- আর্টেমিস কর্মসূচি হচ্ছে অ্যাপোলো যুগের পর আবারও চাঁদে মানুষ পাঠানোর এক ঐতিহাসিক মহাকাশ অভিযান।
- এ মিশনে রয়েছেন নাসার নভোচারী রিড ওয়াইজম্যান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার, মিশন স্পেশালিস্ট ক্রিস্টিনা কোচ ও কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন
- এ মিশনে তারা চাঁদে নামবেন না। তবে আগের যে কোনো মানব মহাকাশভ্রমণের তুলনায় পৃথিবীর থেকে আরও অনেক দূরে যাবেন।
- ওরিয়ন ক্রু ক্যাপসুলে করে চার নভোচারীকে নিয়ে নাসার এসএলএস রকেট পৃথিবী থেকে রওনা হয়েছে বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার ভোর ৪টা ৩৫ মিনিটে।
- প্রায় ১০ দিনের এ মিশনে নভোচারীরা চাঁদকে ঘিরে উচ্চগতির এক চক্কর দিয়ে পুনরায় পৃথিবীতে ফিরে আসবেন।
- এ অভিযানের মাধ্যমে ওরিয়ন মহাকাশযানের জীবন রক্ষাকারী ব্যবস্থা, ন্যাভিগেশন, যোগাযোগ ও তাপ নিরোধক শিল্ডের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে।
- উৎক্ষেপণের আগ মুহূর্তে তিন নভোচারী বিশেষ বার্তা দিয়েছেন। জেরেমি হ্যানসেন লিখেছেন, “আমরা যাচ্ছি সমগ্র মানবজাতির জন্য।”
- মহাকাশযানটি তীরের মতো আকাশের দিকে ছুটে যাওয়ার সময় কেনেডি স্পেস স্টেশনের বাইরে উল্লাসে মেতে ওঠে জনতা।
- সফল উৎক্ষেপণের পর নাসা প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, নভোচারীরা ‘নিরাপদ ও ফুরফুরে মেজাজে’ আছেন।
02 Apr 2026, 06:56 AM
লাইভ ব্লগের সমাপ্তি
নাসার আর্টেমিস মিশনের উৎক্ষেপণ নিয়ে আমাদের লাইভ ব্লগ এখানেই শেষ। সঙ্গে থাকার জন্য ধন্যবাদ!
02 Apr 2026, 06:52 AM
এখন কী হবে?

উৎক্ষেপণ তো সফলভাবে সম্পন্ন হল, এখন শুরু হয়েছে আর্টেমিস ২ মিশনের আসল যাত্রা। আগামী ১০ দিনে মহাকাশযানটি ও নভোচারীরা ধাপে ধাপে পৃথিবীর কক্ষপথে অবস্থান ও পরীক্ষা করবেন।
বর্তমানে নভোচারীরা পৃথিবীর কক্ষপথে আছেন। এই সময়ে তারা ওরিয়ন মহাকাশযানের লাইফ সাপোর্ট, যোগাযোগ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাগুলো ঠিকঠাক কাজ করছে কি না তা নিশ্চিত করবেন।
রকেটের ওপরের অংশ থেকে আলাদা হওয়ার পর নভোচারীরা নিজেরাই মহাকাশযানটি চালিয়ে দেখবেন, যা ভবিষ্যতে অন্য মহাকাশযানের সঙ্গে ডকিং হিসেবে কাজ করবে।
এরপর সব পরীক্ষা সফল হলে রকেটের ইঞ্জিন পুনরায় চালু করা হবে, যা ওরিয়নকে পৃথিবীর কক্ষপথ ছাড়িয়ে চাঁদের দিকে ঠেলে দেবে। এই যাত্রাটি সম্পন্ন করতে প্রায় ৪ দিন সময় লাগবে।
মিশনের ষষ্ঠ দিনে তারা চাঁদের সবচেয়ে কাছে পৌঁছাবেন। এ সময় তারা চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে প্রায় সাগে সাত হাজার থেকে ১০ হাজার কিলোমিটার উপর দিয়ে যাবেন। নভোচারীরা চাঁদের উল্টো পিঠ বা ‘ফার সাইডে’ দিয়ে ঘুরে আসবেন।
এর আগে কোনো মানুষ পৃথিবী থেকে যত দূরে গিয়েছে এই চারজন তার চেয়েও বেশি দূরত্ব পেরিয়ে নতুন রেকর্ড গড়বেন। চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ শক্তিকে ব্যবহার করে একটি ‘ফ্রি-রিটার্ন ট্রাজেক্টরি’তে তারা আবার পৃথিবীতে ফিরে আসবেন।
মিশনের দশম দিনে ওরিয়ন ক্যাপসুলটি প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করবে, সেখানে মার্কিন নৌবাহিনীর বিশেষ দল তাদের উদ্ধারের জন্য প্রস্তুত থাকবে।
আপাতত নভোচারীদের মূল কাজ হচ্ছে, মহাকাশযানের সব যন্ত্রপাতি ঠিক আছে কি না তা যাচাই করা ও এরপর মহাকাশের গভীরে দীর্ঘ যাত্রার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া।
02 Apr 2026, 06:38 AM
নভোচারীরা নিরাপদ ও ফুরফুরে মেজাজে: নাসা প্রশাসক

নাসা প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মিশনের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরেছেন। শুরুতে তিনি ছোটখাটো যান্ত্রিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেন, যেখানে উৎক্ষেপণের পর কিছুক্ষণ গ্রাউন্ড দলের সঙ্গে মহাকাশযানে থাকা নভোচারীদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল।
