সিশেলসকে দুর্বল ভেবে ‘পরে আফসোস’ করতে চান না কাবরেরা
দুই ম্যাচেই জয়ের প্রশ্নে দারুণ আশাবাদী বাংলাদেশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরা।
বাড়ির উঠানে ম্যাচ, ফিফা র্যাঙ্কিংয়েও সিশেলসের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ। দ্বিপাক্ষিক সিরিজ সামনে রেখে সিশেলস প্রস্তুতি নিয়েছে ছয়টি সেশন, বাংলাদেশের প্রস্তুতি প্রায় ১৭ দিনের। এমন অনেক কিছুই হাভিয়ের কাবরেরার অনুকূলে। কিন্তু বাংলাদেশ কোচ পা রাখছেন বাস্তবের শক্ত জমিনে। প্রতিপক্ষকে দুর্বল ভেবে পরে আফসোসের আগুনে পুড়তে চান না তিনি।
প্রায় ছয় মাস পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফিরতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে শনিবার বেলা পৌনে ৪টায় শুরু হবে ম্যাচটি। দ্বিপাক্ষিক সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচটি একই মাঠে গড়াবে ২৮ মার্চ।
২০২৩ সালে এই প্রথম খেলতে নামছে দুই দলই। গত বছরের পরিসংখ্যানের পাতায় সিশেলসের জন্য সুখের কোনো স্মৃতি নেই। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ১৯৯তম স্থানে থাকা দলটি হেরেছিল ৯ ম্যাচের ছয়টিতে, বাকি তিনটি ড্র। বাংলাদেশের প্রাপ্তিও অম্ল-মধুর। আট ম্যাচের মধ্যে জয় কেবল কম্বোডিয়ার বিপক্ষে। দুটিতে ড্র, বাকি ছয়টিতে হার।
গত ১৫ মার্চ সৌদি আরবে প্রস্তুতির ফাঁকে আফ্রিকার দল মালাবির বিপক্ষে একটি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। ১-১ ড্র হয় ওই ‘আন-অফিসিয়াল’ ম্যাচটি। সিশেলসের বিপক্ষে সিরিজ তাই পাখির চোখ করেছেন কাবরেরা।
“আমাদের লক্ষ্য দুটি ম্যাচই জেতা। সিশেলসকে আমি দুর্বল বা অ্যামেচার দল ভাবতে চাই না, কেননা আমাদেরকে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করতে হবে এবং ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলতে হবে, যেটা করতে না পারা আমাদের গত বছরের মূল সমস্যা ছিল। আমরা সবসময় ভালো-মন্দ মিশিয়ে পারফর্ম করি; আমাদের আরও ধারাবাহিক হতে হবে, যেটা আমরা সৌদি আরবে দুই প্রস্তুতি ম্যাচে করেছি এবং সেটা করতে সিশেলসের বিপক্ষে সিরিজ আমাদের জন্য ভালো সুযোগ। আমাদের দুই ম্যাচেই সিরিয়াস হতে হবে।”
“কোনো চাপ অনুভব করছি না। কিন্তু আমি মনে করি, চাপ থাকাটাও গুরুত্বপূর্ণ এবং আমাদের সর্বোচ্চ পেশাদার মানসিকতা নিয়ে প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হবে; তারা র্যাঙ্কিংয়ে আমাদের চেয়ে এগিয়ে বা পিছিয়ে, যেখানেই থাকুক না কেন। কদিন আগেই কমোরোসের বিপক্ষে ড্র করেছে সিশেলস, তাদের চেয়ে র্যাঙ্কিংয়ে যারা ১৭ ধাপ এগিয়ে। তাই আমি বিশ্বাস করি না, ওরা দুর্বল দল এবং সেটা ভাবলে প্রথম ভুলটি করা হবে এবং পরে আফসোস করতে হবে।”
শারীরিক গড়নে এগিয়ে থাকা সিশেলসের খেলোয়াড়দের নিয়ে সতর্ক কাবরেরা। বিশেষ করে ইংল্যান্ডে খেলা দুই ডিফেন্ডার ড্যারিল লুইস ও মাইকেল মানচিনে আছে বাংলাদেশ কোচের ভাবনায়। তবে সব বাধা পেরিয়ে তিনি মুখিয়ে আছেন আসছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ও বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্রস্তুতি জয়ের সুবাস মেখে সেরে নিতে।
“সিশেলস শারীরিক শক্তিনির্ভর দল এবং তাদের দলে বেশ কয়েকজন ব্যক্তিগত নৈপুণ্য নির্ভর খেলোয়াড় আছে, বিশেষ করে আক্রমণভাগে। তাদের নিয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। তবে তাদের প্রতি আমাদের খুব বেশি মনোযোগ দিলে চলবে না, তার চেয়ে বরং নিজেদের খেলার প্রতি এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মনোযোগী হতে হবে বেশি।”
“বাংলাদেশের মানুষ যেন জাতীয় দল নিয়ে গর্ব করতে পারে, আমরা সিলেটে তেমন পারফর্ম করে দেখাতে চাই। এই দুটি ম্যাচ জেতা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, আমাদের লক্ষ্যটা আরও বড়, সামনে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ এবং বিশ্বকাপের বাছাই রয়েছে। সমর্থকদের সমর্থন আমাদের প্রয়োজন এবং আমাদের আকর্ষণীয় দল হয়ে ওঠা দরকার।”
