গিলের-ভিনিসিউসের গোলে রেয়াল মাদ্রিদের তিনে তিন
ঘুরে দাঁড়িয়ে মায়োর্কাকে হারিয়ে লা লিগায় শতভাগ জয়ের ধারা ধরে রাখল শাবি আলোন্সোর দল।
ম্যাচজুড়ে আক্রমণে দাপট দেখাল রেয়াল মাদ্রিদ। শুরুতে আচমকা গোল হজমের ধাক্কা সামলে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াল তারা। মায়োর্কাকে হারিয়ে লা লিগায় শতভাগ জয়ের ধারা ধরে রাখল শাবি আলোন্সোর দল।
সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে শনিবার রাতে ২-১ গোলে জিতেছে রেয়াল মাদ্রিদ।
ভেদাত মুরিকি মায়োর্কাকে এগিয়ে নেওয়ার পর সমতা ফেরান আর্দা গিলের। পরের মিনিটেই জয়সূচক গোলটি করেন ভিনিসিউস জুনিয়র।
আরও তিনবার জালে বল পাঠিয়েও রেয়াল গোল পায়নি অফসাইড আর হ্যান্ডবলের কারণে।
প্রথম তিন ম্যাচের সবকটি জিতে ৯ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে আছে রেয়াল। সমান ম্যাচে ১ পয়েন্ট নিয়ে ১৮ নম্বরে মায়োর্কা।
ম্যাচে ৫৮ শতাংশ সময় বল নিজেদের কাছে রেখে গোলের জন্য ১৭টি শট নিয়ে ৭টি লক্ষ্যে রাখতে পারে রেয়াল। খুব বেশি পিছিয়ে ছিল না মায়োর্কাও। সফরকারীদের ৯ শটের ৫টি লক্ষ্যে ছিল।
ঘরের মাঠে আক্রমণাত্মক শুরু করা রেয়াল গোলের জন্য প্রথম শট নিতে পারে চতুর্থ মিনিটে। কিন্তু বক্সের বাইরে থেকে উড়িয়ে মারেন ফরাসি মিডফিল্ডার অহেলিয়া চুয়ামেনি।
দুই মিনিট পর ট্রেন্ট অ্যালেকজ্যান্ডার-আর্নল্ডের দারুণ পাস ধরে বক্সে ঢুকে বল জালে পাঠান প্রথম দুই ম্যাচে তিন গোল করা কিলিয়ান এমবাপে। তবে ভিএআরের সাহায্যে অফসাইডের সংকেত দেন রেফারি।
খেলার ধারার বিপরীতে অষ্টাদশ মিনিটে পিছিয়ে পড়ে রেয়াল। কর্নারে বক্সে প্রতিপক্ষের তিন জনের মাঝ থেকে লাফিয়ে হেডের চেষ্টা করেন মায়োর্কার স্ট্রাইকার মুরিকি। বল তার পিঠে পড়ে জালে জড়ায়।
৩২তম মিনিটে অনেকটা দূর থেকে চুয়ামেনির শটে বল ধরতে গিয়ে তালগোল পাকাতে বসেছিলেন মায়োর্কা গোলরক্ষক। তার হাত ফসকে বেরিয়ে যায় বল, তবে বিপদ হওয়ার আগেই আবার নিয়ন্ত্রণে নেন তিনি।
প্রথম কুলিং ব্রেকের পর দ্রুতই ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেয় রেয়াল। পরপর দুই মিনিটে দুই গোল করে এগিয়ে যায় তারা।
ছোট করে নেওয়া কর্নারের পর আলভারো কারেরাস ক্রস করেন বক্সে। দূরের পোস্টে ডিন হাউসেনের হেড পাসে অন্য পাশে হেডেই বল জালে পাঠিয়ে সমতা ফেরান গিলের।
ভিনিসিউসের দলকে এগিয়ে নেওয়া গোলটি ছিল দারুণ। ফেদেরিকো ভালভের্দের পাস ধরে এগিয়ে যান তিনি। বক্সের সামনে ছিলেন প্রতিপক্ষের দুজন খেলোয়াড়। তাদের এড়াতে একটু বাঁ দিকে সরে গিয়ে বাঁ পায়ের শটে ঠিকানা খুঁজে নেন ব্রাজিলিয়ান তারকা।
৪৩তম মিনিটে বক্সে গিলেরের শট এক ডিফেন্ডার ঠেকানোর পর বল পেয়ে যান এমবাপে, কিন্তু কাছ থেকে বাইরে মারেন তিনি। একটু পর তিনি আরেকবার জালে বল পাঠিয়েও গোল পাননি অফসাইডের কারণে।
৫৫তম মিনিটে জালে বল পাঠিয়ে গোল পাননি গিলের। ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনোর শট মায়োর্কা গোলরক্ষক পা দিয়ে ঠেকানোর পর ক্লিয়ারের চেষ্টায় গিলেরের শরীর বরাবর মারেন এক ডিফেন্ডার। গিলেরের হাতে লেগে যাওয়া বল গোলরক্ষক ঠেকানোর পর শটে জালে পাঠান তরুণ এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। লম্বা সময় ভিএআরে পর্যালোচনার পর মনিটরে দেখে হ্যান্ডবলের সংকেত দেন রেফারি।
৬৬তম মিনিটে কারেরাসের দৃঢ়তায় দ্বিতীয় গোল হজম করা থেকে বেঁচে যায় রেয়াল। বক্সের ভেতর থেকে সামু কস্তার বুলেট গতির ভলি নিশ্চিত জালে জড়াতে যাচ্ছিল। পা বাড়িয়ে দারুণ নৈপুণ্যে গোল লাইন থেকে ক্লিয়ার করেন গত মাসে রেয়ালে যোগ দেওয়া স্প্যানিশ ডিফেন্ডার।
৭২তম মিনিটে একসঙ্গে তিনটি পরিবর্তন আনেন রেয়াল কোচ আলোন্সো। দুই গোলদাতা গিলের ও ভিনিসিউসের সঙ্গে অ্যালেকজ্যান্ডার-আর্নল্ডকে তুলে নেন তিনি। মাঠে নামানো হয় দানি সেবাইয়োস, রদ্রিগো ও দানি কার্ভাহালকে।
নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে আরেকটি সুযোগ পান এমবাপে। তবে বক্সে তার শট প্রতিহত করেন প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার। আসরে প্রথমবার কোনো ম্যাচে গোলহীন থাকলেন বিশ্বকাপ জয়ী তারকা।