তবে নাসা প্রশাসক নিশ্চিত করেছেন, সেই সমস্যার সমাধান হয়েছে ও বর্তমানে নভোচারীরা ‘পুরোপুরি নিরাপদ ও ফুরফুরে মেজাজে আছেন’।
এরপর তিনি এ মিশনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেছেন, “দীর্ঘ ৫৪ বছরের বিরতির পর নাসা আবারও চাঁদে নভোচারী পাঠানোর কাজে ফিরে এসেছে।”
নাসার কর্মীদের উদ্দেশে আইজ্যাকম্যান বলেছেন, “মিশনটি যতটা নভোচারীদের, ঠিক ততটাই আপনাদেরও।”
তিনি আরও বলেন, পুরো আর্টেমিস টু দলের সামনের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে তারা সচেতন ও মিশন শেষে নভোচারীরা যখন পৃথিবীতে নিরাপদে অবতরণ করবেন কেবল তখনই তারা উৎসবে মাতবেন।
02 Apr 2026, 06:26 AM
উৎক্ষেপণের পরবর্তী পরিস্থিতি জানাতে নাসার সংবাদ সম্মেলন
আর্টেমিস ২ মিশনের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানাতে সরাসরি সংবাদ সম্মেলনে নাসা। কক্ষপথে ওরিয়ন মহাকাশযানের সিস্টেম পরীক্ষার ফলাফল এবং ‘ট্রান্স-লুনার ইনজেকশন’ বা চাঁদের পথে চূড়ান্ত যাত্রার পরিকল্পনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আপডেট দিচ্ছেন মিশন কন্ট্রোলারেরা।
02 Apr 2026, 06:05 AM
মহাকাশযানে টয়লেটে ত্রুটি!
মহাকাশযানে থাকা লাইফ সাপোর্ট সিস্টেমগুলোর ঠিক আছে কি না, সেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছিলেন ক্রুরা। মাহাকাশযানে মূত্রত্যাগের ব্যবস্থা ঠিকভাবে কাজ করছে কি না দেখতে গিয়ে ধরা পড়ল সমস্যা।
নভোচারীরা মিশন কন্ট্রোলকে জানিয়েছিলেন, টয়লেট চালু আছে, বর্জ্য ট্যাংকও সংযুক্ত হয়েছে।
তবে কয়েক মিনিট পর তারা আবার জানান, টয়লেটে ত্রুটির বিষয় জানাতে বাতি জ্বলে উঠেছে।
মিশন কন্ট্রোল জানিয়েছে, বিষয়টি বুঝে উঠতে তাদের কিছুটা সময় লাগবে।
02 Apr 2026, 05:46 AM
সরাসরি: মিশন ক্যাপসুল থেকে
02 Apr 2026, 05:41 AM
সোলার সেল খুলেছে, এবার ‘ব্যাকফ্লিপ’
বিবিসি জানিয়েছে আর্টেমিস টু মিশনের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হয়েছে; সোলার অ্যারে উইংগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে।
এই চারটি উইংয়ের প্রতিটিতে রয়েছে ১৫ হাজার করে সোলার সেল। এগুলোর মাধ্যমে সৌর শক্তি সংগ্রহ করে পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা সময়ের বাকি অংশ এবং চাঁদের পথে যাত্রায় শক্তি পাবে মহাকাশযান।
উড্ডয়নের কয়েক ঘণ্টা পরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপে ক্রুরা ওরিয়ন মহাকাশযানটি পরীক্ষামূলকভাবে পরিচালনার চেষ্টা করবেন।
প্রপালশন স্টেজ মহাকাশযানটিকে কয়েক ধাপে গতি বাড়িয়ে দেবে, এরপর সেটি আলাদা হয়ে যাবে।
মহাকাশযান ও এর আরোহীরা দূরে সরে যেতে থাকলে ওরিয়ন ঘুরে ‘ব্যাকফ্লিপ’ কৌশলে প্রপালশন স্টেজের দিকে মুখ করবে।
এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ মিশনে অন্য মহাকাশযানের সঙ্গে ডকিং করার অনুশীলন করা হবে।
02 Apr 2026, 05:35 AM
জটিলতা কাটিয়ে মহাকাশের পথে: যা ঘটল শেষ মুহূর্তে
উৎক্ষেপণের এক ঘণ্টা আগে লঞ্চ অ্যাবর্ট সিস্টেম ঘিরে এমন কিছু সমস্যা দেখা দেয়, যা আর্টেমিস টু মিশনের উৎক্ষেপণকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছিল।
কোনো ত্রুটি দেখা দিলে এই সিস্টেমের মাধ্যমেই নভোচারীদের সরিয়ে নেওয়া এবং প্রয়োজনে রকেট ধ্বংস করার ব্যবস্থা থাকে।
সমস্যা সমাধানে প্রকৌশলীরা কাজ করার সময় কাউন্টডাউন ঘড়ি ১০ মিনিটে স্থির রাখা হয়। তবে দ্রুতই তারা সেটি ঠিক করতে সক্ষম হন।
এরপর শুরু হয় রকেটের গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেমগুলোর দায়িত্বে থাকা প্রত্যেক প্রকৌশলীর নাম ধরে ডাকা।
এক এক করে ভেসে আসে কণ্ঠগুলো: ‘বুস্টার, গো’, ‘জিএনসি, গো’, ‘রেঞ্জ, গো’! প্রত্যেকের উত্তর উত্তেজনার মধ্যে একটু একটু করে স্বস্তি এনে দেয়, চড়তে থাকে প্রত্যাশার পারদ।
ক্রুদের উদ্দেশ্যে বলা হয়: “লঞ্চ ডিরেক্টর বলছি, আর্টেমিস টু, আপনারা উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত!”
