২৫ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলা তাপপ্রবাহের মধ্যে ঘনঘন লোডশেডিংয়ের দুর্ভোগে পড়া লোকজন ভিড় করছেন ফ্যানের দোকানগুলোতে। গরমে সিলিং ও স্ট্যান্ড ফ্যানের পাশাপাশি রিচার্জেবল ফ্যান কিনছেন ক্রেতারা। তাদের চাহিদা মাথায় রেখে দেশের বিভিন্ন এলাকার খুচরা দোকানিরা ঢাকার নবাবপুর রোডে ইলেকট্রিক পণ্যের পাইকারি বাজার থেকে ফ্যান কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। সাশ্রয়ী দামে ফ্যান নিতে সরাসরি ক্রেতারাও সেখানকার দোকানগুলোতে যাচ্ছেন।
পঞ্জিকায় শ্রাবণের পাতা উল্টানোর সময় এসে গেছে। বর্ষার এ মাস জুড়েই থেকেছে বৃষ্টি। ২৭ শ্রাবণ সোমবারও আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আট বিভাগে কম-বেশি বৃষ্টির আভাসই ছিল, এর মধ্যেই সকাল থেকে দেখা যায় সূর্যের চোখ রাঙানি। বেলা গড়ালে রোদের তীব্রতায় রাস্তায় বের হওয়া কর্মজীবী মানুষেরা গরমে হাঁপিয়ে ওঠেন। ‘হাঁসফাঁস অবস্থা’ তৈরি হয় রাজধানী জুড়ে।
“টানা মুষলধারে বৃষ্টিতে রাস্তা তলিয়ে গেছে। বাসাবাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। বৃষ্টি দ্রুত না কমলে ভোগান্তি আরও বাড়বে।”
কয়েকদিন মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হলেও শনিবার দুপুরে দেখা যায় প্রখর রোদ। তীব্র গরম থেকে খানিকটা স্বস্তি পেতে শনিবার নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ডিএনডি লেকে নেমে পড়েন কিশোর-তরুণরা। লাফঝাপ আর দুরন্তপনায় মাতেন তারা।
তীব্র তাপদাহে মানুষের পাশাপাশি প্রাণিদেরও হাঁসফাঁস অবস্থা। খরতাপে অতিষ্ঠ হয়ে বারবার পুকুর, ডোবা, খাল, নদীসহ বিভিন্ন জলাধারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা শরীর ডুবিয়ে রাখছে মহিষের পাল।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া দাবদাহে অতিষ্ঠ প্রাণিকুলও। পুরান ঢাকার গেণ্ডারিয়ার সাধনা ঔষধালয় এলাকার বানরগুলো তীব্র রোদ থেকে রক্ষা পেতে আশ্রয় নিয়েছে আশপাশের ছায়াযুক্ত বিভিন্ন স্থানে।
কয়েক দিন ধরেই তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলার ওপর দিয়ে। এর প্রভাব পড়েছে রাজধানীতেও। প্রখর রোদে ঘরের বাইরে থাকা দুষ্কর হয়ে পড়েছে নগরবাসীর। বেশি ভুগছেন গায়ে খাটা নিম্ন আয়ের মানুষ।
এ মাসে বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুটি লঘুচাপ তৈরি হতে পারে, বয়ে যেতে পারে এক থেকে দুটি মৃদু তাপপ্রবাহ।