‘মদ আমাকে প্রায় শেষ করে দিচ্ছিল, জীবন বাঁচায় আমার স্ত্রী’
নিজের জীবন নিয়ে অকপটে বললেন ওয়েইন রুনি, কৃতজ্ঞতা জানালেন ২০ বছর ধরে তাকে আগলে রাখা স্ত্রী কোলিন রুনির প্রতি।
টানা দুই দিন মদ্যপান করে অনুশীলনে যোগ দিতেন, সপ্তাহান্তে ম্যাচ খেলে জোড়া গোল করে ফের টানা দুই দিন চালাতেন মদ্যপান- অনেকটা এমন ছিল ওয়েইন রুনির জীবন। অ্যালকোহলে এমন আসক্তিতে ডুবতে বসেছিলেন ইংল্যান্ড ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক এই স্ট্রাইকার। অকপটে সেই সময়ের বর্ণনা দিয়ে বললেন, সেই অবস্থা থেকে থেকে তাকে উদ্ধার করেন স্ত্রী কোলিন রুনি।
৩৯ বছর বয়সী রুনি ক্যারিয়ারের সমাপ্তি টানার সময় ছিলেন ইংল্যান্ড ও ইউনাইটের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ক্লাব রেকর্ড টিকে আছে এখনও, ইংল্যান্ডের রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন হ্যারি কেইন।
এমন রেকর্ড গড়া ক্যারিয়ার যেখানে ২০০৮ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন, পাঁচবার জিতেছেন প্রিমিয়ার লিগ। রিও ফার্ডিন্যান্ড পডকাস্টে এসে তিনি জানালেন, মদের নেশায় অতলে তলিয়ে যাচ্ছিলেন এবং মারাও যেতে পারতেন, যদি না তাকে রক্ষা করতেন স্ত্রী কোলিন, যাকে তিনি বিয়ে করেন ২০০৮ সালে।
২০১১ সালের ডিসেম্বরে ক্লাবের কঠোর আইন ভাঙার জন্য এবং সাউথপোর্টের একটি ককটেল বারে রাত কাটানোর জন্য রুনিকে দল থেকে বাদ দেন ইউনাইটেড কোচ অ্যালেক্স ফার্গুসন। ২০১৬ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক বিরতির সময় টিম হোটেলে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে নিজের ‘অনুপযুক্ত’ ছবি প্রকাশের পর ইংল্যান্ড কোচ গ্যারেথ সাউথগেটের কাছে ‘নিঃশর্তভাবে ক্ষমা’ চাইতে হয় তাকে।
মদ্যপানের সেই সময়ের অভিজ্ঞতার কথা বিস্তারিতই বলেন রুনি।
“আমার মনে আছে, চোখে ড্রপ দিয়ে অনুশীলনে যোগ দিতাম, চুউইংগাম চিবাতে চিবাতে। টানা দুই দিন পান করে, অনুশীলনে এসে এবং সপ্তাহান্তে জোড়া গোল করে এবং ফের দুই দিন টানা পান করেছিলাম।”
ফার্ডিন্যান্ড জানতে চান কঠিন এই সময় থেকে পরিত্রাণে কে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করেছেন? সে সময় স্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান সাবেক ইউনাইটেড ও ইংল্যান্ড অধিনায়ক রুনি।
“কোলিনের অবদান ছিল বিশাল।”
ডার্বি কাউন্টি, ডি সি ইউনাইটে, বার্মিংহ্যাম সিটি ও প্লাইমাউথ আর্গিলকে কোচিং করিয়ে আপাতত বিরতিতে আছেন রুনি। সাবেক এই ফরোয়ার্ড বললেন, স্ত্রীর জন্যই এখন পর্যন্ত কক্ষচ্যূত হননি তিনি। ২০ বছর ধরে তাকে আগলে রেখেছেন কোলিনই।
“আমি সত্যিই বিশ্বাস করি, যদি সে (কোলিন) না থাকত, আমি মারা যেতাম। এটা আমি বিশ্বাস করি। সে যা করেছে, যেভাবে সে… কখনও কখনও এটা বিরক্তিকর ছিল এবং তখন আমার ভাবনা ছিল এমন, কি করছ তুমি? বিরক্ত হতাম এবং সে সবকিছু করেছে আমাকে ঠিক রাখার জন্য, রেখেছেও… সেরা মানুষ।”