জবাবে কমান্ডার রিড উইজম্যান বলেন, “আমরা পুরো মানবজাতির জন্যই এগিয়ে যাচ্ছি।”
এরপর চারটি আরএস-২৫ ইঞ্জিন এবং দুটি সলিড রকেট বুস্টার চালু হলে আগুনের বিশাল শিখা জ্বলে ওঠে ঘিরে ফেলে পুরো রকেট। ফ্লোরিডার সন্ধ্যার আকাশে ৮.৮ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি থ্রাস্ট নিয়ে ঊর্ধ্বমুখে ধাবিত হয় এসএলএস রকেট।
02 Apr 2026, 05:20 AM
দশ দিনে কী খাবেন নভোচারীরা?

02 Apr 2026, 05:19 AM
সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট!
02 Apr 2026, 05:07 AM
নভোচারী রিড ওয়াইজম্যান বললেন, ‘অপূর্ব দৃশ্য!’
উৎক্ষেপণের কয়েক মিনিট পর নভোচারীরা যখন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে প্রবেশ করতে শুরু করেন তখন মহাকাশযানের কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান যোগাযোগ মাধ্যমে কথা বলেছেন।
তিনি ঘোষণা করেছেন, “অপূর্ব দৃশ্য! আমরা খুব সুন্দর এক চাঁদ দেখতে পাচ্ছি।”
এই যাত্রায় নভোচারীরা এমন সব দৃশ্য দেখবেন, যা ইতিহাসের কেবল হাতেগোনা কয়েকজন মানুষের দেখার সুযোগ হয়েছে।
02 Apr 2026, 04:59 AM
নভোচারীরা এখন পৃথিবীর কক্ষপথে
রিড, ওয়াইজম্যান, কোচ ও হ্যানসেন ‘কারমান লাইন’ পার করেছেন, যা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ও মহাকাশের মধ্যবর্তী সীমানা। তারা এখন পৃথিবীর কক্ষপথে অবস্থান করছেন।
প্রাথমিক সব ধাপ পরিকল্পনা অনুসারে সম্পন্ন হয়েছে।
এই মিশনের আরও ১০ দিন বাকি। তবে এখন পর্যন্ত সবকিছু বেশ ভালোভাবেই চলছে।
02 Apr 2026, 04:56 AM
মানুষ চাঁদে গেছে কতবার?

নাসার অ্যাপোলো অভিযানের অংশ হিসেবে মানুষ এ পর্যন্ত ছয়বার চাঁদে অবতরণ করেছে।
১৯৬৯ থেকে ১৯৭২ সালের মধ্যে এই অভিযানগুলোতে মোট ১২ জন নভোচারী চাঁদের মাটিতে হেঁটেছেন।
- প্রথম অবতরণ: ১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই, অ্যাপোলো ১১ মিশনে নিল আর্মস্ট্রং ও বাজ অলড্রিন প্রথম চাঁদে পা রাখেন।
- শেষ অবতরণ: ১৯৭২ সালের ডিসেম্বরে অ্যাপোলো ১৭ মিশনের মাধ্যমে শেষবারের মত মানুষ চাঁদে গিয়েছিল।
- বিভ্রাট: ১৯৭০ সালের এপ্রিলে অ্যাপোলো ১৩ যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে চাঁদে নামতে না পারলেও ক্রুরা নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে আসতে সক্ষম হন।
02 Apr 2026, 04:49 AM
অ্যাপোলো ৮ এবং আর্টেমিস ২
02 Apr 2026, 04:48 AM
আর্টেমিস টু: অভিযান বৃত্তান্ত
02 Apr 2026, 04:48 AM
যেভাবে চাঁদ ঘুরে আসবে ওরিয়ন ক্রু ক্যাপসুল
02 Apr 2026, 04:37 AM
সফল উৎক্ষেপণ!
আর্টেমিস ক্রুরা আনুষ্ঠানিকভাবে চাঁদের চারপাশে তাদের ঐতিহাসিক ১০ দিনের মিশনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছেন। এই যাত্রা তাদের পৃথিবী থেকে এমন এক দূরত্বে নিয়ে যেতে পারে, যেখানে এর আগে কোনো মানুষ পৌঁছাতে পারেনি।
Liftoff.
— NASA (@NASA) April 1, 2026
The Artemis II mission launched from @NASAKennedy at 6:35pm ET (2235 UTC), propelling four astronauts on a journey around the Moon.
Artemis II will pave the way for future Moon landings, as well as the next giant leap — astronauts on Mars. pic.twitter.com/ENQA4RTqAc
02 Apr 2026, 04:35 AM
যাত্রা শুরুর আগে আর্টেমিস ক্রুদের বার্তা

কাউন্টডাউন শুরু হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে তিন নভোচারী তাদের বিশেষ বার্তা দিয়েছেন–
পাইলট ভিক্টর গ্লোভার বলেছেন, “আমরা যাচ্ছি আমাদের পরিবারের জন্য।”
মিশন স্পেশালিস্ট ক্রিস্টিনা কোচ বলেছেন, “আমরা যাচ্ছি আমাদের সহকর্মীদের জন্য।”
মিশন স্পেশালিস্ট জেরেমি হ্যানসেন বলেছেন, “আমরা যাচ্ছি সমগ্র মানবজাতির জন্য।”
02 Apr 2026, 04:32 AM
কেনেডি স্পেস সেন্টারে উল্লাস
কাউন্টডাউন শুরু হতেই এখানে উল্লাসের রোল পড়ে গেছে, কেনেডি স্পেস সেন্টারে জড়ো হওয়া জনতা এখন পুরোপুরি প্রস্তুত!
