মৃত্যুর ৩৮ বছর পর প্রকাশ পেল আবু জাফর শামসুদ্দীনের 'দিনলিপি'
“সেই যুগে দাঁড়িয়ে তিনি যে দূরদর্শী চিন্তা করতেন, তা আজকের দিনেও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক ও সত্য,” বলেন রামেন্দু মজুমদার।
লেখক আবু জাফর শামসুদ্দীনের ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকী ঘিরে তার ব্যক্তিগত ডায়েরি নিয়ে প্রকাশিত হলো ‘দিনলিপি (১৯৭৬-১৯৮২)’ গ্রন্থ।
সোমবার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে নতুন এ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করা হয় তাকে।
মৃত্যুবার্ষিকী ঘিরে স্মারক সভা ও প্রকাশনা উৎসবের আয়োজন করে ‘আবু জাফর শামসুদ্দীন ও আয়েশা আখতার খাতুন মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’।
অনুষ্ঠানের শুরুতে আবু জাফর শামসুদ্দীনের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে জাতীয় সংগীত গেয়ে শোনান বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর শিল্পীরা। এরপর প্রয়াত এ মনীষীকে স্মরণ করে শোক প্রস্তাব পাঠ এবং এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
অনুষ্ঠানে দেখানো হয় আবু জাফর শামসুদ্দীনের জীবনভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র ‘ত্রিকালদর্শী’। এটি নির্মাণ করেছেন জাঁ নেসার ওসমান।
‘দিনলিপি (১৯৭৬-১৯৮২)’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ও সদস্য-সচিব মফিদুল হক, আবু জাফর শামসুদ্দীন ও আয়েশা আখতার খাতুন মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সভাপতি অধ্যাপক সিকান্দার দারা শামসুদ্দীন এবং রামেন্দু মজুমদার।
অনুষ্ঠানে ‘মনীষী আবু জাফর শামসুদ্দীনের রাজনৈতিক দর্শন’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন আবুল খায়ের। পরে তার জীবন ও কর্মের ওপর স্মৃতিচারণ করা হয়।
মফিদুল হক বলেন, “আবু জাফর শামসুদ্দীন ছিলেন একজন পুরোদস্তুর ‘পাবলিক ইন্টেলেকচুয়াল’। রাজনৈতিক বিশ্লেষণ, কলাম ও গবেষণার কাজে সবসময় তিনি মানুষের সামনে থাকলেও তার নিজস্ব একটি গভীর জগত ছিল। তিনি জীবনের নানা সংকটময় মুহূর্তে, বিশেষ করে নিজের জন্মদিনে নিয়মিত কবিতা লিখতেন। তবে সেসব কবিতা তিনি কখনো প্রকাশের জন্য লেখেননি, লিখেছেন নিজের আত্মার তাড়নায় ও জীবনের সঙ্গে বোঝাপড়ার তাগিদ থেকে।”
রামেন্দু মজুমদার বলেন, “কলকাতায় বিভিন্ন সাহিত্য সভায় আমার আবু জাফর শামসুদ্দীন সাহেবের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ হয়েছিল। তিনি ছিলেন মূলত আগামী দিনের মানুষ। সেই যুগে দাঁড়িয়ে তিনি যে দূরদর্শী চিন্তাভাবনা করতেন, তা আজকের দিনেও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক ও সত্য।”
অধ্যাপক সিকান্দার দারা শামসুদ্দীন বলেন, “২০০৬ সালে আমরা ভাইবোনরা মিলে পারিবারিক ও সামাজিকভাবে এই ট্রাস্ট গঠন করি।
“বাবার অপ্রকাশিত সাহিত্যকর্ম সর্বসাধারণের সামনে তুলে ধরতে আমরা যেসব বইয়ের মুদ্রণ নেই, সেগুলোকে পিডিএফ সংস্করণে রূপান্তর করছি। ১৯৭৬ থেকে ১৯৮২ সালের দিনলিপি প্রকাশের পর আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত সময়ের দিনলিপি আগামী বছরের মধ্যে প্রকাশ করা। পাশাপাশি তার ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা চিঠি ও অপ্রকাশিত রচনা সংগ্রহের কাজ চলছে।”
আলোচনা সভা শেষে সাংস্কৃতিক পর্বে নজরুলগীতি 'অঞ্জলি লহ মোর সঙ্গীতে' পরিবেশন করেন ছায়ানটের শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌস লাকী।
পরে আবু জাফর শামসুদ্দীনের নাতনি অদ্বিতীয়া শামসুদ্দীন ও অনন্যা শীলা শামসুদ্দীন শোনান ‘ওগো দখিন হাওয়া’ এবং ‘আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে’।
১৯১১ সালের মার্চে তদানীন্তন ঢাকা জেলার কালীগঞ্জের (বর্তমান গাজীপুর) দক্ষিণবাগ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আবু জাফর শামসুদ্দীন। ১৯৮৮ সালের ২৪ অগাস্ট তিনি মারা যান।
