Published : 24 May 2013, 12:23 PM
তবে ভয়াবহ সেই অভিজ্ঞতার পর আর গার্মেন্টসের কাজে ফিরতে চান না বলে জানালেন অনেকেই।
ভবন ধসের একমামের মাথায় শুক্রবার সকালে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায় কারো ওই ঘটনায় আহত হয়ে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মোট ৬১ জন, যাদের কেউ হারিয়েছেন অঙ্গ, কারো ভেঙ্গেছে মেরুদণ্ড।

ভবন ধসের ষষ্ঠ দিনে ভারী যন্ত্রপাতি আর সরঞ্জাম দিয়ে চলছে উদ্ধার অভিযান।
আলীফ বলেন, “সুস্থ যদি হতে পারি সবার সহযোগিতায় একটি ছোট মুদি দোকান খোলার ইচ্ছা আছে। এ সুযোগ তৈরি না হলে অন্যকিছু করবো। তবু আর কোনদিন গার্মেন্টসে ফিরতে চাই না।”
গত ২৪ এপ্রিল সাভারের নয় তলা ভবন রানা প্লাজা ধসে পড়ে, যার বিভিন্ন তলায় পাঁচটি পোশাক কারখানা ছিল। গত ১৩ মে ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান শেষ করার পর সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবন ধসে মোট এক হাজার ১৩০ জন মারা গেছে।
হাসপাতালের সি ব্লকে চিকিৎসা নিচ্ছেন অরুণা। তিনি জানান, তার বাম হাতে কয়েকবার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। আহত হওয়ার পর রিকশাচালক স্বামীও আসা কমিয়ে দিয়েছেন। দুই সন্তানও ছোট বলে এখানে আসতে পারে না।
তবে গার্মেন্টসে কাজ করার বিষয়ে মোটেও আগ্রহী নন তিনি।
শুধু আলীফ বা অরুণা নয়, চিকিৎসাধীন তারেক, মোফাজ্জল হোসেন, শাহীন আলম, রাশেদুজ্জামান, মরিয়ম বেগম- এদের সবার মুখেই একই কথা।
মো তারেকুল ইসলাম কাজ করতেন সপ্তম তলায়ে।
“আমি রাজশাহী কিশোরহাট ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র। কৃষক বাবাকে আর্থিকভাবে সাহায্য করতে গার্মেন্টসে যোগ দিয়েছিলোম। তবে এখন আর এখানে কাজ করার মতো মনোবল নাই।”
সুস্থ হওয়ার পর হয় ছোট কোন ব্যবসা, না হয় যোগ্যতা অনুযায়ী অন্য কোনও পেশা বেছে নেবেন বলে জানান তিনি।
ভবন ধসে বাম পা হারিয়েছেন যশোরের রেহানা আক্তার। এক মাস আগেও যিনি উপার্জনক্ষম ছিলেন, আজ পঙ্গুত্বের মাঝেও ভবিষ্যৎ ভাবনায় অস্থির এই নারী।
“ভবিষ্যতে কি করবো জানি না। পেটের ক্ষুধা মেটাতে গার্মেন্টসে কাজ নিয়েছিলাম। এখন নিজেই পরিবারের বোঝা হয়ে গিয়েছি।”
মেরুদণ্ড ভেঙ্গেছে রংপুরের মরিয়মের। তার রিকশাচালক স্বামী আনোয়ারুল ইসলাম জানান, তার একার আয়ে সংসার চালানো অনেক কঠিন হয়ে পড়ায় স্ত্রীকে গার্মেন্টসে দিয়েছিলেন। তবে সুস্থ হলে তাকে আর এ কাজে দেবেন না বলে জানান তিনি।
প্রায় একই চিত্র দেখা গেল সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন আহত শ্রমিক।
ভবন ধসের তিন দিন পর ষষ্ঠ তলা থেকে উদ্ধার হয়েছিলেন ময়না আক্তার। টানা তিন দিন তার শরীরের ওপর তিন-চারজনের মৃতদেহ পড়েছিল। এতে হাত ও পায়ের মাংসে পচন ধরেছে।
ময়নার স্বামী রিকশাচালক বাবু জানান, অভাবের সংসারে সহযোগিতা করার জন্যই তার স্ত্রী গার্মেন্টে চাকরি নিয়েছিল। এখন স্ত্রীকে নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন তিনি।
পঙ্গু হাসপাতালের সি ব্লকের দায়িত্বরত চিকিৎসকদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এই হাসপাতালে ৪২ জন নারী এবং ১৯ জন পুরুষ শ্রমিক চিকিৎসাধীন। যাদের মধ্যে ১২ জনের মেরুদণ্ড ভেঙ্গেছে, আর সাত জনের ঘটেছে অঙ্গহানী।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই চিকিৎসক জানান, অনেকেই হাসপাতালের ছাড়পত্র পেয়েছেন। কাউকে কাউকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
“তবে যাদের স্পাইনাল ইনজুরি আছে, এদের অনেকেরই হয়তো বাকি জীবন হুইল চেয়ারে কাটাতে হবে।”