02 Apr 2026, 04:28 AM
উৎক্ষেপণের আর মাত্র ১০ মিনিট বাকি
‘টি-মাইনাস ১০ মিনিট এবং গণনা চলছে’।
উৎক্ষেপণের নির্ধারিত সময় এখন শুরু ও চূড়ান্ত কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে। আর মাত্র ১০ মিনিট পরেই রকেটটি যাত্রা করবে।
02 Apr 2026, 04:21 AM
যাত্রার আগে কোয়ারেন্টিন থেকে প্রশ্নোত্তরে নভোচারীরা
02 Apr 2026, 04:20 AM
মিশন পথ
উৎক্ষেপণের পর মহাকাশযানের ওরিয়ন ক্রু ক্যাপসুলটি রকেটের উপরের অংশ থেকে আলাদা হয়ে পৃথিবীর চারপাশে এক উপবৃত্তাকার কক্ষপথে প্রবেশ করবে।
নভোচারীরা প্রথম এক থেকে দুই দিন পৃথিবীর উচ্চ কক্ষপথে অবস্থান করে মহাকাশযানের বিভিন্ন সিস্টেম পরীক্ষা করবেন। যার মধ্যে রয়েছে ওরিয়নের ‘লাইফ সাপোর্ট’ বা জীবন রক্ষাকারী ব্যবস্থা, প্রপালশন বা চালিকাশক্তি, ন্যাভিগেশন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা যাচাই করা, যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, মহাকাশযানটি অভিযানের পরবর্তী অংশের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর ওরিয়নের প্রপালশন সিস্টেম গুরুত্বপূর্ণ ইঞ্জিন বার্ন বা ‘ট্রান্সলুনার ইনজেকশন’ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। এর মাধ্যমে মহাকাশযানটি পৃথিবীর কক্ষপথ থেকে বেরিয়ে চাঁদের অভিমুখে নিজের যাত্রা শুরু করবে।
উৎক্ষেপণের তিন থেকে চার দিনে চাঁদের দিকে যাত্রা করবেন নভোচারীরা। চাঁদে পৌঁছানোর এ কয়েক দিনের যাত্রাপথে নভোচারীরা মহাকাশযানের বিভিন্ন সিস্টেম পর্যবেক্ষণের কাজটি চালিয়ে যাবেন।
ওরিয়ন যখন মহাকাশে এগিয়ে চলবে তখন মিশন কন্ট্রোল থেকে এর যোগাযোগ ও ন্যাভিগেশন ব্যবস্থার কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করা হবে। ওরিয়ন ‘ফ্রি রিটার্ন ট্র্যাজেক্টোরি’ বা কক্ষপথ ব্যবহার করে চাঁদের পেছন দিক দিয়ে ঘুরে আসবে। এ বিশেষ পথটি এমনভাবে তৈরি, যাতে কোনো বাড়তি জ্বালানি খরচ না করেই মহাকাশযানটি প্রাকৃতিকভাবে আবার পৃথিবীর দিকে ফিরে আসতে পারে।
অভিযানের এ পর্যায়েই মহাকাশযানটি পৃথিবী থেকে নিজের সর্বোচ্চ দূরত্বে পৌঁছাবে।
উৎক্ষেপণের পাঁচ থেকে আট দিনে পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তনের প্রস্তুতি নেবেন নভোচারীরা। চাঁদ প্রদক্ষিণ শেষে তারা পরবর্তী কয়েক দিন পৃথিবীর দিকে ফিরে আসার যাত্রায় কাটাবেন।
এ সময়ে তারা মহাকাশে আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাবেন, যার মধ্যে রয়েছে ‘লো আর্থ অরবিট’ বা পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, তাপ নিয়ন্ত্রণ ও ক্রু অপারেশন বা নভোচারীদের কার্যক্রম মূল্যায়ন করা।
পৃথিবীর কাছাকাছি পৌঁছানোর পর ওরিয়ন এর মূল অংশ থেকে আলাদা হয়ে যাবে ও ঘণ্টায় প্রায় ৪০ হাজার ২৩৩ কিলোমিটার বেগে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করবে। প্রচণ্ড গতির কারণে তৈরি উত্তাপে ওরিয়ন ক্যাপসুলের ‘হিট শিল্ড’ বা তাপ সুরক্ষা কবচ কতটা কার্যকর থাকে তা পরীক্ষা করা এ মিশনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
সবশেষে মহাকাশযানটি প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করবে, যেখান থেকে উদ্ধারকারী দল নভোচারীদের ফিরিয়ে আনবে।
02 Apr 2026, 04:20 AM
ওরিয়ন ক্যাপসুল
ওরিয়ন হচ্ছে নাসার বিশালাকার ‘স্পেস লঞ্চ সিস্টেম’ বা এসএলএস রকেটে চড়ে মানুষকে মহাকাশে নিয়ে যাওয়ার জন্য তৈরি ক্রু ক্যাপসুল। এ ক্যাপসুলের মধ্যে করেই প্রায় ১০ দিনের এ মিশনে নভোচারীরা চাঁদের চারপাশে চক্কর দিয়ে পুনরায় পৃথিবীতে ফিরে আসবেন।
ওরিয়নের প্রধান দুটি অংশ রয়েছে। যার একটি হচ্ছে ‘ক্রু মডিউল’, যেখানে নভোচারীরা থাকেন এবং দ্বিতীয়টি ‘ইউরোপীয় সার্ভিস মডিউল’, যা বিদ্যুৎ ও বাতাস সরবরাহ করে।
