মুম্বাইয়ে ২০০৬ সালে ট্রেনে সিরিজ বোমা হামলায় সাজাপ্রাপ্ত ১২ জনের সবাই খালাস
২০০৬ সালের ১১ জুলাই স্থানীয় সময় সন্ধ্যার দিকে মুম্বাইয়ে একের পর এক সাতটি ট্রেনে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় ১৮৭ জন নিহত হয়েছিল, আহত হয়েছিল ৮০০-র বেশি।
ভারতের একটি আদালত উনিশ বছর আগে মুম্বাইয়ে ট্রেনে সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় সাজাপ্রাপ্ত ১২ জনের সবাইকে খালাস দিয়েছে।
২০০৬ সালের ১১ জুলাই স্থানীয় সময় সন্ধ্যার দিকে মুম্বাইয়ে একের পর এক সাতটি ট্রেনে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় ১৮৭ জন নিহত হয়েছিল, আহত হয়েছিল ৮০০-র বেশি।
২০১৫ সালে নিম্ন আদালতের বিচারকরা এ ঘটনায় অভিযুক্ত ১২ জনের মধ্যে ৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন, বাকি ৭ জনকে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
সোমবার বোম্বে হাই কোর্টের দুই বিচারকের বেঞ্চ নিম্ন আদালতের ওই রায় উল্টে দিয়ে জানায়, অভিযুক্তরাই যে ওই অপরাধ করেছেন, কৌঁসুলিরা তা প্রমাণে ‘পুরোপুরি ব্যর্থ’ হয়েছেন।
কৌঁসুলিরা এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন, জানিয়েছে বিবিসি।
উনিশ বছর আগে, ২০০৬ সালের জুলাইয়ে মুম্বাইয়ে সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরা মানুষজনের তীব্র ভিড়ের মধ্যে ওই সাতটি বিস্ফোরণ ভারতকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। দেশটিতে যত ভয়াবহ জঙ্গি হামলা হয়েছে, তার মধ্যে এটিকে অন্যতম ভয়াবহ অ্যাখ্যা দেওয়া হয়।
প্রেসার কুকারে ভরে ব্যাগে রাখা সাতটি বোমা একে অপরের ছয় মিনিটের ব্যবধানে বিস্ফোরিত হয়। বিভিন্ন ট্রেনের প্রথম শ্রেণির কামরা লক্ষ্য করে হওয়া ওই বোমাগুলো বিস্ফোরিত হয় মাতুঙ্গা, খার, মাহিম, জোগেশ্বরি, বোরিভালি ও মিরা রোডে।
চলন্ত ট্রেনে বিস্ফোরিত হয় পাঁচটি বোমা; দুটি বিস্ফোরিত হয় ট্রেনগুলো স্টেশনে যাওয়ার পর।
ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এ হামলার জন্য পাকিস্তান সমর্থিত ইসলামি জঙ্গিদের দায়ী করলেও ইসলামাবাদ এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
যে ১২ জন সোমবার খালাস পেয়েছেন, তাদেরকে ওই ঘটনার পরপরই গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তারা জেলেই আছেন। তাদের মধ্যে একজন কামাল আনসারি ২০২১ সালে কোভিডে মারা যান। ২০১৫ সালের রায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়েছিল।
নিম্ন আদালত অভিযুক্তদের হত্যা, ষড়যন্ত্র ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছিল। সাজাপ্রাপ্তদের আইনজীবীরা এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে বোম্বে হাই কোর্ট আপিল শুনতে দুই বিচারকের একটি বেঞ্চ গঠন করে দেয়। পরের ছয় মাস ওই বেঞ্চ ৭৫টির বেশি শুনানি করেছে এবং প্রায় দেড়শ সাক্ষীর জবানবন্দি নিয়েছে।
পরে সোমবার ৬৬৭ পৃষ্ঠার দীর্ঘ রায়ে আদালত নিম্ন আদালতের রায় বদলে সাজাপ্রাপ্ত ১২ জনের সবাইকে খালাস দেয়।
