২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শেরপুর-১ আসনের ফল নিয়ে ‘আপত্তি’, আদালতে যাবেন বিএনপির প্রার্থী

“আমি একটি কেন্দ্রে ৭টি ভোট, আরেকটি কেন্দ্রে ২৭টি ভোট, ৩৯টি ভোট, ৪৯টি ভোট, ৯৬টি ভোট পাই, যা কোনোভাবে বিশ্বাসযোগ্য না।”

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 19 Feb 2026, 03:53 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:59 PM

শেরপুর-১ (সদর) আসনের ফল নিয়ে ‘আপত্তি’ তুলে আদালতে যাওয়ার কথা বলেছেন বিএনপির প্রার্থী সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা।

তিনি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী রাশেদুল ইসলামের কাছে অর্ধলক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে হেরে গেছেন।

প্রিয়াঙ্কা বলছেন, ভোটে নানা অনিয়মের অভিযোগ ও ফল নিয়ে আপত্তির কথা ইতোমধ্যে তিনি নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছেন, এবার নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আদালতে যাবেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি পুনঃনির্বাচনের দাবি জানান।

সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা বলেন, “অবশ্যই আমি আদালতে যাব। আমি ইসির কাছে ফলাফল স্থগিতের জন্য আবেদন করেছি এবং পুনঃনির্বাচনের দাবির জন্য আবেদন করেছি।”

গেল বৃহস্পতিবারে ভোটে শেরপুর-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি রাশেদুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৩০ হাজার ৯৮৯ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা পেয়েছেন ৭৭ হাজার ৫২১ ভোট।

সংবাদ সম্মেলনে প্রিয়াঙ্কা ফলাফলের শিটে প্রিজাইডিং অফিসারের সই-সিল না থাকা, অনেক ক্ষেত্রে পোলিং এজেন্টদের নাম, সই ও এনআইডি নম্বর না থাকার কিছু ‘প্রমাণ’ উপস্থাপন করেন।

ধানের শীষের প্রার্থীর অভিযোগ, কোনো কোন প্রার্থীর পক্ষে দলীয় কর্মীরাই প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কিছু ক্ষেত্রে প্রিজাইডিং অফিসার নিজেই পোলিং এজেন্টদের নাম ও সই দিয়েছেন।

প্রিয়াঙ্কা বলেন, “প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং এজেন্টের নাম, এনআইডি ও স্বাক্ষর বিহীন ভোট গণনা বিবরণী পত্র কীভাবে শেরপুর জেলা রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার গ্রহণ করল?”

নির্বাচনের পরদিন থেকে কয়েকজন পোলিং এজেন্ট অনিয়ম সংক্রান্ত তথ্য ও প্রমাণ উপস্থাপন শুরু করলে তারা হামলার শিকার হন অভিযোগ করে তিনি বলেন, “এর ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, এতে করে আমার নিবার্চনের অনিয়মের তথ্য প্রকাশ করতে ভয় পেয়ে মুখ খুলছেন না।”

প্রিয়াঙ্কা বলেন, “অভিযোগগুলোর বারবার ডিসি অফিসে জানানোর পরও জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার যথাযথ প্রতিকারের ব্যবস্থা নেয়নি। জেলা প্রশাসক কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের জামায়াত শিবির সমর্থিত সক্রিয় রাজনীতি করতেন, এসিল্যান্ড অনৈতিক সুবিধা নিয়ে জামায়াত ও স্বত্রস্ত্র প্রার্থীর কাজ করেছেন।”

যে এলাকায় বিএনপির ভোটার বেশি, সেসব এলাকার কেন্দ্রে ভোটারদেরকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড় করিয়ে রেখে ধীর গতিতে ভোট কাস্ট করা হয় অভিযোগ করে তিনি বলেন, “হট্টগোল করে ধানের শীষের কর্মীদের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করা হয়েছে। জামায়াত সমর্থিত এলাকায় ইচ্ছামত জাল ভোট দেওয়া হয়েছে।

“বিএনপির মতো একটি বড় রাজনৈতিক দল হওয়া স্বত্ত্বেও আমি একটি কেন্দ্রে ৭টি ভোট, আরেকটি কেন্দ্রে ২৭টি ভোট, ৩৯টি ভোট, ৪৯ টি ভোট, ৯৬টি ভোট পাই, যা কোনোভাবে বিশ্বাসযোগ্য না।”

এসব অভিযোগের বিষয়ে তার দল জানে কি না কিংবা বিএনপি থেকে কী বলা হয়েছে?

এ প্রশ্নের উত্তরে প্রিয়াঙ্কা বলেন, “আসলে নির্বাচনের সময় সকলেই অনেক ব্যস্ত থাকে। প্রত্যেকটা আসনেই যে যার যার মতন ব্যস্ত ছিল, দল সবকিছুতে অবগত আছে। 

“আমার দল অবশ্যই এই ব্যাপারে পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেবে।”