৫৫ কোটি ডলারের চুক্তিতে চীনে বিদ্যুৎকেন্দ্র বানাবে টেসলা
চীনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ওয়েইবো’তে টেসলা বলেছে, প্রকল্পটির কাজ শেষ হলে এটিই হবে চীনে তাদের এ ধরনের সবচেয়ে বড় প্রকল্প।
বেইজিং ও ওয়াশিংটনের বাণিজ্যিক সম্পর্কে টানাপোড়েনের মধ্যেই চীনে প্রথমবারের মতো বড় আকারের ব্যাটারিনির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরির চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে ইলন মাস্কের মার্কিন বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি টেসলা।
চীনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ওয়েইবো’তে মার্কিন কোম্পানিটি বলেছে, প্রকল্পটির কাজ শেষ হলে এটিই হবে চীনে তাদের এ ধরনের সবচেয়ে বড় প্রকল্প।
বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য রাখতে সাহায্য করে বড় আকারের ব্যাটারি শক্তি সঞ্চয় ব্যবস্থা। সৌর ও বায়ুর মতো অনিয়মিত উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কারণে সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে যে অসামঞ্জস্য তৈরি হয় তা মেটাতে এ ধরনের ব্যবস্থার প্রয়োজন ক্রমেই বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে অনুসারে, চীনা গণমাধ্যম ইকাই প্রথম জানিয়েছে, চারশ কোটি ইউয়ান বা ৫৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার মূল্যের এ চুক্তিটি স্বাক্ষর হয়েছে টেসলা এবং সাংহাইয়ের স্থানীয় সরকার ও অর্থায়ন প্রতিষ্ঠান ‘চায়না কাঙ্গফু ইন্টারন্যাশনাল লিজিং’য়ের মধ্যে।
টেসলা বলেছে, এ বছরের প্রথম প্রান্তিকে তাদের সাংহাইয়ের ব্যাটারি কারখানায় একশটির বেশি মেগাপ্যাক তৈরি হয়েছে, যা মূলত বড় আকারের বিদ্যুৎ গ্রিডের জন্য ডিজাইন করা ব্যাটারি। একটি মেগাপ্যাক চার ঘণ্টা পর্যন্ত এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারে।
টেসলা ওয়েইবো’তে বলেছে, “এ গ্রিডসাইড এই শক্তি সঞ্চয় কেন্দ্র শহরের বিদ্যুতের জন্য একটি ‘স্মার্ট নিয়ন্ত্রক’, যা খুব সহজে গ্রিডে বিদ্যুৎ সমন্বয় করতে পারবে।”
টেসলা আরও বলেছে, এটি “শহরের বিদ্যুৎ সরবরাহের চাপ কার্যকরভাবে কমিয়ে আনবে ও শহরের বিদ্যুতের চাহিদা নিরাপদ, স্থিতিশীল ও কার্যকরভাবে পূরণের বিষয়টিও নিশ্চিত করবে। প্রকল্পটি শেষ হলে এটি চীনের সবচেয়ে বড় গ্রিডসাইড শক্তি সঞ্চয় প্রকল্পে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।”
কোম্পানিটির ওয়েবসাইট অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি মেগাপ্যাকের মূল্য প্রায় ১০ লাখ ডলারের একটু কম হবে। তবে চীনের জন্য নির্দিষ্ট মূল্য এখনও প্রকাশ করেনি টেসলা।
সিএনবিসি লিখেছে, এ চুক্তি টেসলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ চীনের দুই বড় কোম্পানি ‘সিএটিএল’ ও গাড়ি নির্মাতা বিওয়াইডি একই ধরনের ব্যাটারি বানায় এবং টেসলার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে তারা। এ দুটি চীনা কোম্পানি ব্যাটারি প্রযুক্তি ও উৎপাদনে বড় অগ্রগতিও অর্জন করেছে, যার মধ্যে গোটা বিশ্বের ব্যাটারি বাজারের প্রায় ৪০ শতাংশ একাই দখল করে আছে ‘সিএটিএল’।
রয়টার্স প্রতিবেদনে লিখেছে, সিএটিএল আশা করছে, টেসলার মেগাপ্যাকের জন্য ব্যাটারি সেল ও প্যাক সরবরাহ করবে তারা।
চীনের স্থানীয় সরকারের সঙ্গে টেসলার এ চুক্তিটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ খবরটি এমন সময়ে এল যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প চীনা পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্কের পরিমাণ বাড়িয়েছেন। ফলে বিশ্বের দুই বড় অর্থনীতির মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক টানাপড়েনের মুখে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে সিএনবিসি।
এদিকে, দুই দেশের মধ্যে এ বাণিজ্য যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিলেন টেসলা’র প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক। ওই সময়ে তাদের মধ্যকার এমন সম্পর্ক চীনে মার্কিন গাড়ি নির্মাতাদের ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গিকেও আরও জটিল করে তুলেছিল।
তবে চীনে বড় আকারের ব্যাটারি স্থাপনের চাহিদা অনেক বেশি। গত বছরের মে মাসে বেইজিং নতুন এক লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যার আওতায় ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ প্রায় পাঁচ গিগাওয়াট নতুন ব্যাটারিচালিত বিদ্যুৎ যোগ করবে দেশটি, যা মোট বিদ্যুৎ সক্ষমতাকে ৪০ গিগাওয়াটে নিয়ে যাবে।
নিজেদের সাংহাই কারখানা থেকে তৈরি বিভিন্ন মেগাপ্যাক ইউরোপ ও এশিয়ায় রপ্তানি করে গোটা বিশ্বের চাহিদা মেটাচ্ছে টেসলা।
আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা বা আইইএ-এর তথ্য অনুসারে, ২০২৩ সালে বিশ্বজুড়ে ব্যাটারি শক্তি সঞ্চয় ব্যবস্থার সক্ষমতা ৪২ গিগাওয়াট বেড়েছে, যা আগের বছরের বৃদ্ধির তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
