ইয়ামালকে দেখে র্যাশফোর্ডের মনে পড়ছে রোনালদোকে
এত কম বয়সেই ইয়ামালের এমন পারফরম্যান্স দেখে কেবল ব্রাজিলের রোনালদোর নামটিই এলো র্যাশফোর্ডের ভাবনার সীমানায়।
এক মাসও হয়নি বার্সেলোনায় নাম লিখিয়েছেন মার্কাস র্যাশফোর্ড। লামিনে ইয়ামালের সঙ্গে এখনও পুরো একটি ম্যাচও খেলেননি। তবে এখনই স্থির একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছে গেছেন ইংলিশ ফরোয়ার্ড। এই বয়সে এত ভালো কোনো ফুটবলারের সঙ্গে আগে কখনও তিনি খেলেননি বা কাউকে দেখেননি। ইয়ামালকে দেখে তার ভাবনার সীমানায় এলো কেবল ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদোর সেই শুরুর সময়টুকু।
গত ২৩ জুলাই ম্যানচেস্টার ইউনাটেড থেকে ধারে বার্সেলোনায় যোগ দেন র্যাশফোর্ড। নিবন্ধন নিয়ে প্রাথমিক জটিলতা কাটিয়ে কাতালান ক্লাবটির হয়ে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে তার অভিষেক হয় গত শনিবার লা লিগার ম্যাচে। রেয়াল মায়োর্কার বিপক্ষে ম্যাচের ৬৯তম মিনিটে মাঠে নামানো হয় তাকে। দলের ৩-০ গোলের জয়ে সেদিন একটি গোল করেন ইয়ামাল।
ইয়ামালকে কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা বলতে ওই ম্যাচের কিছু সময় আর কদিনের অনুশীলন। কিন্তু যা বোঝার বুঝে গেছেন র্যাশফোর্ড। কাতালান পত্রিকা স্পোর্তকে শোনালেন তার অভিজ্ঞতা।
“তার যে বয়স… আমি যতজনের সঙ্গে খেলেছি, এই বয়সীদের মধ্যে সবচেয়ে প্রতিভাবান ফুটবলার সে। এই বয়সে মাঠে যতটা প্রভাব সে রাখে, এমন কারও সঙ্গে আমি আগে খেলিনি বা দেখিনি। হয়তো রোনালদো নাজারিও ছিলেন…।”
“এত কম বয়সে মাঠে এতটা প্রভাব রাখা এবং এতটা ধারাবাহিকভাবে, এটা স্রেফ অবিশ্বাস্য। তার সামনে দীর্ঘ গৌরবময় ক্যারিয়ার পড়ে আছে। আশা করি, সে এটা ধরে রাখবে ও আরও উন্নতি করবে।”
মাত্রই গত মাসে ১৮ পূর্ণ হলো ইয়ামালের। এই বয়সেই তিনি বার্সেলোনার তো বটেই, বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের একজন। গত বছর স্পেনের ইউরো জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন। গত মৌসুমে বার্সেলোনার লা লিগা, কোপা দেল রে ও সুপার কাপ জয়ে তিনি পারফর্ম করেছেন অসাধারণ। এবার ব্যালন দ’র জয়ের লড়াইয়েও তিনি আছেন ভালোভাবেই।
এবার না হলেও সামনে এই পুরস্কার পাবেন ইয়ামাল, নিশ্চিত র্যাশফোর্ড।
“সে অবশ্যই জিততে পারে (ব্যালন দ’র)। এ বছর যদি নাও জিততে পারে, ভবিষ্যতে অবশ্যই জিতবে। দেম্বেলে, রাফিনিয়া, তাদের সবারই প্রাপ্য এটা। কোনো একজনকে বেছে নেওয়া কঠিন। তবে ওরা সবাই দুর্দান্ত মৌসুম কাটিয়েছে। লামিনের বয়স এত কম, সে অবশ্যই জিতবে ভবিষ্যতে।”
এই বয়সেই ইয়ামাল যতটা পরিণত, সেটিই সবচেয়ে বেশি অবাক করে র্যাশফার্ডকে।
“সে শীর্ষমানের প্রতিভা, দুর্দান্ত ফুটবলার। আমার কাছে সবচেয়ে যেটা বিস্ময়রকর লাগে, এই বয়সেই সে কতটা পরিণত, সে যেভাবে ভাবে ও খেলে…! বয়সকে ছাপিয়ে গেছে সে। তার সঙ্গে খেলাটা রোমাঞ্চকর।”
ইয়ামালকে নিয়ে তিনি মুগ্ধ হলেও তার সামনে চ্যালেঞ্জ নতুন ক্লাবে মুগ্ধতা ছড়ানো। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে অনেকটা ব্রাত্য হয়ে পড়ে গত মৌসুমে ধারে অ্যাস্টন ভিলায় যেতে হয়েছিল তাকে। এবার ধারেই এসেছেন বার্সেলোনায়।
নতুন চ্যালেঞ্জে মানিয়ে নিতে তিনি মরিয়া। মাঠের ফুটবলেই শেখার পথ ধরে নিজেকে প্রমাণ করতে চান ২৭ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড।
“আমি চেষ্টা করছি এই আবহে, দলের গতি ও ফুটবলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে। সেটা করার সেরা জায়গা হলো মাঠ। অবশ্যই ভুল করব। তবে ভুল থেকে শিখব ও উন্নতি করব। এখানে যে মানের ফুটবলাররা আছে, এটাও দারুণ সহায়ক। আমার জন্য শেখার সবচেয়ে ভালো জায়গা হলো মাঠ।”