ক্যাপসুলটি ২১ দিন পর্যন্ত চার জন নভোচারীকে নিয়ে মহাকাশে থাকতে পারবে। এর বিশেষ ‘হিটশিল্ড’ বা তাপ সুরক্ষা ব্যবস্থা ২৭০০° সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপ সহ্য করে নিরাপদে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করতে পারে। ‘লকহিড মার্টিন’-এর তৈরি ক্যাপসুলটি অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে উন্নত ও দ্রুতগামী।
02 Apr 2026, 04:19 AM
বৃহত্তম রকেট
মানুষের মহাকাশ জয়ের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে নাসা তৈরি করেছে তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রকেট। ‘স্পেস লঞ্চ সিস্টেম’ বা এসএলএস নামের রকেটের মূল অংশটি ২১২ ফুট লম্বা। যাত্রার সময় রকেটটি প্রায় ৮৮ লাখ পাউন্ড ধাক্কা বা শক্তি তৈরি করে মহাকাশের দিকে ছুটে যাবে। যাত্রার শুরুতে রকেটের দুই পাশে থাকা দুটি বুস্টারই প্রয়োজনীয় শক্তির প্রায় ৭৫ শতাংশ যোগান দেবে।
উৎক্ষেপণের লক্ষ্যে এ বিশাল আকারের রকেট তৈরির প্রক্রিয়াটি ছিল বেশ ধীর গতির। রকেটের দুই পাশের একেকটি বুস্টার ১০টি আলাদা অংশ জুড়ে তৈরি। এ জোড়া দেওয়ার কাজ শুরু হয় রকেটের দুই পাশের বুস্টারগুলো দিয়ে। কর্মীরা একটির পর একটি অংশ ধাপে ধাপে সাজিয়ে এসব বুস্টার তৈরি করেছেন।
রকেটটি যত লম্বা হতে থাকে তত এর ভারসাম্য ধরে রাখার জন্য কর্মীরা পর্যায়ক্রমে একবার একপাশের ও পরে অন্যপাশের অংশ যোগ করতে থাকেন।
প্রতিটি অংশ খুব সাবধানে সারিবদ্ধ করে বোল্ট দিয়ে শক্ত করে আটকানো হয়। এভাবেই পাঁচটি করে আলাদা অংশ জুড়ে দুটি পূর্ণাঙ্গ বুস্টার তৈরি হয়েছে, যার একেবারে মাথায় বসানো হয় অগ্রভাগ বা ‘নোজ কোন’।
রকেটের দুই পাশের বুস্টারগুলো পুরোপুরি জোড়া লাগানোর কাজ হচ্ছে এর মূল অংশ বা ‘কোর’ বসানো। এ অংশটি লম্বায় ২১২ ফুট ও এর ভেতরে প্রায় ৭ লাখ গ্যালন অতি-শীতল জ্বালানি জমা থাকে। বুস্টারগুলোর সঙ্গে এ মূল অংশের সংযোগ ঘটানোর কাজটি ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।
এজন্য বিশালাকার এ রকেটটিকে প্রথমে লম্বালম্বিভাবে ওপরে তোলা হয়, তারপর বুস্টার দুটির মাঝখানের সরু জায়গায় খুব সাবধানে নামিয়ে এনে একবার ঠিকঠাক বসে যাওয়ার পর মূল অংশটিই পুরো রকেটের মেরুদণ্ড বা প্রধান কাঠামো হিসেবে কাজ করে।
কঠিন কাজটি শেষ হওয়ার পর পরবর্তী ধাপে ‘লঞ্চ ভেহিকল স্টেজ অ্যাডাপ্টার’ বসান নাসার কর্মীরা, যা রকেটের কাঠামোকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি এর ভেতরের সংবেদনশীল বৈদ্যুতিক ও বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখে।
সবশেষে বসানো হয় ‘ইন্টারিম ক্রায়োজেনিক প্রপালশন স্টেজ’, যা রকেটের উপরের অংশ। রকেটের উপরের অংশে বসানো হয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘ওরিয়ন’ ক্রু ক্যাপসুল ও এর জরুরি বহির্গমন ব্যবস্থা।
এসএলএস রকেটের মূল কাঠামোর প্রধান ঠিকাদার বোয়িং, ‘নরথ্রপ গ্রুম্যান’ হচ্ছে রকেটের সলিডফুয়েল বুস্টারের নির্মাতা এবং ওরিয়ন ক্রু ক্যাপসুলটি নির্মাণ করেছে ‘লকহিড মার্টিন’।
02 Apr 2026, 04:18 AM
আর্টেমিস টু: যা যা জানার আছে
02 Apr 2026, 04:18 AM
নভোচারীরা পৃথিবীর সঙ্গে সম্পর্কহীন থাকবেন ৪১ মিনিট

এই মিশনে নভোচারীরা যখন চাঁদের ‘ফার সাইড’ বা অন্ধকার পিঠে যাবেন তখন পৃথিবী থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।
এর কারণ, ওরিওন ক্যাপসুল চাঁদের পেছনে থাকলে চাঁদ নিজেই পৃথিবী ও মহাকাশযানের মধ্যে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। ফলে রেডিও সিগনাল পৃথিবীতে পৌঁছাতে পারবে না, যা অ্যাপোলো মিশনের সময়ও ঘটেছিল।
সেই সময়টুকুতে নবোচারীরা সম্পূর্ণ একা থাকবেন, যা মহাকাশ ভ্রমণের এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। নাসার তথ্যমতে, এই ব্ল্যাকআউট বা যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা প্রায় ৪১ মিনিট স্থায়ী হতে পারে।
