ফের্নান্দসের হ্যাটট্রিকে ইউনাইটেডের প্রথম জয়োল্লাস
দ্বিতীয়ার্ধে যে দাপট দেখাল ফের্নান্দস ও তার সতীর্থরা, তাতে দলটির দারুণ ভবিষ্যতের সম্ভাবনা জাগল।
এক নবাগত দলের বিপক্ষে হেরে মৌসুম শুরুর পর, আসরের আরেক নতুন দলের বিপক্ষে শুরুতে পিছিয়ে পড়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। জাগে শঙ্কাও। তবে বিরতির পর যে দাপট দেখাল তারা, তাতে মিলল দারুণ আগামীর সম্ভাবনা। ব্রুনো ফের্নান্দসের হ্যাটট্রিকে ইপ্সউইচ টাউনকে উড়িয়ে মৌসুমে জয় পেল মাইকেল ক্যারিকের দল।
ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে রোববার প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচটি ৫-২ গোলে জিতেছে ইউনাইটেড। তাদের আরেক গোলদাতা ব্রায়ান এমবুমো।
হাল সিটির বিপক্ষে গত সপ্তাহে ২-০ গোলে হেরেছিল ইউনাইটেড। কিছুক্ষণের জন্য তেমন শঙ্কা আবার জাগলেও, দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে দুর্ভাবনা উড়িয়ে দেয় গত আসরের তৃতীয় হওয়া দলটি।
প্রায় ৬০ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে গোলের জন্য ৩৩টি শট নিয়ে ১১টি লক্ষ্যে রাখতে পারে ইউনাইটেড। আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে ইপ্সউইচও, তাদের ৯ শটের পাঁচটি লক্ষ্যে ছিল।
দুই ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দশম স্থানে ইউনাইটেড। আর জয়ে আসর শুরু করা ইপ্সউইচ সমান ৩ পয়েন্ট নিয়ে আছে ১২ নম্বরে।
ম্যাচের প্রথম ভালো সুযোগটি তৈরি করে ইউনাইটেড। ধারে গত মৌসুমে বার্সেলোনায় খেলা রাশফোর্ড মূল দলে ফিরে এদিন প্রথম শুরুর একাদশে নামেন। তার গোলমুখে বাড়ানো ক্রস রক্ষণে প্রতিহত হওয়ার পর, আরেক সতীর্থের পা ঘুরে পেয়ে যান দিয়োগো দালোত। একজনকে কাটিয়ে দারুণ শট নেন তিনি, কোনোমতে এক হাতে ক্রসবারের ওপর দিয়ে বল বাইরে পাঠান গোলরক্ষক।
পাল্টা আক্রমণে দুই মিনিট পর অন্যপাশে ভীতি ছড়ায় ইপ্সউইচ টাউন। গতিতে দুই ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলে ডি-বক্সে ঢুকে গোলরক্ষককে এক পেয়ে যান হুলিও এনসিসো, ওয়ান-অন-ওয়ানে দারুণ সেভে জাল অক্ষত রাখেন সানা লমেন্স।
কিছুক্ষণ পর আবার এই বেলজিয়ান গোলরক্ষকের নৈপুণ্যে বেঁচে যায় ইউনাইটেড। জাপানিজ উইঙ্গার দেইজান মায়েদা এর জোরাল শট ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন লমেন্স।
তবে ২৯তম মিনিটে আর দলের পিছিয়ে পড়া আটকাতে পারেননি তিনি। ডান দিক থেকে সতীর্থের পাস পেনাল্টি স্পটের কাছে পেয়ে দারুণ প্রথম ছোঁয়ার শটে ইপ্সউইচকে এগিয়ে দেন লিফ ডেভিস।
কিছুক্ষণ পর আবার বিপতে পড়তে বসে ইউনাইটেড। তবে এবার ইংলিশ লেফট-ব্যাক ডেভিসের কাছ থেকে নেওয়া শট শেষ মুহূর্তে ঠেকিয়ে দেন লমেন্স, বল পাঠান ক্রসবারের ওপর দিয়ে।
প্রতিপক্ষের ছোট্ট এক ভুলের সুযোগে আক্রমণে উঠে ৪০তম মিনিটে সমতা টানে ইউনাইটেড। ইপ্সউইচ ডিফেন্ডার মার্সেলিনো নুনেস পিছলে পড়ে গেলে বল ধরে একটু আগে ফের্নান্দসকে থ্রু পাস দেন মাথেউস কুইয়া। আর দ্রুত এগিয়ে প্রথম ছোঁয়ায় বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে দ্বিতীয় ছোঁয়ায় শটে সমতা টানেন পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড।
দ্বিতীয়ার্ধের অষ্টম মিনিটে সুবর্ণ সুযোগ হারান ব্রায়ান এমবুমো। রাশফোর্ডেন দুর্দান্ত ভলি গোলমুখে ফাঁকায় পেয়েও অবিশ্বাস্যভাবে ক্রসবারে মারেন ক্যামেরুনের ফরোয়ার্ড।
তিন মিনিট পরেই অবশ্য কিছুটা সৌভাগ্যসূচক গোলে এগিয়ে যায় ইউনাইটেড। হ্যারি ম্যাগুইয়ারের শট প্রতিপক্ষের একজনের পায়ে লেগে দিক পাল্টে বল জালে জড়ায়।
৫৯তম মিনিটে আবার আক্রমণ শাণায় ইউনাইটেড এবং দ্রুত ডি-বক্সে ঢুকে পড়া মাথেউস কুইয়া পেছন থেকে ফাউলের শিকার হওয়ায় পেনাল্টি পায় তারা। সফল স্পট কিকে ব্যবধান বাড়ান ফের্নান্দস।
আর ৬৮তম মিনিটে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন ইউনাইটেড অধিনায়ক এবং ম্যাচের ফলও একরকম নিশ্চিত হয়ে যায়। এমবুমোর শট প্রতিপক্ষের একজনের পায়ে প্রতিহত হলেও, বল চলে যায় ফাঁকায় ফের্নান্দসের পায়ে। ঠান্ডা মাথায় প্রথম ছোঁয়ায় বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আলতো শটে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি।
ম্যাচের শেষদিকে মূষলধারে বৃষ্টি নামে। তাতে খেলার স্বাভাবিক গতি কিছুটা ব্যহত হলেও গোল উৎসব থামেনি।
৮২তম মিনিটে নিজেদের সীমানা থেকে হাওয়ায় ভাসিয়ে থ্রু বল বাড়ান ফের্নান্দস, প্রতিপক্ষের সবাইকে পেছনে ফেলে ছুটে যান এমবুমো, গোলরক্ষক ডি-বক্সের বাইরে বেরিয়ে আসায় তার ওপর দিয়ে শট নেন তিনি এবং বল ক্রসবারের ভেতরের দিকে লেগে বাইরে এক ড্রপ খেয়ে ভেতরে ঢুকে যায়।
যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে পাল্টা আক্রমণে ব্যবধান কমান সফরকারীদের ফরোয়ার্ড চুবা আকপম।
