' বেশ আলোচিত। তার অন্যান্য বইয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘এটা আমার দর্শনের নোটখাতা নয়’, ‘মনসুর হাল্লাজের সত্য বলার শখ’, ‘বিদ্রোহী পুরাণ’ ইত্যাদি।
‘স্লিপ অব টাং’ থেকে শুরু করে শরণার্থী শিবির, সংবাদপত্র, গণহত্যা গবেষণা ও জনসংখ্যা বিশ্লেষণ—সবকিছু মিলিয়ে এই লেখা দেখায়, মুক্তিযুদ্ধের শহীদ নিয়ে সংখ্যার বিতর্ক আসলে ইতিহাস অস্বীকারের এক রাজনৈতিক প্রকল্প।
একাত্তরে ধর্ম ব্যবসায়ীরা যখন ধর্মের দোহাই দিয়ে মানুষ হত্যা করছিল, তখন সোলাইমান শাহের মতো প্রকৃত ধার্মিকরা জীবন দিচ্ছিলেন সেই ধর্মের মান বাঁচাতে, মানবতা রক্ষা করতে।
একাত্তরে যখন ধর্মের দোহাই দিয়ে পাকিস্তানি জান্তার পক্ষে অনেক পীর-মাশায়েখ বা ধর্মভিত্তিক দল ‘গনিমত’ সংগ্রহের ফতোয়া দিচ্ছিল, ঠিক সেই অন্ধকার সময়ে বগুড়ার এক পীর পরিবার দেখিয়েছিল—প্রকৃত ঈমানদারের রক্ত কোনোদিন জালিমের সঙ্গে আপস করতে পারে না।
অনেক দরবার যখন পাকিস্তানি হানাদারের পক্ষ নিয়েছিল, তখন মাইজভাণ্ডার দরবার প্রমাণ করেছিল যে, প্রকৃত সুফিদর্শন কখনোই শোষকের পক্ষে থাকতে পারে না।
শর্ষিণার পীর যখন বাঙালি নারীদের ‘গনিমতের মাল’ আখ্যা দিয়ে ফতোয়া দিচ্ছিলেন কিংবা জামায়াতে ইসলামীর নেতারা যখন বুদ্ধিজীবী নিধনের নকশা করছিলেন, ঠিক ওই সময়েই দেওয়ানবাগী হুজুরের মতো কিছু ধর্মপ্রাণ মানুষ রণাঙ্গনে দাঁড়িয়ে প্রমাণ করেছিলেন যে, দেশপ্রেম ঈমানেরই অঙ্গ।