ওরিওন যখন চাঁদের পেছন থেকে আবার পৃথিবীর সামনে আসবে তখন নাসার ‘ডিপ স্পেস নেটওয়ার্ক’ দ্রুত আবার সিগনালটি ধরে ফেলবে।
02 Apr 2026, 04:15 AM
নতুন জটিলতার কথা জানাল নাসা, উৎক্ষেপণের সময় ঘনিয়ে আসছে
বছরের পর বছর পরিকল্পনা, নকশা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আর্টেমিস–২ মিশন উৎক্ষেপণের সময় ঘনিয়ে এসেছে।
জরুরি পরিস্থিতিতে নভোচারীদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য ব্যবহৃত লঞ্চ অ্যাবর্ট সিস্টেমের চূড়ান্ত হ্যাচ ইতোমধ্যে বন্ধ করা হয়েছে।
লঞ্চপ্যাড থেকে ‘ক্লোজ-আউট’ ক্রুরা এখন সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
তবে সব সিস্টেম এখনও পরীক্ষা করা হচ্ছে, এবং নাসা জানিয়েছে তারা এখন একটি ব্যাটারির তাপমাত্রা সংক্রান্ত সমস্যা খতিয়ে দেখছে।
উৎক্ষেপণের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চলবে এই রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা।
02 Apr 2026, 04:13 AM
উৎক্ষেপণের অপেক্ষা
02 Apr 2026, 04:09 AM
ত্রুটির সমাধান, উৎক্ষেপণ চলবে
বিবিসি জানিয়েছে, মাঠ পর্যায়ে থাকা নাসা দলের কাছ থেকে সদ্য পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন তারা “উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত” বা ‘গো ফর লঞ্চ’ অবস্থায় রয়েছে।
সব মহলে স্বস্তি ফিরে এসেছে—স্পেস সেন্টারে উপস্থিত দর্শকদের লাইভ সম্প্রচারে উল্লাসধ্বনি শোনা যাচ্ছে।
নাসা জানিয়েছে, আগের স্পেস শাটল কর্মসূচির পুরোনো হার্ডওয়্যার ব্যবহার করে যে সমাধান পরীক্ষা করা হচ্ছিল, সেটির মাধ্যমে টার্মিনেশন সিস্টেমটি সচল করা সম্ভব হয়েছে।
এছাড়া আবহাওয়াও এখন তুলনামূলক অনুকূলে এসেছে; মেঘ সরে যেতে শুরু করেছে। এটা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মেঘ থাকলে বজ্রপাতের ঝুঁকি থাকে।
কিছু মেঘ সরাসরি বজ্রপাত না ঘটালেও তাতে বৈদ্যুতিক চার্জ থাকে। উচ্চ গতিতে রকেট সেই মেঘের ভেতর দিয়ে গেলে সেটি বজ্রপাতের সূচনা ঘটাতে পারে।
02 Apr 2026, 04:00 AM
মহাকাশযানের ভেতরে নভোচারীরা
The Artemis II crew is boarding Orion.
— NASA Administrator Jared Isaacman (@NASAAdmin) April 1, 2026
Reid, Victor, Christina, and Jeremy are taking their seats atop the most powerful manned rocket ever built. They have trained for years for this moment, and now they are preparing to execute a mission that will take us back around the Moon… pic.twitter.com/kzwwdGSaAe
02 Apr 2026, 03:58 AM
বন্ধ হল মহাকাশযানের দরজা

টার্মিনেশন সিস্টেমে সমস্যা থাকার পরও নাসার দলটি শেষ মুহূর্তের কাজগুলো চালিয়ে যাচ্ছে।
তারা এখন ওরিয়ন মহাকাশযানের প্রবেশের পথ বা হ্যাচ বন্ধ করে দিচ্ছে। আগামী ১০ দিনের জন্য রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ ও জেরেমি হ্যানসেন এ চারজন মানুষের দেখা পাওয়া শেষ ব্যক্তি হবেন এই কর্মীরাই।
এখন থেকে পরবর্তী ১০ দিন তারা কেবল এ চারজনই একসঙ্গে থাকবেন। তবে আশার কথা, তাদের মধ্যে ভালো বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। তাদের একসঙ্গে দেখলে বোঝা যায়, তারা একে অপরকে কতটা ভালো জানেন ও পছন্দ করেন।
তারা বলেছেন, তাদের মধ্যকার বন্ধন এখন এতটাই গভীর যে তারা একে অপরের মনের কথাও বুঝতে পারেন।
02 Apr 2026, 03:52 AM
শেষ মুহূর্তে রকেটের ‘টার্মিনেশন সিস্টেম’-এ ত্রুটি
গত কয়েক মিনিটের মধ্যে জানা গেছে, উৎক্ষেপণের আগের পরীক্ষায় রকেটের ‘টার্মিনেশন সিস্টেম’ বা ধ্বংস করা ব্যবস্থায় একটি সমস্যা দেখা দিয়েছে।
‘টার্মিনেশন সিস্টেম’ রকেটের ভেতরে থাকা একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যা রকেটটি ভুল পথে চলে গেলে সেটিকে মাঝ আকাশেই ইচ্ছাকৃতভাবে ধ্বংস করে ফেলে। ফলে রকেটের ধ্বংসাবশেষ পৃথিবীপৃষ্ঠের কোনো মানুষ বা সম্পদের ক্ষতি করতে পারে না।
