২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
দেশে হামে প্রতিদিনই মৃত্যু ও আক্রান্তের খবর আসছে। এর মধ্যে ডেঙ্গুতেও প্রাণহানি ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। শনিবার রাজধানীর মুগদা হাসপাতালে গিয়ে হাম ও ডেঙ্গু ওয়ার্ডে রোগীদের ভিড় দেখা যায়। হাসপাতালটির চিকিৎসক ও নার্সরাও রোগীর চাপ বাড়ার কথা বলছেন।
রাজধানীর মহাখালীর ডিএনসিসি হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রোগীর চাপ যেন কমছে না। হাসপাতালটিতে গিয়ে দেখা যায় কোনো বেড খালি নেই। রোগীদের অনেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছাড়লেও সঙ্গে সঙ্গে জ্বর, সর্দি-কাশি ও শরীরে র্যাশ নিয়ে নতুন রোগীও প্রতিনিয়ত ভর্তি হচ্ছে।
সারাদেশে হামের প্রকোপের মধ্যে ভিড় বেড়েছে রাজধানীর মহাখালীর ডিএনসিসি হাসপাতালে। সেখানে এখন কেবল হাম রোগীর চিকিৎসা চলছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আক্রান্তদের নিয়ে হাসপাতালটিতে আসছেন স্বজনরা।
হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের অনেককে বিভিন্ন জেলা থেকে আনা হচ্ছে রাজধানী ঢাকায়। এদের মধ্যে অনেকে আসছেন রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকেও অসুস্থ শিশুদের নিয়ে এসেছেন অভিভাবকরা।
“জরুরি অবস্থা ঘোষণার দরকার ছিল, সেটা হয়নি; সচেতনতা বাড়ানোর ক্যাম্পেইনও হয়নি। বলা যায়, হাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের আন্তরিকতার ঘাটতি ছিল,” বলেন এক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাবে হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে শিশুদের ভিড়। রাজধানীর মহাখালীর ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতালেও ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী আসছে। সেখানে শয্যা সংকটে এক বেডে দুজনকে রেখেও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হামে আক্রান্ত বা লক্ষণ নিয়ে আসা রোগীদের অধিকাংশই শিশু।
হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুর সংখ্যা কয়েক দিন ধরে বাড়ছে। রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় ঢাকার মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খোলা হয়েছে বিশেষ ওর্য়াড, যেখানে চিকিৎসা নিচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শিশুরা।
দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে রোববার রাজধানীর বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সের শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে।