‘সাবিনা আপুর মতো’ স্কোরার আছে দলে, বিশ্বাস আফঈদার
উইমেন’স এশিয়ান কাপের বাছাইয়ের আগে নিজেদের ভুল-ত্রুটি জর্ডান সফরে শুধরে নেওয়া মূল লক্ষ্য, বললেন বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক।
সাবিনা খাতুনকে ছাড়া গত মার্চে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে বাংলাদেশের আক্রমণভাগ ছিল বিবর্ণ। দুই ম্যাচে একটি করে গোল পেয়েছিল দল; দুটি গোলই করেছিলেন আফঈদা খন্দকার। এই ডিফেন্ডার আসছে জর্ডান সফরেও বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবেন। এই সফরেও দলে নেই সাবিনা। গোলের চাহিদা তাহলে মেটাবে কে-প্রশ্নটা তাই উঠছেই। আফঈদার দাবি, তার দলে স্কোরার আছে অনেকে।
আফঈদা মতে, এই অনেকের তালিকাও ছোট নয় একেবারে। গত উইমেন’স সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা এনে দেওয়ার পথে দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫ গোল করা তহুরা খাতুন আছেন জর্ডান সফরের দলে।
আছেন ঋতুপর্না চাকমাও, যিনি নেপালের বিপক্ষে ফাইনালে করেছিলেন জয়সূচক গোলটি। ওই আসরে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও জিতেছিলেন এই ফরোয়ার্ড। এছাড়া শামসুন্নাহার জুনিয়র, মারিয়া মান্দা ও মনিকা চাকমাও আছেন, যাদের পায়েও আছে গোল।
কিন্তু এদের কেউই সাবিনার মতো অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ নন। জাতীয় দলের হয়ে ৫৬ ম্যাচে ৩৬ গোলের দারুণ পরিসংখ্যান নেই ঋতুপর্না, তহুরা কারো নামের পাশে। তারপরও জর্ডান ও ইন্দোনেশিয়া সফরে আক্রমণভাগে শক্তির কমতি দেখছেন না আফঈদা।
“সাবিনা আপু বাংলাদেশের কিংবদন্তি খেলোয়াড়। কোচের সিদ্ধান্ত কোচ কীভাবে দল সাজাবেন। আমাদের দলেও অবশ্যই গোল করার মতো ফরোয়ার্ড আছে। ঋতুপর্ণা, শামসুন্নাহার জুনিয়র, তহুরা আপু আছেন। মনিকা, মারিয়া আপু আছেন। এই দলে ভারসাম্য আছে। ইনশাল্লাহ ভালো কিছু হবে।”
সাফ জয়ের পর কোচের বিরুদ্ধে ‘বিদ্রোহ’ করা ১৮ জনের মধ্যে ৯ জন ফিরেছেন জর্ডান সফরের দলে। ৩১ মে ইন্দোনেশিয়া ও ৩ জুন জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে সোমবার রওনা হওয়া দলের সঙ্গী হবেন তারাও। আরব আমিরাত সফরের মতো এ সফরেও ব্রাত্য সাবিনা, কৃষ্ণা রানী সরকার, সানজিদা আক্তার, মাসুরা পারভীনদের মতো নির্ভরযোগ্য ও অভিজ্ঞরা।
এই সফরের বাংলাদেশের মূল উদ্দেশ্যে আগামী জুনের শেষ দিকে মিয়ানমারে হতে যাওয়া উইমেন’স এশিয়ান কাপের বাছাইয়ের প্রস্তুতি সেরে নেওয়া। ঢাকায় বাটলার গত এপ্রিল থেকে কখনও আবাহনী মাঠে, কখনও বসুন্ধরা কিংসের আঙিনায় নিয়েছেন বাছাইয়ের প্রস্তুতি।
আবাহনীর মাঠ অনুশীলনের উপযোগী নয়, এমন খেদ বাফুফের নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণও রোববার সংবাদ সম্মেলনে অকপটে বলেছেন। তবে, তার পাশে বসেই অধিনায়ক আফঈদা শোনালেন, প্রতিকূল স্রোত ডিঙিয়ে জর্ডান সফরে ভালো কিছু পাওয়ার আশাবাদ।
“আমরা ৭-৮ সপ্তাহ অনুশীলন করেছি। মাঠের সমস্যা ছিল, ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেও অনুশীলন করেছি। আমরা ফেডারেশনকে বলেছিলাম, বাছাইয়ের আগে শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলতে চাই, যেন আমরা নিজেদের ভুল-ত্রুটিগুলো শুধরাতে পারি। ফেডারেশন আমাদের সে সুযোগ করে দিয়েছে। আমরা চেষ্টা করব সুযোগটা কাজে লাগানোর। ইনশাল্লাহ ভালো কিছু হবে।”