ভূমি নিয়ন্ত্রণ কক্ষে থাকা কর্মীদের সঙ্গে এই সিস্টেমের যোগাযোগে সমস্যা হচ্ছে। এজন্য উৎক্ষেপণের আগে হার্ডওয়্যারগুলো পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না।
এ সমস্যাটি হয়েছে মাটির কন্ট্রোল সেন্টারে। প্রকৌশলীরা এ সমস্যা সমাধানের জন্য এমন কিছু হার্ডওয়্যার ব্যবহারের চেষ্টা করছেন, যা আগে ‘স্পেস শাটল’-এর সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হত।
নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তারা এই সমস্যার সমাধান করতে না পারলে উৎক্ষেপণ স্থগিত করা হবে। তবে আপাতত উৎক্ষেপণের কাউন্টডাউন চলছে।
02 Apr 2026, 03:47 AM
৪ লাখ মানুষের অপেক্ষায় শুরু হচ্ছে নাসার চন্দ্রাভিযান
ফ্লোরিডা থেকে চাঁদের উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছে মানুষবাহী রকেট। ১৯৭২ সালের পর এই প্রথম মানুষ পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথ পেরিয়ে আরও দূরে পাড়ি জমাচ্ছে।
ফ্লোরিডার ‘স্পেস কোস্ট’-এ সূর্য ডোবার ঠিক এক ঘণ্টারও কিছু বেশি সময় আগে বুধবার প্রায় ৪ লাখ মানুষ ভিড় করবেন সমুদ্র সৈকত আর এখানের যাতায়াতের রাস্তাগুলোতে।
প্রায় ৫৪ বছর পর তারা এক অগ্নিঝরা মহাজাগতিক দৃশ্যের সাক্ষী হতে যাচ্ছেন, যেখানে নাসার সম্পূর্ণ এক মানুষবাহী রকেট আবারও চাঁদের পানে ছুটে চলবে।
আর্টেমিস ২ মিশনের এই মহাকাশযাত্রা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশ সময় ভোর ৬টা ২৪ মিনিটে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ও শেষ মুহূর্তে কোনো কারিগরি জটিলতা দেখা না দিলে মানুষ পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথ ছেড়ে মহাকাশে এত দূরে পাড়ি জমাবে।
রোববার কেনেডি স্পেস সেন্টারে সাংবাদিকদের নাসার অভিজ্ঞ নভোচারী ও আর্টেমিস ২ মিশনের কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান বলেছিলেন, “দেশ ও পুরো বিশ্ব দীর্ঘ সময় ধরে এই মুহূর্তটির অপেক্ষায় রয়েছেন।”
তিনজন আমেরিকান ও একজন কানাডিয়ান নভোচারীর এ দলটি এখন উৎক্ষেপণের আগে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন।
02 Apr 2026, 03:41 AM
কেন গুরুত্বপূর্ণ

আর্টেমিস ২ হচ্ছে নাসার কয়েশ কোটি ডলারের ‘আর্টেমিস’ প্রকল্পের প্রথম মানববাহী মিশন। এ মিশনে মানুষ চাঁদে অবতরণের চেষ্টা করবে না। তবে তা নভোচারীদের পৃথিবীর থেকে আগের যে কোনো মানব মহাকাশভ্রমণের তুলনায় আরও অনেক দূরে নিয়ে যাবে।
এ অভিযানের মাধ্যমে ওরিয়ন মহাকাশযানের জীবনরক্ষাকারী ব্যবস্থা, ন্যাভিগেশন, যোগাযোগ ও তাপ নিরোধক শিল্ডের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে।
ভবিষ্যতে কেবল চাঁদের পৃষ্ঠে পা রাখাই নয়, বরং সেখানে মানুষের দীর্ঘমেয়াদী উপস্থিতি নিশ্চিত করা ও পরবর্তী ধাপে মঙ্গল অভিযানের প্রস্তুতিপর্ব হিসেবে এ প্রকল্পকে দেখা হচ্ছে।
রয়টার্স লিখেছে, চীনের সঙ্গে ক্রমাগত প্রতিযোগিতার মুখে মহাকাশে নিজেদের নেতৃত্ব ধরে রাখার জন্য আর্টেমিস মিশনটিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন।
02 Apr 2026, 03:33 AM
কারা আছেন মিশনে
দীর্ঘ পাঁচ দশক পর আবার চাঁদে মানুষকে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে আর্টেমিস ২ মিশনে চারজন অভিজ্ঞ নভোচারীকে নির্বাচিত করেছে নাসা।
তারা হলেন মিশনের কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার, মিশন স্পেশালিস্ট ক্রিস্টিনা কোচ ও কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন।
মিশনের পাইলট গ্লোভার হবেন চাঁদের কাছাকাছি ভ্রমণকারী প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নভোচারী। কোচ হবেন এ কৃতিত্ব পাওয়া প্রথম নারী, আর হ্যানসেন হবেন পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথের বাইরে যাওয়া প্রথম অ-মার্কিন নভোচারী।
