২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

বিখ্যাত হলুদ জার্সিতে নিজেকে সেরা রূপে মেলে ধরার প্রতিশ্রুতি রদ্রিগোর

ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের কাছে মাঝের ৬ মাসের বিরতি যেন ছিল অনন্তকাল; সময় খুব কঠিন ছিল বলেও জানালেন তিনি।

বিখ্যাত হলুদ জার্সিতে নিজেকে সেরা রূপে মেলে ধরার প্রতিশ্রুতি রদ্রিগোর
রদ্রিগো। ছবি: রয়টার্স

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 07 Oct 2025, 05:21 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:25 PM

সাড়ে ছয় মাস, ১৯৫ দিনের দীর্ঘ বিরতির পর আবার জাতীয় দলে ফিরেছেন রদ্রিগো- সময়টা তার কাছে মনে হচ্ছে যেন অনন্তকাল। তবে, কঠিন সেই সময় পেছনে ফেলে, প্রথমবার কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিল দলে ডাক পেয়ে নিজের সেরাটা দিতে প্রস্তুত রেয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড।

আনচেলত্তির কোচিংয়ে রেয়াল মাদ্রিদে বেশ লম্বা সময় খেলেছেন রদ্রিগো। সেই সময়ে স্প্যানিশ ক্লাবটির অসাধারণ কিছু অর্জনের নায়কও ছিলেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। তাই তার সামর্থ্য সম্পর্কে যথেষ্টই জানেন অভিজ্ঞ এই ইতালিয়ান কোচ।

সেই তিনিই গত মে মাসে রেয়াল ছেড়ে দায়িত্ব নেন ব্রাজিল জাতীয় দলের। কিন্তু জুন ও সেপ্টেম্বরের চারটি বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচের স্কোয়াডে রদ্রিগোকে নেননি আনচেলত্তি। জাতীয় দলে ডাক না পাওয়াটা স্বাভাবিকভাবেই ভীষণ হতাশার ছিল ২৪ বছর বয়সী ফরোয়ার্ডের জন্য।

তার বাদ পড়ার পেছনে অবশ্য যৌক্তিক কারণও ছিল। গত মৌসুমের শেষ দিকে রেয়ালের কিছু ম্যাচ মিস করেছিলেন তিনি। এরপর শাবি আলোন্সোর কোচিংয়ে জুন-জুলাইয়ের ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপেও খুব বেশি খেলার সুযোগ পাননি তিনি।

তবে নতুন মৌসুমের শুরু থেকে অনেকটাই পাল্টে গেছে চিত্র। সেই ধারাবাহিকতায় এবার জাতীয় দলেও দুয়ার খুলে গেছে রদ্রিগোর সামনে। এশিয়া সফরে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচের দলে তাকে ও রেয়ালে তার সতীর্থ ফরোয়ার্ড ভিনিসিউস জুনিয়রকে ফিরিয়েছেন আনচেলত্তি।

অনেক দিন পর জাতীয় দলে সতীর্থদের মাঝে ফিরতে পেরে ভীষণ খুশি রদ্রিগো। মাঝের সময়টা কেমন ছিল, এখন কেমন বোধ করছেন, মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলনে সবই বললেন তিনি।

“মাঝের সময়টা লম্বা ছিল। জাতীয় দল থেকে দূরে থাকার সময়টা ছিল যেন অনন্তকাল। কঠিন সময় কেটেছে, অনেক কিছুর মধ্যে দিয়ে গিয়েছি। নিজের ওপর দৃষ্টি দিতে পারাটা বেশ ভালো ব্যাপারও ছিল, চিন্তা-ভাবনাকে পরিষ্কার করতে পেরেছি, লক্ষ্য স্থির করেছি।”

“এখন আমি ভালো অনুভব করছি এবং নিজের সেরাটা দিতে প্রস্তুত, আমার সামর্থ্যের সর্বোচ্চ।”

আনচেলত্তির কোচিংয়ে রেয়ালে একাধিক লা লিগা ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ আরও কয়েকটি শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছেন রদ্রিগো। এই কোচের কৌশল সম্পর্কে তাই খুব ভালো জানা আছে তার। আনচেলত্তির হাত ধরে এবার জাতীয় দলেও সাফল্যের ব্যাপারে আশাবাদী তিনি।

“আনচেলত্তির স্কোয়াডে থাকতে পারাটা আনন্দের, যিনি আমাকে অনেক সাহায্য করেছেন এবং আমার ক্যারিয়ারে নতুন গতি দিয়েছেন। তার হাত ধরেই আমি উ্ন্নতি করেছি, তার সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়াটা আনন্দের, এখানে থাকতে পারাটা কী দারুণ ব্যাপার, তাকে সেটা বলতে পারাও ভালো লাগার, এবং সবসময়ই বিষয়টা একইরকম আর একারণেই এখানে আসতে পেরে আমার খুব ভালো লাগছে। মাঝে অনেক দিন পেরিয়ে গেছে, তবে এখন আমি ভালো আছি আশা করি যতটা সম্ভব দলকে সাহায্য করতে পারব।”

২০১৯ সালের ১৫ নভেম্বর ১৮ বছর বয়সে জাতীয় দলে অভিষেক হয় রদ্রিগোর। সেই থেকে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ৩৩ ম্যাচ খেলে সাতটি গোল করেছেন তিনি। খেলেছেন ২০২২ সালের বিশ্বকাপেও, যদিও সেখানে সময়টা তার ও তার দলের ভালো কাটেনি। 

ওই সাত গোলের ছয়টিই তিনি করেছেন কাতার বিশ্বকাপের পর, তাতে এই সময়ে সেলেসাওদের হয়ে রাফিনিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি।

এই বয়সেই জাতীয় দলের হয়ে অনেক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা থাকায় অনেকে জাতীয় দলে রদ্রিগোর জায়গা পাকা দেখছেন। তবে তিনি নিজে সেভাবে ভাবছেন না।

“এই দলে আমার জায়গা নিশ্চিত নয়। কারো জায়গাই নিশ্চিত নয় এবং আমার এখনও অনেক কিছু দেখানোর আছে, বিশেষ কারণ হলো আমি নিজের সামর্থ্যে আত্মবিশ্বাসী। জাতীয় দলের জন্য আমি আরও ভালো কিছু করতে নিজেকে তাড়িত করব।”

কয়েক বছর ধরেই মাঠে সময়টা আশানুরূপ কাটেনি ব্রাজিলের। এবারের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে তারা ১৮ ম্যাচের ৬টিতে হারের তেতো স্বাদ পায়। জয় পায় মাত্র আট ম্যাচে। আসর শেষ করে পাঁচ নম্বরে থেকে।

আগামী বিশ্বকাপের আগে ঘাটতিগুলো পুষিয়ে নিয়ে, দল গুছিয়ে নিতে সামনে বেশ কয়েকটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে পাঁচবারের বিশ্বকাপ জয়ীরা। এর প্রথম ধাপে আগামী শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা। এরপর আগামী ১৪ অক্টোবর তারা খেলবে স্বাগতিক জাপানের সঙ্গে।