ক্রুসকে কুর্নিশ করে ভিনিসিউস বললেন, ‘দারুণ উপহার’, রদ্রিগোর চোখে ‘অবিশ্বাস্য'
বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে টনি ক্রুসের জাদুকরি সেই পাসের মায়াজালে মুগ্ধ ও মোহিত সবাই।
ম্যাচের আগে রেয়াল মাদ্রিদকে নিয়ে সমীহ জাগানিয়া অনেক কথা বলেছিলেন টমাস টুখেল। এর মধ্যে একটি কথা ছিল এরকম, রেয়াল মাদ্রিদ গোল করার ১০ সেকেন্ড আগেও বোঝা যায় না যে, তারা গোল করতে যাচ্ছে। বায়ার্ন মিউনিখ কোচের সেই মন্তব্যের প্রামাণ্য চিত্র যেন মাঠে মেলে ধরলেন টনি ক্রুস ও ভিনিসিউস জুনিয়র। ক্রুসের অসাধারণ পাস ও ভিনিসিউসের নিখুঁত ফিনিশিংয়ে তৈরি হলো জাদুকরি মুহূর্তের।
ক্রুসের সেই পাসের আগ পর্যন্ত ম্যাচ ছিল বায়ার্নময়। খেলা শুরু হতেই রেয়াল মাদ্রিদকে প্রবলভাবে চেপে ধরে তারা। প্রথম ২০ মিনিট একরকম কোণঠাসা হয়েই ছিল রেয়াল। এরপর ২৪তম মিনিটে ক্রুসের সেই জাদু।
মাঝমাঠের একটু ওপরে বল পেয়ে দুই পদক্ষেপ এগিয়ে হুট করেই দৃষ্টিনন্দন এক থ্রু পাস বাড়ান ক্রুস। বায়ার্নের চারজনের মাঝখান দিয়ে সেই ডিফেন্সচেরা পাস ধরে প্রথম ছোঁয়াতেই বল জালে পাঠান ভিনিসিউস।
গোলের পর যখন ধারাভাষ্যকার চিৎকার করে চলেছেন, মাঠে ও টিভি পর্দায় মুগ্ধতায় বিস্ফোরিত দর্শকদের চোখ, ভিনিসিউস তখন গোলের উদযাপন শেষ করে হাসিমুখে এগিয়ে গিয়ে কুর্নিশ করেন ক্রুসকে। যেন অঞ্জলি দিতে চাইলেন!
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমি-ফাইনালে প্রথম লেগের ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ড্র হয় ২-২ গোলে। জোড়া গোল করে ম্যাচের সেরা ভিনিসিউস। তবে ম্যাচের সেরা মুহূর্তটির জন্ম নিঃসন্দেহে ক্রুসের পায়ের জাদুতে।
ক্রুস অবশ্য ম্যাচ শেষে গোলটির সব কৃতিত্ব ভিনিসিউসকে দিয়ে নিজের পাস সম্পর্কে বলেছেন যে, এটা স্পেশাল কিছু নয়। কিন্তু ভিনিসিউস তো সত্যিটা জানেন!
ম্যাচশেষে মুভিস্টারকে সেই মুগ্ধতার কথা শোনালেন ভিনিসিউস। গোলটির ক্ষেত্রে দুজনের যে দুর্দান্ত বোঝাপড়া ছিল, তা অনুশীলনের ফসল।
“টনি (ক্রুস) সবসময়ই আমাদের জন্য কাজ সহজ করে তোলেন। আজকে সে আমাকে দারুণ একটি গোল উপহার দিয়েছে। অনুশীলনে আমরা একসঙ্গে প্রচুর কাজ করি। সে আমাকে খুব ভালো করে চেনে, আমিও তাকে চিনি।”
ক্রুসকে চেনেন আসলে সবাই। তার সামর্থ্য সম্পর্কে জানা সবার। তারপরও পাসটি এতটাই দারুণ যে, ম্যাচ শেষেও ঘোর কাটছিল না রদ্রিগোর।
“কী একটা পাস… অবিশ্বাস্য! বয়স তার (ক্রস) ক্ষেত্রে কোনো ব্যাপার নয়। তার সেই স্কিল ও জাত সবসময়ই আছে, যা দেখতে আমি ভালোবাসি।”
ম্যাচের আগে বায়ার্ন মিউনিখ কোচ যা বলেছিলেন, ম্যাচে সেই অভিজ্ঞতা হওয়ার পর ভিনিসিউস ও রেয়াল মাদ্রিদকে নিয়ে বাস্তব উপলব্ধিটাও অনুভব করতে পারছেন বায়ার্নের ডিফেন্ডার লেওন গোরেৎস্কা।
“আমরা ভিনিসিউসকে একটু চোখে আড়াল করেছিলাম, এতেই বিশাল ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়ে যায়। ওই সময়টায় মোটেও মনে হয়নি যে বিপজ্জনক কিছু হতে পারে। তবে রেয়ালের মান এরকমই এবং তাদেরকে সামলাতে সবসময়ই প্রস্তুত থাকতে হবে।”
“গত মৌসুমেও পিএসজির বিপক্ষে নেইমার ও এমবাপেকে নিয়ে এই অভিজ্ঞতা হয়েছিল আমাদের। এই ফুটবলারদের মান অবিশ্বাস্য। গোলমুখে তারা খুবই বিপজ্জনক। রক্ষণভাগে সবসময় খেলার চূড়ায় থাকতে হয় (তাদেরকে সামলাতে) এবং অবশ্যই অন্ধভাবে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।”