৫০ বছর বয়সী ওয়াইজম্যান ২০১৪ সালে রাশিয়ান সয়ুজ মহাকাশযানে চড়ে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন বা আইএসএস ১৬৫ দিন কাটিয়েছিলেন।
মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক এ টেস্ট পাইলট আর্টেমিস ২-এর কমান্ডার হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার আগে নাসার প্রধান নভোচারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ওয়াইজম্যান।
৪৯ বছর বয়সী গ্লোভার ২০২০ সাল থেকে মহাকাশে ১৬৮ দিন পার করেছেন। নাসায় যোগদানের আগে মার্কিন নৌবাহিনীতে থাকাকালীন ৪০টিরও বেশি প্লেন চালিয়েছেন তিনি, যার মধ্যে যুদ্ধে মোতায়েন ও টেস্ট পাইলটের দায়িত্ব অন্তর্ভুক্ত ছিল।
৪৭ বছর বয়সী কোচ ২০১৯ সালে টানা ৩২৮ দিন মহাকাশ স্টেশনে থেকে কোনো নারীর দীর্ঘতম মহাকাশ ভ্রমণের রেকর্ড গড়েছিলেন। ইলেকট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ার ও পদার্থবিজ্ঞানী হিসেবে প্রশিক্ষিত কোচ এর আগে নাসার প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করেছেন ও অ্যান্টার্কটিকায় দীর্ঘমেয়াদী গবেষণা অভিযানে অংশ নিয়েছেন।
মিশনটি ৫০ বছর বয়সী হ্যানসেনের জন্য প্রথম মহাকাশযাত্রা হতে যাচ্ছে। ২০০৯ সালে কানাডা থেকে নভোচারী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।
02 Apr 2026, 03:30 AM
উৎক্ষেপণ কখন
নাসার আর্টেমিস ২ মিশনের উৎক্ষেপণ ১ এপ্রিল বুধবার নির্ধারিত হয়েছে। ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে, বাংলাদেশ সময় ২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ভোর ৪টা ২৪ মিনিটে এই উৎক্ষেপণের কথা রয়েছে।
তবে আবহাওয়া, কারিগরি প্রস্তুতি ও রেঞ্জ সহজলভ্যতার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী দিনগুলোতেও উৎক্ষেপণ হতে পারে। আর্টেমিস ২ উৎক্ষেপণ এ মাসের ৩০ তারিখ পর্যন্ত পেছাতে পারে।
02 Apr 2026, 03:21 AM
আর্টেমিস মিশন কী
আর্টেমিস কর্মসূচি হচ্ছে অ্যাপোলো যুগের পর মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার আবারও চাঁদে মানুষ পাঠানোর এক ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক চন্দ্রাভিযান কর্মসূচি।
‘আর্টেমিস ১’, ‘আর্টেমিস ২’ ও ‘আর্টেমিস ৩’ নামে আর্টেমিস মিশন তিনটি প্রধান ধাপে পরিকল্পিত, যার লক্ষ্য পর্যায়ক্রমে মানুষকে চাঁদে নিয়ে যাওয়া।
আর্টেমিস ১ উৎক্ষেপিত হয় ২০২২ সালে, যা ছিল মানববিহীন পরীক্ষামূলক ধাপ। এ মিশনে শক্তিশালী এসএলএস রকেট ও ওরিয়ন ক্যাপসুল কোনো নভোচারী ছাড়াই চাঁদের কক্ষপথ ঘুরে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে আসে।
এখন হতে যাচ্ছে আর্টেমিস মিশনের প্রথম মানববাহী ধাপ আর্টেমিস ২। চারজন নভোচারী ওরিয়ন ক্যাপসুলে করে চাঁদের চারপাশ প্রদক্ষিণ ও মহাকাশযানের সব ব্যবস্থা পরীক্ষা করবেন। তবে তারা এই ধাপে চাঁদে অবতরণ করবেন না।
আর্টেমিস ৩ মিশনের এখনও পর্যন্ত সম্ভাব্য উৎক্ষেপণ তারিখ ২০২৭, যেটি আর্টেমিস মিশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এ ধাপে ৫৩ বছর পর মানুষ পুনরায় চাঁদের মাটিতে পা রাখবেন। এ মিশনেই প্রথম কোনো নারী ও কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তিকে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে নাসার।
এরপর আরও কয়েকটি ধাপে আর্টেমিস প্রোগ্রামটি এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে নাসা।
02 Apr 2026, 03:19 AM
লাইভ ব্লগে স্বাগতম
৫০ বছর পর ফের চাঁদের কক্ষপথে মানুষ পাঠানোর মঞ্চ প্রস্তুত। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নাসার ‘আর্টেমিস ২’ মিশনের মাধ্যমে চারজন নভোচারী খুব কাছ থেকে চাঁদের চারপাশ ঘুরে আসবেন। সব ঠিক থাকলে আর এক ঘণ্টার মধ্যে ওরিয়ন ক্রু ক্যাপসুলে চার নভোচারীকে নিয়ে মহাকাশের পথে যাত্রা করবে নাসার এসএলএস রকেট। রোমাঞ্চকর এই অভিযানের সূচনায় সবশেষ খবরাখবর নিয়ে আপনাদের সঙ্গে আছি জান্নাতুল ফেরদৌস ও হাসান বিপুল।
